মঙ্গলবার ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজার থেকে এপ্রিল মাসে শুরু হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১
666 ভিউ
কক্সবাজার থেকে এপ্রিল মাসে শুরু হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম রাখাইন অঞ্চলে দেশটির সেনাবাহিনী, স্থানীয় বৌদ্ধ ও অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর নৃশংস গণহত্যা-নির্যাতনের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চল কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ এসব শরণার্থীদের আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে আসা রোহিঙ্গারা ছাড়াও ২০১৬ সালে আরও ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন, এবং একই কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা আরও প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা দশকের পর দশক ধরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থান করছে।

সমস্যা শুরুর পর থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যত উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। ২০১৭ সালের আগস্টে মানবাধিকারের জন্য সুপরিচিত পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ এক এক করে তাদের সব দরজা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বন্ধ করে দিচ্ছিল। ঠিক তখন মিয়ানমারে নিপীড়িত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে এ দেশে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ও টেকনাফ এখন কার্যত বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়শিবির। সীমিত সামর্থ্য, বিশাল জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আবারও নিজেকে অন্য অনেক পশ্চিমা দেশের চেয়ে মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করেছে।পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের অবস্থানকে মানবিক এবং সহনীয় করার জন্য কাজ করতে আগ্রহী কয়েক শ বিদেশি সংস্থাকে ক্যাম্পগুলোতে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।

মিয়ানমারে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস শুধু ২০১৬ বা ২০১৭ সালের নয়, নিপীড়িতদের আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস বাংলাদেশের বেশ পুরনো। তবে ২০১৭ সালে মাত্র তিন মাসের মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। প্রবল ঝুঁকি জেনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের মানুষ যুগ যুগ ধরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিপদে আশ্রয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ যেমন মানবিক ও আশ্রয়দাতা রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পেয়েছেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ (মানবতার মা) পরিচিতি।

কক্সবাজারে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে শুধু আশ্রয়ই নয়, তাদের মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য নোয়াখালীর ভাসানচরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার বরাবরই বলছে, প্রত্যাবাসন শুরু করতে তারা প্রস্তুত। বাংলাদেশও চায় রোহিঙ্গারা ফিরে যাক।কারণ কারণ ১৯৭৮ এবং ১৯৯২ সালে নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়েছিল মিয়ানমার।যার ফলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর প্রত্যাবাসন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।২০১৮ সালের ১৬ জানুায়ারি “ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট” সম্পর্কিত একটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করে ঢাকা-নেপিদো, যা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু আন্তজাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের চাপের কারণে ২০১৮ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৯ সালের আগস্টে দুবার প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। আর করোনা মহামারির কারণে প্রায় ৮ মাস প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেই সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে ভাসানচরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সফল স্থানন্তরের পর বাংলাদেশ সরকার প্রত্যাবাসন নিয়ে বেশ আশাবাদি হয়ে উঠেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার মিয়ানমার ও চীনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছেন চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক এপ্রিল থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে।

বৈঠকে নেওয়া ছয়টি সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি জানান,

১. আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

২. এরপরে এই তিন দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠক হবে।

৩. আর এ বছর মার্চ মাস নাগাদ হবে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক।

৪. এসব বৈঠকের পর আবারও মিয়ানমার প্রতিনিধিদল আসবে বাংলাদেশে, তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে।

৫. এরপর বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রাম বা অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কথা রয়েছে। তবে মিয়ানমার বলছে, যে ৪২ হাজার রোহিঙ্গা তারা চিহ্নিত করেছেন, তাদের দিয়ে প্রত্যাবসান কার্যক্রম শুরু করা হবে। আগামী বৈঠকগুলোতে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

৬. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে- বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আমরা প্রথম প্রান্তিকে প্রত্যাবাসন শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু, ব্যবস্থাপনার জন্য আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। তাই আমরা দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাবাসনের কথা বলেছি। তারা এতে সম্মত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সময় রাখাইনে আন্তর্জাতিক সংস্থার উপস্থিতি বিষয়ক প্রস্তাবে চীন ও মিয়ানমার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।’

ভার্চুয়াল ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গাদের গ্রাম-ভিত্তিক প্রত্যাবাসনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে, মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসকারী প্রায় আট লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে ইতোমধ্যে যাচাই করা ৪২ হাজার জনকে দিয়ে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা বলা হয়েছে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমরা গ্রামভিত্তিক প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। কারণ, এতে নিজেদের গ্রামের বা এলাকার সবাই একসঙ্গে গেলে আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বোধ করবে।’

রোহিঙ্গারা যেন মিয়ানমারের আইন-কানুন মেনে চলে, বৈঠকে এ বিষয়ে আশ্বাস চায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তারা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা এআরএসএ-এর উপস্থিতির বিষয়টিও উল্লেখ করে।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আমরা বলেছি, আমাদের দেশে কোনো সন্ত্রাসীর আশ্রয় নেই। কিছু অপরাধী থাকলেও, তাদের কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় নেই।’

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সফরকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বেইজিংয়ের মনোভাবের বড় পরিবর্তনের কথা জানিয়ে গেছেন। সফরের সময় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছে, তারা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরুতে আগ্রহী। ফলে মিয়ানমারের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে শুধু আন্তর্জাতিক চাপ নয়, বিশেষভাবে চীনের চাপও বেড়েছে। চীনের চাপ বাড়ানোর আরও বড় কারণ হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যু নিয়ে বেইজিংও আন্তর্জাতিক মহলে ‘ভাবমূর্তি’ সংকটে পড়েছে।

উল্লেখ্য ২০১৭ সালে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম রাখাইন অঞ্চলে দেশটির সেনাবাহিনী, স্থানীয় বৌদ্ধ ও অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর নৃশংস গণহত্যা-নির্যাতনের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে শত শত রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়।পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর এবং ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট—এই দুইবার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ রোহিঙ্গা ঢলের তিন বছর কেটে গেছে, কিন্তু কেউ জানে না তারা কবে তাদের নিজের দেশ মিয়ানমার ও শহর রাখাইনে ফিরে যেতে পারবে।অন্যদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ভাষ্য, রোহিঙ্গা জনগণের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের পক্ষে সহায়ক হয় এমন পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য সামগ্রিকভাবে সমাজ এবং সকলেরই জড়িত হওয়া দরকার।

666 ভিউ

Posted ৭:১০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com