মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে একাধিক স্থানে অবরোধ করেছে সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন ছাত্র প্রতিনিধিরা।
পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় পৌরশহরে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এছাড়াও পাশ^কর্তী চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া, সাতকানিয়াতেও এই কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে চলছে মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচী।
দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের আশ^াসে স্থগিত করা হয়েছে ব্লকেড কর্মসূচী। এরপর থেকে স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচল।
এর আগে সকালের দিকে ইউএনও ব্লকেড কর্মসূচী স্থগিত করার অনুরোধ জানালেও আন্দোলনকারীরা কর্মসূচী প্রত্যাহার করেনি।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চকরিয়া মাতামুহুরী ব্রীজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রীজের উপর অবস্থান নিয়ে ছয় লেনের দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন অবরোধকারীরা।
এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ এলাকা যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার কেরানিহাট ও লোহাগাড়া এলাকায়ও মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে বিভিন্ন সংগঠন ও আন্দোলনকারীরা।
যার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মাতামুহুরী ব্রীজ এলাকায় অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশের একটি দল তাদের সরে যেতে অনুরোধ করলেও দাবি পূরণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সরবেন না বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
পরে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আতিকুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা তা মানতে নারাজ।
আন্দোলনকারীদের ইব্রাহিম ফারুক ছিদ্দিকী বলেন, বিকেল চারটা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত ছিলো।
কিন্তু প্রশাসনের আশ^াসে আমরা ব্লকেড কর্মসূচী আপাতত স্থগিত করেছি। তবে, এই সরকারের সময় আমরা ছয় লেন সড়কের কাজ শুরু দেখতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসনকে আগামী এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি। এই এক সপ্তাহের মধ্যে ছয় লেনে মহাসড়কটি উন্নীত করনের কোন উদ্যেঠস না নিলে আগামী ২০ ডিসেম্বর আবার ব্লকেড কর্মসূচী দেয়া হবে।
মহাসড়ক ছয় লেনের দাবিতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন অরোধকারীরা। এসময় তারা নানা স্লোগান দিয়েছেন। চকরিয়া উপজেলার পৌরশহরের মাতামুহুরী ব্রীজ এলাকায় একই দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলো অরোধকারীরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চকরিয়ার অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক সায়েদ হাসানও বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং বান্দরবান অঞ্চলের কোটি মানুষের যোগাযোগের প্রধান পথ এই মহাসড়ক। এটি মাত্র দুই লেনের হওয়ায় প্রায় সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। মহাসড়কটি দ্রুত ছয় লেন করার উদ্যোগ নিতে হবে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই আন্দোলন সম্পর্কে অবহিত করি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবির প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করবেন বলে জানান উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এই আশ^াসের পরে আন্দোলনকারীরা তাদের ‘ব্লকেডের কর্মসূচী স্থগিত করেছেন।
এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চকরিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।













