বুধবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বুধবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারে ৭১’র রণাঙ্গণে মাঠ কাঁপানো অসহায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কান্না

বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১
109 ভিউ
কক্সবাজারে ৭১’র রণাঙ্গণে মাঠ কাঁপানো অসহায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কান্না

বিশেষ প্রতিবেদক :: একাত্তরের রণাঙ্গণের মাঠ কাঁপানো বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন।মহেশখালী উপজেলা কমান্ড এর সদ্য সাবেক কমান্ডার। বয়স ৭০ ছুঁই ছুঁই। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হলে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানী সেনাসহ রাজাকারদের বিরুদ্ধে মহেশখালীতে মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরে যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু জীবনের এই পড়ন্তবেলায় সেই রাজাকার বংশধরদের হামলার ভয়ে মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন ও তার পুরো পরিবার আজ গ্রাম ছাড়া ।  নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসন, পুলিশ,রাজনৈতিক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন । কিন্তু কারও কাছ থেকে কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন বলেন, মহেশখালী পৌর মেয়র এর বিরুদ্ধে চিংড়ি ঘের দখল ও ডাকাতি লুটপাটের মামলা করায় মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন ও তার পুরো পরিবারকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং খুন জখমের হুমকি দিচ্ছে। এখন আমি পরিবার ও সন্তানদেরকে নিয়ে নিরাপদে বাঁচতে চাই। বর্তমানে ঐ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পালিয়ে কক্সবাজার শহরে এসে আশ্রয় নিয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন কক্সবাজারের জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কর্মকর্তারাও। তারা বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন এ মতো একজন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যাল এর রাষ্ট্র পক্ষের ৬৪নং স্বাক্ষীর যখন নিরাপত্তা নেই,সেখানে অন্যরা কেমন আছে মহেশখালীতে। স্বাধিনতার ৫০ বছন পরও মহেশখালীতে রাজাকার পুত্রের অঘোষিত রাজার শোষণ নির্যাতন থেকে এই দাম্ভিক্কের প্রতিকার চান তারা।

জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মহেশখালী পৌর মেয়র মকসুদ মিয়ার নির্দেশে ৩০/৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আমজাদ হোসেন ও তার পরিবারের মালিকানাধীন ৬৭ একর বিশিষ্ট একটি চিংড়ি ঘের দখল করে নেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা চিংড়ি ঘেরের পরিচালক এবং কর্মচারীদের কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তারা চিংড়ি ঘেরের কয়েক লাখ টাকার চিংড়ি মাছ লবন ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আদালতে মেয়র মকসুদ মিয়াসহ তার লোকজনদের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে মহেশখালী থানার পুলিশ গত ২৫ অক্টোবর মামলা নথিভুক্ত করে।

মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পর পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া ও তার ভাড়াটিয়া চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে আসছে বলে জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন। এ কারণে নিজের প্রাণভূমি মহেশখালী ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছন।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন অভিযোগ করেন,কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী ট্রাইবুনালে দায়ের করা একমাত্র মামলার এক নম্বর আসামি মৌলানা জাকারিয়া পরিবারের সন্তান ও স্বীকৃত রাজাকার হাসেম সিকদারের ছেলে মেয়র মকসুদ মিয়া এখন জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য। প্রভাবশালী পরিবার হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন ও তার পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মকসুদ মিয়াপ্রতিনিয়ত এলাকায় ভুমিদস্যু দখলবাজ, ইয়াবাকারবারি ও কালো টাকার মালিক।১৯৯০ সালে গোরকঘাটা পুরাতন জেটি ঘাট থেকে চট্টগ্রামের রহমত সওদাগরের কার্গো ট্রলার থেকে আমার মালিকানাধীন শুটকি মাছ ডাকাতি করে। উক্ত মামলায় মকছুদ মিয়া ১নং আসামী। পরবর্তী ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম চ্যানেল থেকে বরিশালের একটি বড় কার্গো ট্রলার মুদির মালামাল ভর্তি ট্রলারটি ডাকাতি করে ৪টি ফিশিং ট্রলারে মহেশখালী চ্যানেলে নিয়ে আসার সময় পুলিশের হাতে ধৃত উদ্ধার হয় এ ঘটনার মামলায় ১নং আসামী মকছুদ মিয়া।

২০০৭ সালে এখন সংঘঠিত চিংড়ি প্রজেক্ট ডাকাতির ঘটনায় দায়েরকৃত জি.আর ৪৩/০৭ মামলার চার্জসীটভূক্ত ১নং আসামী। মহেশখালীর সরকারি প্যারাবন কাটার ঘটনায় বন বিভাগের দায়ের করা ২৭২নং মামলার চার্জসিটভূক্ত ওয়ারেন্ট প্রাপ্ত আসামী মকছুদ মিয়া।মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর সাংবাদিক ছালামত উল্লাহকে নিজ হাতে পূঙ্গাত্ব করার মত ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১নং আসামী।

মকছুদ মিয়ার পুত্র ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে ২ লক্ষ ৭ হাজার ইয়াবাসহ র‌্যাব এর হাতে ধৃত। পরবর্তীতে মেয়র মকছুদ মিয়ার বাড়ী থেকে ৮ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীসহ পুলিশ একটি কার গাড়ী উদ্ধার করে।

২০১৬ সালে পৌর নির্বাচনে ভোট ডাকাতির সময় গুলি করে রিকসা শ্রমিক আব্দুস শুক্কুরকে হত্যা করে। এই হত্যা মামলায় মকছুদ মিয়ার সন্তান, তার ভাই, ভাগিনা, ভাইপোগণ বর্তমানও ওয়ারেন্টপ্রাপ্ত আসামী। এছাড়াও মহেশখালী থানায় মকছুদ মিয়ার নামে থানায় ও কোটে একাধিক জিড়ি রয়েছে।

২০২১ সালের ১লা জুন মকছুদ মিয়া দক্ষিণ হিন্দু পাড়ার রায় মোহন কর্মকারের ছেলে-সন্তান স্কুল শিক্ষক প্রবীর ও সমীরসহ তাদের পরিবার পরিজনকে তাদের বসতবাড়ী দখল করতে এলাকা ছাড়া করে। ঐ শিক্ষকগণ কক্সবাজারে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনায় কক্সবাজার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সনাতন ধম্বালম্বীদের বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাদের চাপের মুখে প্রশাসনের সহায়তায় তাদের ঘর বাড়ি ফিরে পায়।

মকছুদ মিয়া নিজ হাতে মহেশখালী ইসলামী ব্যাংক ভবনের মালিক আমির হোসেন (মনু বহদ্দার) মার্কেটের দোকান, দক্ষিণ হিন্দুপাড়া রাজীব এর দোকান, গোরকঘাটা বাজারের মসজিদের পেছনে ডাক্তার নেছারের দোকান, মসজিদের গেইটে মুদির দোকানসহ অসংখ্যা নিরহ মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজ হাতে তালা ঝুলিয়ে বন্ধ করে দেয়। ঐ সকল দোকানদার এখন বাজার ছেড়ে পলাতক।

এছাড়া মহেশখালী জেটি ঘাটে স্পীড ব্যবসার আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে আপন চাচাত বোনের মালিকানাধীন ১০টি স্পীড বোট ইঞ্জিনসহ ডাকাতি করে জব্দ রাখে। পরবর্তীতে মামলা হইলে আদালত মালিকানা যাচাই করে আদালত কর্তৃক প্রকৃত মালিককে হস্তান্তরের নির্দেশ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উক্ত স্পীড বোট গুলি মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামীগণের চাপের মুখে পুলিশের সাথে দস্তাদস্তি হয়।পরে পুলিশ ব্যর্থ হয়ে ফেরত আসে।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন আরও অভিযোগ করেন, আমি ভিন্ন একটি বিষয় শেয়ার করতে চাই।যেটি কক্সবাজারের সমস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য লজ্জার বিষয়। আমার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিবিএ, এমবিএ পাশ করে ৩৮ তম বিসিএসএ পুলিশ ক্যাডার-এ সুপারিশ প্রাপ্ত হয়। যা মহেশখালী উপজেলা তথা সমগ্র কক্সবাজারবাসীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি সুসংবাদ।

কিন্তু সেই সুসংবাদ নিয়ে গর্ব করার তো দুরের কথা বরং লজ্জায় পড়ে গেছি। যখন দেখলাম কিছু স্বার্থন্বেষী মহল লোকের যোগসাজসে তার পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে তৈরী করে তাকে গেজেট বঞ্চিত করা হয়। মূল কথা তারা এলাকার ভাল চায় না এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উন্নতি ও সম্মান সহ্য করতে পারে না।

প্রকৃত পক্ষে মকছুদ মিয়া গংরা আওয়ামী লীগের ঘাপটি মেরে থাকা এক একটি খন্দকার মোস্তাক। যারা সুযোগ ফেলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বীকার করে। আমার এক ছেলে চাকুরী হারিয়েছে, আমার অন্যান্য সন্তানগণও উচ্চ শিক্ষা শিক্ষিত তাদের চাকুরী ও ভবিষ্যত কর্মসংস্থান নিয়ে আমি সংকিত ও উদ্বিগ্ন।এ থেকে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চকরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজি বসিরুল আলম, কক্সবাজার জেলার সাবেক সহকারী কমান্ডার মাসুূদ কুতুবী ও আলতাফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আবুল কাশেম, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ।

 

109 ভিউ

Posted ৬:৩৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com