মঙ্গলবার ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে দুই ট্রাস্টি বোর্ড‘র টানাটানি !

রবিবার, ১৪ মার্চ ২০২১
537 ভিউ
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে দুই ট্রাস্টি বোর্ড‘র টানাটানি !

কক্সবাংলা ডেস্ক :: কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড থাকার আইন রয়েছে। সে অনুযায়ী ২০১৩ সালে ১০ সদস্যবিশিষ্ট কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের অনুকূলে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে গত বছর থেকে বিভাজন তৈরি হয় ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের মধ্যে, যার ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নামে দুটি ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচয় দেয়া হচ্ছে। দুই পক্ষের সদস্যরাই নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল উদ্যোক্তা ও ট্রাস্টি বলে দাবি করছেন। যদিও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ট্রাস্টি বোর্ড থাকার সুযোগ নেই।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের প্রথম শর্তই হলো অনধিক ২১ ও অন্যূন নয় সদস্যের একটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) গঠন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ১৫ ধারায় বিওটি বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ থাকবে এবং ওই বোর্ডের মধ্য থেকে একজন সদস্য বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি নির্বাচিত হইবেন।

আইনের এ ধারা অনুযায়ী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিওটি গঠনের সুযোগ নেই। যদিও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিওটি হিসেবে পরিচয় দেয়া দুটি পক্ষই নিজেদের বোর্ডকে আসল দাবি করে বিপক্ষের ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত ট্রাস্টকে অবৈধ বলছে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ১০ সদস্যবিশিষ্ট কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের অনুকূলে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন বিওটির চেয়ারম্যান ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। আর সেক্রেটারি ছিলেন লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান। বাকি আট সদস্যের সবাই বিওটি সেক্রেটারির স্ত্রী, ভাই, ভাতিজা ও শ্যালকসহ নিকটাত্মীয়। এজন্য মূলত বিওটি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ ও সেক্রেটারি লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান—এ দুই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হতো সিবিআইইউ।

আধিপত্যকে কেন্দ্র করে গত বছর বিওটি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ ও সেক্রেটারি লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। দ্বন্দ্বের জেরে গত বছর বিওটির সভা করে সালাহউদ্দিন আহমদকে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও ছেলেকেও ট্রাস্ট থেকে বের করে দেয়া হয়। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ সেক্রেটারি লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠাকালীন সব সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন একটি ট্রাস্ট গঠন করেছেন। বর্তমানে দুটি ট্রাস্ট আলাদাভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামত নেয়া বাধ্যতামূলক। যদিও সালাহউদ্দিন আহমদ তার স্ত্রী ও বিদেশে অবস্থানরত ছেলেকে নিয়ে তথাকথিত সভা করার কথা বলে প্রতিষ্ঠাকালীন সব সদস্যকে বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছেন। এসব অবৈধ দখলদারিত্ব আদালতের নজরে আনা হলে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা জারি করা হয়েছে। আমরা চাই, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রমের অবস্থাও খুবই নাজুক। এক-দুজন শিক্ষক দিয়েই চালানো হচ্ছে বিভিন্ন বিভাগ। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া ব্যক্তিদের যোগ্যতা নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া যে ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে, সেখানেও শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশ নেই। বাইরে থেকে ভবনটির দিকে তাকালে বিভিন্ন পরিবহনের নামের ভিড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়ে। পর্যটক, যাত্রী ও পরিবহনের কারণে ভবনটির সামনে দিনভর লেগে থাকে বিশৃঙ্খলা। শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশ না থাকলেও প্রতি সেমিস্টারে শত শত শিক্ষার্থী ভর্তি করাচ্ছে সিবিআইইউ।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনে যায় ইউজিসির একটি কমিটি। ওই কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা সেখানে গিয়ে শিক্ষার কোনো পরিবেশ দেখতে পাইনি। একাডেমিক, প্রশাসনিক কিংবা আর্থিক—কোথাও কোনো শৃঙ্খলা নেই। যাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশই শিক্ষকতার জন্য যোগ্যই না।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টের সংখ্যাও একটিই হবে। যে কেউই নিজেকে ট্রাস্টি দাবি করার কোনো সুযোগ নেই। সোসাইটিজ অ্যাক্ট অনুযায়ী রেজিস্টার্ড ছাড়া অন্য কোনো ট্রাস্টকে স্বীকৃতি দেয়া হয় না। আর ট্রাস্টিদের দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ ব্যক্তিস্বার্থ। তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। অথচ তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থরক্ষায় কাজ করার কথা।

537 ভিউ

Posted ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৪ মার্চ ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com