সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনার থাবায় থমকে গেছে কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০
16 ভিউ
করোনার থাবায় থমকে গেছে কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১৯ এপ্রিল) :: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণের কাজ থমকে গেছে। প্রকল্পটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এই প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ। করোনার প্রভাবে চলমান কাজের ৪০ ভাগের বেশি অগ্রগতি নিয়ে থমকে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের কাজের মেয়াদ বাড়াতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে কাজের মেয়াদ বাড়লে প্রকল্প ব্যয়ও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে তাদের।

জানা যায়,বর্তমান সরকারের আমলে এ প্রকল্পটি গৃহীত হয় । কিন্তু প্রথমে অর্থের সংস্থান ও পরে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় পড়ে প্রকল্পটি শুরু করতেই অনেক বিলম্ব হয়ে যায়। ১২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে প্রথম ধাপে দোহাজারী-কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম লটে দোহাজারী-রামু রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আর দ্বিতীয় লটে রামু-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে একই বছর মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে।  ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শেষ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। প্রকল্পটি স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে উদ্বোধন করার আগ্রহ প্রধানমন্ত্রীর।

এ প্রকল্পটি এডিবি ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার ভায়া ঘুমধুম ১২৯ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেলপথের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে দুই ধাপে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে দুই লটে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে এই প্রকল্পের প্রথম ধাপের পৃথক দুই লটে নিয়োজিত চায়না এক্সপার্টদের উপস্থিতি না দেখা গেলেও প্রকল্প কাজ খুব দ্রুতই এগিয়ে চলছিল। আর এভাবে প্রকল্প কাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় ক্রমে দৃশ্যমান হয়ে উঠছিল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ। প্রথম ধাপে রেলপথ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে যৌথভাবে চায়নার দু’টি ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়।

দুই হাজার ৬৮৭ কোটি ৯৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় প্রথম লটে দোহাজারী-রামু রেলপথ নির্মাণকাজের চুক্তি হয়েছিল চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও দেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মধ্যে।

দ্বিতীয় লটে তিন হাজার ৫০২ কোটি পাঁচ লাখ দুই হাজার টাকায় রামু-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণকাজের চুক্তি হয় চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন(সিসিইসিসি) এবং দেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সাথে।

চুক্তির শর্তানুযায়ী কাজ শুরু হওয়ার তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ চলতি ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ার ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের কারণে আপাতত থমকে গেছে নতুন রেলপথ নির্মাণকাজ। এই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ সমাপ্ত হওয়ার পরই দ্বিতীয় ধাপে কক্সবাজার থেকে মিয়ানমারের সীমান্ত ঘুমধুম পর্যন্ত অবশিষ্ট ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে কিছু নির্মাণসামগ্রী আনতে না পারায় প্রকল্প কাজে আপাতত স্থবিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানির প্রকৌশলীরা জানান,করোনাভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ মার্চ মাস থেকে রয়েছে। তাদের সাড়ে চার শ’ ইকুইপমেন্ট চালক শ্রমিকসহ কয়েক শত লোককে ছুটি দেয়া হয়েছে।

ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর আনাদ কুনকার্নি বলেন, প্রায় সাড়ে ১২ শ’ শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে ছুটি দেয়া হয়েছে।তিনি বলেন, কাজের অগ্রগতির মধ্যেই কাজ বন্ধ করে দেয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। পিছিয়ে যাবে নতুন রেলপথ নির্মাণকাজ।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম-দোহাজারী ভায়া ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। বহুল প্রত্যাশিত এই রেলপথ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসছে চার হাজার ৯১৯ কোটি সাত লাখ টাকা এবং এডিবির ঋণ থেকে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

রেলপথ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৪০ ভাগ। যা সন্তোষজনক হলেও বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ প্রায় বন্ধই বলা চলে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে নির্মাণসামগ্রী আনা যাচ্ছে না। আর জানুয়ারি মাসে চীনে করোনাভাইরাস ছড়ানো শুরু হওয়ার পর সেখানকার বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে আসার ওপর বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছিল। এখন বাংলাদেশে লকডাউনের কারণে তারা আসতে পারছে না।

16 ভিউ

Posted ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.