বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াত সেক্রেটারী জিএম রহিমুল্লাহর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
298 ভিউ
কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াত সেক্রেটারী জিএম রহিমুল্লাহর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি(২১ নভেম্বর) :: কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী জিএম রহিমুল্লাহর প্রথম নামাজে জানাযা বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইমামতি করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষনেতা মাওলানা আবদুল হালিম। জননেতা জিএম রহিমুল্লাহর জানাযাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার আদরের ভাই জিএম রহিমুল্লাহর মৃত্যুর সংবাদ বিশ্বাস হয়নি। কিভাবে তিনি এত অল্প সময়ে চলে যাবেন ভাবিনি। তিনি বলেন, আপনাদের জিএম রহিমুল্লাহ ছিলেন ছোট মানুষ। হয়ে গেলেন জাতীয় নেতা। তিনি কক্সবাজারবাসীর গৌরব ছিলেন। তার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ কম মেলে।

জামায়াত নেতার জানাযায় দল মত নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ অংশ গ্রহণ করে। জানাযার নির্ধারিত স্থান কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ হলে তা দশটার আগেই কানায়-কানায় পূর্ন হয়ে যায়। পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিন স্টেডিয়াম, পৌর-প্রিপ্যারেটরী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, আশপাশের সড়ক উপসড়কে শোকাহত জনতা উপস্থিত হয়ে যে যেখানে জায়গা পান সেখান থেকে জানাযার নামাজে অংশ নেয়। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-৩(সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। তিনি বলেন, আজকে মহানবীর জন্মদিন। এমন দিতে জিএম রহিমুল্লাহর জানাযা হচ্ছে। ভাবতে পারিনি তিনি এত কম সময়ে বিদায় নিবেন। তিনি বলেন, ‘তিনি সকল শ্রেণীর মানুষকে সন্তুষ্ট রেখে রাজনীতি করতেন। মানুষের যে কোন বিপদে ছুটে যেতেন।

বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর ও কক্সবাজার জেলার সাবেক আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, তার ঘরে অনেক সময় চাল থাকতো না। আমাদের চাল কিনে দিতে হতো। তার মতো নির্লোভ মানুষ হয় না। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান হলেও চাল-চলন ছিল সাধারণ মানুষের মতো।

বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, জিএম রহিমুল্লাহ আমার বন্ধু। তার সাথে আমার রাজনৈতিক বিরোধ ছিল, তা ঠিক। কিন্তু তার মতো সাহসী বলিষ্ঠ নেতা আমি আর দেখিনি। ২৪ ঘন্টাই রাজনীতি, সমাজসেবা ছিল তার কাজ।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের লে.কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, আমি দায়িত্ব পালনের কারণে জিএম রহিমুল্লাহকে কাছ থেকে দেখেছি। প্রায় সময় আমার পরামর্শ নিতেন। খুবই কর্মঠ জনপ্রতিনিধি ছিলেন। জনগণের সেবার মানসিকতা লালন করতেন। একটি রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও তার মাঝে প্রভাব ছিলনা। তার মধ্যে কোন বদনামিমূলক কাজ দেখিনি। শুনিনি।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, আমি জিএম রহিমুল্লাহর সাথে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। তিনি অত্যন্ত ভাল মানুষ ছিলেন।

আরো বক্তব্য রাখেন- জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, নায়েবে আমীর ঝিলংজা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল গফুর, টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান জেলা জামায়াতের নাযেবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, শিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র আন্দোলন

বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদ হোসেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান, অধ্যক্ষ নুর হোসেন সিদ্দিকী, কুমিল্লা ভিকটোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর সাইদুল আলম, ইসলামী ঐক্যজোটের কক্সবাজার জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা সালামত উল্লাহ, রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা জামায়াতের আমীর ফজলুল্লাহ মো হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর কাশেম, কক্সবাজার সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এড সলিম উল্লাহ বাহাদুর, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল আলম বাহাদুর, জেলা শিবির সভাপতি হেদায়েত উল্লাহ, জেলা শিবির সভাপতি রবিউল আলম, শহর সভাপতি রিদুয়ানুল হক জিসান প্রমুখ।

প্রশাসের পক্ষ থেকে জানাযায় অংশ গ্রহণ করে বক্তব্য দেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচ এম মাহমুদুর রহমান। পরিবাবের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জাহিদ ইফতেখার। সভা পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম বাহাদুর, শহর জামায়াতের সেক্রেটারী আবদুল্লাহ আল ফারুক।

মরহুম জিএম রহিমুল্লাহর দ্বিতীয় জানাজা সদর উপজেলার ভারুয়াখালীর দারুল উলুম মাদরাসা সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট উম্মুক্ত মাঠে সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের পাহাড়ের চুড়া, বাসাবাড়ির আঙ্গিনা, পথে-ঘাটে লোকজন অবস্থান নেয়। দুপুর ১২র্টার দিকে জিএম রহিমুল্লাহর লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স নিজ এলাকা ভারুয়াখালি পৌঁছলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সবার প্রিয় জিএম রহিমুল্লাহকে একনজর দেখতে ছুটে আসে শিশু-কিশোর আবাল বৃদ্ধবনিতা। এ সময় অঝোর নয়নে অসংখ্য মানুষকে কাঁদতে দেখা গেছে। পাহাড়ের চূড়া বা বাড়ির আঙ্গিনা থেকে উকি মেরে দেখেন মা-বোনেরা।

বেলা ২ টা বেজে ৪০ মিনিটের দিকে মরহুমের নামাজে জানাজা আদায় করা হয়। ইমামতি করেন ভারুখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল বশর। জানাজা শেষে জিএম রহিমুল্লাহকে তার বাড়ির পাশে তার প্রতিষ্ঠিত মসজিদ ও মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ভারুয়াখালীতে ২য় জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জাফর সাদেক, বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মাওলানা জহিরুল ইসলাম, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শেফায়েত আজিজ রাজু, হোয়াইক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট সলিম উল্লাহ বাহাদুর, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, সাবেক ছাত্রনেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর কাশেম, ভারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান সিকদার, মাওলানা আবদুর রহিম প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন এডভোকেট নেজামুল হক।

জামায়াত নেতা জিএম রহিমুল্লাহ (৫৪) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) কক্সবাজার শহরের হোটেল সাগরগাঁওতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগের রাতে তিনি হোটেলের চতুর্থ তলার ৩১৬ নম্বর কক্ষে একাই ঘুমান। দুপুর পর্যন্ত ঘুম থেকে না ওঠায় তাকে ডাকতে যায় হোটেলের এক বয় ছেলে। এরপর ডাকতে যায় হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জিএম রহিমুল্লাহর শ্যালক শাহেদুল ইসলাম। তিনিও গিয়ে প্রথমে দরজা ধাক্কা দেন। কোনো সাড়া-শব্দ পাননি। পরে ভ্যান্টিলেটর দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন- জিএম রহিম উল্লাহ উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে আছেন। ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখেন তিনি মারা গেছেন। পরে পুলিশকে খবর দেয় তারা।

শাহেদ জানান, জিএম রহিমুল্লাহ মাঝে মধ্যে হোটেল সাগরগাঁওতে রাত যাপন করতেন। সোমবার রাতেও এসে হোটেলের চার তলার ৩১৬ নং কক্ষে ঘুমাতে যান। হোটেলে থাকলে সকালে ফোন করে বাড়ী থেকে নাস্তা আনাতেন। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি তা করেননি। জিএম রহিমুল্লাহ কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালীর বানিয়াপাড়ার বাসিন্দা মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে। তিনি ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ৪ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক।

এদিকে জিএম রহিম উল্লাহর মৃত্যুর খবর পাওয়ার সাথে সাথে বিপুল মানুষ হোটেল সাগর গাঁওয়ের সামনে ভিড় করে। এক নজর দেখতে সাধারণ মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। অনেকে লাশ দেখে হতবিহবল হয়ে যায়। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে হোটেল প্রাঙ্গণে তার লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স সাগর গাঁও এর সামনে রাখা হয়।

জিএম রহিমুল্লাহর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারী জি এম রহিমুল্লাহ’র ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আলহাজ¦ সাইদুল আলম, সেক্রেটারী আবদুল্লাহ আল ফারুক, এসিষ্ট্যান্ট সেক্রেটারী মুহাম¥দ মুহসিন, রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক সদর উপজেলা সাংগঠনিক সেক্রেটারী শহিদুল আলম বাহাদুর।

শহর জামায়াত নেতৃবৃন্দ শোক বার্তায় বলেন, জিএম রহিমুল্লাহর ইন্তেকালে কক্সবাজার জেলাবাসী একজন সৎ যোগ্য ও জনদরদী প্রতিনিধি হারিয়েছে। মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের এই সংকট কালে তাঁর মত একজন ত্যাগী নেতার ইন্তেকালে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ইসলাম, দেশ ও জনগণের জন্য তার গৌরব উজ্জ্বল ভূমিকা জাতি চিরকাল মনে রাখবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকাহত পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

জিএম রহিমুল্লাহর মৃত্যুতে আরো শোক প্রকাশ করেন, বাশঁখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা জহিরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, কুতুবদিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল বশর চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সহ সভাপতি এডভোকেট ফরিদউদ্দিন ফারুকী প্রমূখ।

298 ভিউ

Posted ৮:৩০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com