শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইসিএ এলাকার তারকা হোটেলগুলোতে “উচ্ছেদ আতংক”

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯
37 ভিউ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইসিএ এলাকার তারকা হোটেলগুলোতে “উচ্ছেদ আতংক”

বিশেষ প্রতিবেদক(২৭ ডিসেম্বর) :: ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণার পর পর্যটন শহর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত তীরে গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ ৫টি রিটের চূড়ান্ত রিভিউয়ের রায়ে এ নির্দেশ দেন। সেই সাথে ভবিষ্যতে ইসিএ এলাকায় নতুন করে কোন প্লট বরাদ্দ ও স্থাপনা নির্মাণ না করতেও নির্দেশ দেয়া হয়।

উচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে গত ২ দশকে সমুদ্র তীরে গড়া ওঠা ফাইভ স্টার ও থ্রি স্টার মানের বহু হোটেলসহ সরকারি-বেসরকারি শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে বলে মনে করছেন আইনবিদরা।

তবে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণার আগে গড়ে ওঠা স্থাপনার ক্ষেত্রে এ রায় কার্যকর হবে না বলে জানান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আজম মঈনউদ্দিন।

তিনি বলেন, ইসিএ ঘোষণার আগে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের আওতায় না পড়লেও সেগুলোতে নতুন করে কোন স্থাপনা গড়ে তুলতে পারবে না, আগের অবস্থায়ই রাখতে হবে।

এবিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আবসার বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা আমরা এখনো হাতে পাইনি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আমাদের কাছে পৌঁছলেই সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।তিনি বলেন, ঢালাওভাবে কক্সবাজার থেকে ইনানী বা টেকনাফ এভাবে বলা যাবে না। কারণ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিশেষ বিশেষ কিছু পয়েন্টকে (নির্দিষ্ট মৌজা) প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

বাতিলকৃত প্লটের মধ্যে কোন কোন হোটেল পড়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আরো বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নাম ধরে কিছু বলা যাচ্ছে না। আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

১৯৯৫ সালের পরিবেশ আইনে ১৯৯৯ সালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রায় ১৫ কিলোমিটারব্যাপী সৈকতসহ টেকনাফের কিছু অংশ এবং সেন্টমার্টিন ও সোনাদিয়া দ্বীপকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। এবং এসব এলাকায় স্থাপনা নির্মাণেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও সমুদ্র সৈকত এলকায় সরকারি প্লট বরাদ্দ নিয়ে হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউসসহ সরকারি- বেসরকারি কয়েকশত স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে মঙ্গলবার এসব স্থাপনা

উচ্ছেদ করতে বলা হয়েছে। এ রায়ের ফলে তারকা হোটেল সাইসন রিসোর্ট,সী ক্রাউন,কক্সটুডে,সী-গাল,প্রাসাদ প্যারাডাইস, ওশান প্যারাডাইস,দ্য প্রিন্সেস,রয়েল টিউলিপ,হোটেল মিডিয়া সহ ডজনখানেক তারকা হোটেল এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়, জেলা পরিষদের রেস্ট হাউসসহ সরকারি ব্‌হু স্থাপনা উচ্ছেদের শিকার হতে পারে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে হোটেল সীগাল ও প্রাসাদ প্যারাডাইসের দখলকৃত অবৈধ অংশ জেলা প্রশাসন ভেঙ্গে ফেললেও তা পুনরায় দখলে নিয়েছে হোটেল দুটি।

এবিষয়ে হোটেল দ্য কক্সটুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কইয়ূম চৌধুরী বলেন, এ রায় সরকারকে বিব্রত করবে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে অস্থিরতা তৈরি করবে। তবে ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনার আলোকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন যে সমুদ্র সীমানা বা ইসিএ এলাকার মানচিত্র তৈরি করে উচ্চ আদালতে পাঠিয়েছিল, সেখানে কেবল বীচ রোডের পশ্চিম অংশের স্থাপনাগুলোর কথাই বলা হয়েছে। সেই রাস্তা থেকে কয়েকশত ফুট দূরেই অবস্থান হোটেল কক্সটুডেসহ বেশিরভাগ তারকা হোটেলের।

কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা ও হোটেল মিডিয়ার মালিক শাহ আলম চৌধুরী জানান, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় প্রথম পাকিস্তান আমলে সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠে লাবণী, প্রবাল ও উপাল নামের তিনটি মোটেল। পরে এরশাদ আমলে গড়ে তোলা হয় মোটেল শৈবাল। একই সময়ে লাবণীর পাশে আরো কয়েকটি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সরকারের আমলে সরকারি জমি ইজারা নিয়ে কিংবা ইজারা প্রাপ্তদের কাছ থেকে জমি কিনে সেখানে হোটেল গড়ে তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া কলাতলী এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ‘স্বাস্থ্য নিবাস’ তৈরির উদ্দেশে আশির দশকের শুরুর দিক থেকে আবাসিক প্লট বরাদ্দ দেয়া শুরু হয়। সেখানে এখন কয়েকশত হোটেল। পরবর্তীতে এর পশ্চিম পাশে সাগরপাড়ে গড়ে তোলা হয় হোটেল-মোটেল জোন। বর্তমানে এই এলাকাটিই দেশের পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কক্সবাজারের পরিবেশ গবেষক বিশ্বজিৎ সেন বাঞ্চু বলেন, আদালতের রায়টি যুগান্তকারী। তবে বাস্তবায়ন কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকতে ইসিএ ঘোষণার আগে-পরে গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।

37 ভিউ

Posted ৪:০৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com