বৃহস্পতিবার ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কেন্দ্রস্থল এখন দক্ষিণ এশিয়া

শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১
57 ভিউ
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কেন্দ্রস্থল এখন দক্ষিণ এশিয়া

কক্সবাংলা ডটকম(১৬ এপ্রিল) :: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় প্রবাহ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। গত ১৫ এপ্রিল ভারতে একদিনে ২ লাখ ৭০০ মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা এখন পর্যন্ত বিশ্বে সর্বোচ্চ। এ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা আকাশ ছুঁয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যায় রেকর্ড হয়েছে বেশ কয়েকবার। বাংলাদেশেও শুক্রবার মৃতের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১০০ পেরিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়া দ্রুতই কভিড-১৯ মহামারীর বৈশ্বিক কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে বলে মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)।

শুক্রবার আইএফআরসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা তুলে ধরে বলা হয়, দ্রুতই কভিড-১৯ মহামারীর বৈশ্বিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে উঠছে দক্ষিণ এশিয়া। নভেল করোনাভাইরাসের নতুন এ মারাত্মক ও ভয়াবহ সংক্রামক ঢেউটির কারণে রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের হাসপাতালগুলো। সামাজিক ব্যবস্থায়ও পড়েছে এর প্রভাব, লাখো মানুষ এরই মধ্যে দারিদ্র্য ও অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের দেশগুলোতে প্রতিদিন অন্তত দুই লাখ মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে। ভারতে বর্তমান শনাক্তের সংখ্যা গত বছর চূড়ান্ত সংক্রমণের সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ। বাংলাদেশে গত বছর জুনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছিল। এবার এপ্রিল নাগাদই সে সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। পাকিস্তানেও প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সেখানেও প্রায় প্রতিদিন ভাঙছে মৃত্যুর সংখ্যার রেকর্ড।

আইএফআরসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক হেড অব ডেলিগেশন উদয় রেগমি বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে যে গতিতে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে তা সত্যিই ভীতিকর। ভারতে ১৫ লাখের বেশি মানুষ কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত। গত মাসের চেয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৫০ গুণ।

তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এটি বিশ্বের সব দেশের জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের সামান্য বিশ্রাম নেয়ারও এখন সুযোগ নেই। সংক্রমণের এ মাত্রা সম্মুখসারির কর্মীদের জন্য সর্বনাশা হতে পারে। এসব দেশে বয়স্ক ও যারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন সেসব মানুষের জন্য স্বেচ্ছায় সেবা দিয়ে যাচ্ছে হাজারো রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মী। এরই মধ্যে লাখো মানুষ চরম দারিদ্র্য মোকাবেলা করছে। রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের কাছে খাবার, পানি ও অন্যান্য ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে শুক্রবার প্রথমবারের মতো একদিনে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিন মৃত্যু হয় ১০১ জন করোনা রোগীর। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৮২ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা নয় হাজার ছাড়ায় ৩১ মার্চ। আট হাজার থেকে মৃত্যু নয় হাজার ছাড়াতে সময় লেগেছিল ৬৭ দিন। আর সর্বশেষ এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে। দেশে চলমান এ মহামারীতে এটিই দ্রুত সময়ে এক হাজার মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে এক হাজার মৃত্যুতে সবচেয়ে কম সময় ছিল ২৩ দিন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪ হাজার ৪১৭ জনের শরীরে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরামর্শক ও সাবেক প্রধান কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য সব দেশে সংক্রমণ বেড়েছে। এ সময়ে একটি সমন্বিত চেষ্টা প্রয়োজন, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। বাংলাদেশের সরকার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে যে বিধিনিষেধ দিয়েছে, তা ভালোভাবে প্রতিপালিত হলে সংক্রমণ কমবে। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ কমবে আশা করা যায়। এর জন্য আক্রান্ত ও উচ্চ সম্ভাব্য ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। পরিকল্পনামাফিক কাজ করার বিকল্প নেই।’

আইএফআরসির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জরুরি স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়কারী ডা. অভিষেক রিমাল বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে বি.১.১.৭ ও বি.১.৩৫১ ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ পাওয়া গেছে। এগুলো মূলত যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট। এগুলো আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক ও ক্ষতিকর। ফলে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে, যা দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বোঝায় পরিণত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গতকাল সারা দেশে ২৫৭টি পরীক্ষাগারে ১৮ হাজার ৯০৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পাঁচদিন ধরে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে যাওয়ায় শনাক্তের সংখ্যাও কমেছে। গত ১২ এপ্রিল ৩৪ হাজার ৯৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৭ হাজার ২০১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ১৩ এপ্রিল ৩২ হাজার ৯৫৫টি নমুনার বিপরীতে ৬ হাজার ২৮ জন, ১৪ এপ্রিল ২৪ হাজার ৮২৫টি নমুনার বিপরীতে ৫ হাজার ১৮৫ জন, ১৫ এপ্রিল ১৯ হাজার ৯৫৯টি নমুনার বিপরীতে ৪ হাজার ১৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর গতকাল ৪ হাজার ৪১৭ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১১ হাজার ৭৭৯।

গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ৫ হাজার ৬৯৪ জন সুস্থ হওয়ায় মোট সুস্থতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২ হাজার ৯০৮ জনে। সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

57 ভিউ

Posted ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com