
সাইফুল ইসলাম(১৩ আগস্ট) :: কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় সরকারী পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অনুমতি বিহীন অসংখ্যা বহুতল ভবন নিমার্ণ হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকলেও কোনভাবেই থামছে না এসব পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের কাজ।
অনেকেই আবার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করায় অল্প বৃষ্টি হলেও পাহাড় ধসে মৃত্যুর মিছিলের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
তাছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণের প্রচলিত আইন মোতাবেক এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর কারণে একদিকে যেমন পর্যটন নগরী হিসেবে পরিবেশ সৌন্দর্যহীন হয়ে পড়ছে অন্যদিকে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী অনেক পরিবার।
জানা যায়, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া বহুতল ভবন নির্মাণ কক্সবাজারের ঐতিহ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ দাড়াঁচ্ছে। যারা পাহাড় কেটে ও সরকারী জায়গায় অনুমতি বিহীন ভবণ নিমার্ণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তর পক্ষ থেকে অতিশীঘ্রই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।
সরেজমিন জানা যায়, শহরের দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লির বিভিন্ন অলিগলিতে,ঘোনারপাড়া, লাহারপাড়া, চন্দ্রিমায়, পাহাড়তলীসহ কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালের দক্ষিণ পশ্চিম এলাকায় লারপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গা বহুতল ভবণের নিমার্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অনুমতি বিহীন বহুতল ভবনের কাজ।
এদিকে বাসটার্র্মিনাল সংলগ্ন ঝিলংজার পশ্চিম লারপাড়ায় পাহাড় কেটে অনুমতি বিহীন ভবণ নিমার্ণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উখিয়ার ইয়াবা হাসান, ঈদগাঁও এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ আজিজ ও দিল মোহাম্মদসহ তিন জনেই পৃথকভাবে ভবন নিমার্ণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একইভাবে দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীর আবদুল মালেক-সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অনুমতি ছাড়া বহুতল ভবন নিমার্ণের মহোৎসবে মেতেছেন অসংখ্য পাহাড় খেকো।
এ বিষয়ে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
যারা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া বহুতল ভবণ নিমার্ণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি যারা পাহাড় কাটাছে এবং পাহাড় কাটার সাথে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও।

Posted ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta