সোমবার ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে হঠাৎ নিত্য পণ্যের বাজারে অস্থিরতা

শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১
124 ভিউ
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে হঠাৎ নিত্য পণ্যের বাজারে অস্থিরতা

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ মে) :: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে একপ্রকার কোনঠাসা সাধারণ মানুষ। এর মধ্যেই আরেক দফা আপদ হয়ে এসেছে বাজারের বাড়তি দাম৷ হঠাৎ করেই নিত্য পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।চালের দাম তো বাড়ছেই৷ সেই সঙ্গে দর বেড়েছে প্রায় সব নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যেরও৷ প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম এক লাফে বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। আরও দাম বাড়ার আশঙ্কায় ক্রেতারাও বেশি বেশি সয়াবিন তেল কিনছেন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি রসুনের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। আলুর দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। লবঙ্গের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০০ টাকা। শুধু তাই নয়, নতুন ধানের চাল বাজারে আসার পরও বেড়েছে চালের দাম।

শুক্রবার (২৮ মে) রাজধানীর খুচরা বাজারে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের চাল কেজিতে ২-৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি সব ধরনের ডালের দামও বেড়েছে। এর ফলে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্য কিনতে বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

ভোজ্যতেল

গত সপ্তাহে ১১৮ টাকায় খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যেতো। তবে এই সপ্তাহে সেই খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১২৬ টাকা। ৬৩৫ টাকার ৫ লিটার বোতল এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ টাকায়। ১৩৫ টাকার এক লিটার বোতল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। বাজারে দেখা যায়, ১০৭ টাকা লিটার খোলা পামওয়েল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা থেকে ১১৪ টাকা। ১১০ টাকা লিটার সুপার বিক্রি হচ্ছে ১১৮ টাকা।

এদিকে দেশের ভোজ্যতেল বিশেষ করে সয়াবিন তেল পরিশোধন ও বিপণনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৯ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এই ঘোষণা দেয়। তেলের দাম বাড়িয়ে নতুন মূল্য তালিকাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, নতুন দামে এখন থেকে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫৩ টাকায় বিক্রি হবে, যা ১৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছিলো। এছাড়া পাঁচ লিটারের এক বোতল তেলের দাম পড়বে ৭২৮ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১২৯ টাকা ও পাম সুপার তেল ১১২ টাকা দরে কিনতে হবে ক্রেতাদের। সংগঠনটির এই ঘোষণার পর শুক্রবার বাজারে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, দেশের বাজারে গতবছরের অক্টোবরেও প্রতি পাঁচ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৫০৫ টাকা। এরপর থেকে তা বাড়ছেই। নতুন দাম কার্যকর হলে গত অক্টোবরের তুলনায় এখন পাঁচ লিটার তেল কিনতে মানুষের ব্যয় বাড়ছে ২২৩ টাকা।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে গত এক বছরের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। ৫ লিটার বোতলের দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশ  এবং এক লিটার বোতলের দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। গক এক বছরের ব্যবধানে খোলা পাম তেলের দাম বেড়েছে ৭৫ শতাংশ।

চাল

বাজারে বর্তমানে নতুন চালের পর্যাপ্ত স্টক থাকলেও বাজারে অস্থিরতা লেগেই আছে। চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে চালের দাম বাড়তি। বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে যে চালের দাম ছিল ৫৫ টাকা কেজি। এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৭ টাকা। গত সপ্তাহে যে চালের দাম ছিল ৬২ টাকা কেজি, এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৪ টাকা।

এছাড়া গত সপ্তাহে যে চালের দাম ছিল ৪৮ টাকা কেজি, এখন সেই চাল চিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহের ৫২ টাকা কেজি চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৫৪ টাকা। বাজারে  প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সাত দিন আগেও ছিল ৪৭-৪৮ টাকা। মাঝারি আকারের চাল প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গেল সপ্তাহে ৫২ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া সরু চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৬৪ টাকায়। যা সপ্তাহ খানেক আগেও ৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

সরকারি হিসাবেও বলা হচ্ছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল কেজিতে ২ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের চাল কেজিতে ৬ শতাংশ ও সরু চাল কেজিতে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডাল

বাজারে দেখা যায় মশুর ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে যে বড় দানার মশুর ডালের প্রতি কেজির দাম ছিল ৭৫ টাকা। এখন সেই ডালের দাম ৮০ টাকা কেজি। আর যে ডালের দাম ছিল ৯০ টাকা কেজি। এখন সেই ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা কেজি। শুত্রবার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বড় দানার মসুরের ডাল ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা ৭ দিন আগে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের মসুরের ডাল বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকা। যা গেল সপ্তাহে ছিল ৯০ টাকা। টিসিবির হিসাবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মসুর ডাল সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ

গত সপ্তাহের তুলনায় আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকা। এখন সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি। একইভাবে গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি আমদানি করা পেঁয়াজের দাম এখন ৪৫ টাকা কেজি। টিসিবির হিসাবে, কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এদিকে প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা এক সপ্তাহ আগে ২০ টাকা ছিল।  প্রতি কেজি দেশি রসুন ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। যা সাত দিন আগেও ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি জিরা ২০ টাকা বেড়ে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি লবঙ্গ ১০০ টাকা বেড়ে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ২৪০০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ২৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

অস্থির সবজির বাজার

রাজধানীর কাঁচা বাজার সবজির বাজারও চড়া। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সবজির চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ বাড়েনি। বরং কিছু কিছু সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এসব কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। বাজারে আগের মতো ফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। শুক্রবার শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ঢেঁড়সের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা হালি বিক্রি হওয়া কাঁচকলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। গাজরের দাম বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ঝিঙে আগের মতো ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এক কেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন,বাংলাদেশে ভোগ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নির্ভর অনেকটাই ৷ আর করোনায় সরকারকে ত্রাণ ও অন্যান্য খাতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে৷ তাই ‘‘বাজার মনিটরিং-এর সাথে বেসরকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন৷

মজুত সংকটে কমছে না চালের দাম

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এদিকে গত বছর বোরো এবং এবার আমনে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচি শতভাগ সফল হয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার বোরো সংগ্রহ কর্মসূচি শতভাগ সফলতা আনতে মাঠে কাজ করছে সরকার। এ জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবারের চলতি বোরো মৌসুমে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন ধান এবং সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন চালসহ মোট ১৮ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। খাদ্য অধিদফতর ৭ মে বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে। খাদ্য অধিদফতরের এ কার্যক্রম চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি বোরো ধান কেনা হচ্ছে ২৭ টাকা কেজি দরে। আর মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল এবং ৩৯ টাকায় আতপ চাল কেনা হচ্ছে। গত বছর একই মৌসুমে বোরো ধান ২৬ টাকা কেজি দরে, ৩৭ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে আতপ চাল কিনেছে সরকার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার দুই কোটি পাঁচ লাখ টন বোরো ধানের চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব গুদামে ২৪ মে পর্যন্ত মজুত খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চাল ও ধান মজুতের পরিমাণ ৭ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন। এরমধ্যে চাল মজুত আছে ৫ লাখ মেট্রিক টন এবং গম মজুতের পরিমাণ ২ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন। সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন খাদ্যশস্যের এ মজুত সন্তোষজনক নয়। সরকারি গুদামে কমপক্ষে ১০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য থাকলে তা সন্তোষজনক বলা যায়।

সরকারের খাদ্যশস্য মজুত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরাই অসন্তুষ্ট। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বর্তমান খাদ্য মজুতকে আশঙ্কাজনকভাবে কম বলেছেন। তিনি দ্রুত মজুত বাড়ানোর তাগিদ দেন। একই সভায় অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার জানিয়েছেন, খাদ্যশস্যের মজুত কমপক্ষে ১০ লাখ টন থাকা উচিত। ১০ লাখ টনের কম খাদ্য মজুত সরকারের জন্য অস্বস্তিকর।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের সন্তোষজনক মজুত পরিস্থিতি না থাকায় বাজারে চালের দাম কমছে না। অথচ চলতি বোরো মৌসুমে চালের দাম কম থাকার কথা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছর আমন ও বোরোর উৎপাদন কম হওয়া, সরকারি মজুত কমে যাওয়া এবং করোনার কারণে খাদ্যশস্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ায় চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। যা অতীতে কখনও হয়নি। এ সময়ে গরিবের মোটা চাল নামে পরিচিত গুটিস্বর্ণা বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা কেজি দরে। যা অনেকটাই রেকর্ড। স্বাভাবিক নিয়মে মোটা জাতের এই গুটিস্বর্ণা চালের কেজি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। ধনী মানুষের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা ও নাজিরশাইলের কেজি উঠেছে ৭২ টাকায়। করোনা মহামারিতে চালের এই দাম অনেকটাই অস্বস্তিকর।

সরকারের মজুত, বোরো ধান ও চাল কেনার নির্ধারিত দর নিয়ে চাল উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত। তারা বলছেন, চালের মজুত বাড়াতে হবে, তা না হলে দাম কমনো সম্ভব নয়। কেননা, সরকারের মজুত পরিস্থিতি খারাপ থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। যা কোনোভাবেই ঠেকানো সম্ভব নয়। গত বছর বিদেশ থেকে চাল আমদানি করেও সরকারের মজুত বাড়ানো যায়নি বলে বাজারে চালের দাম কমেনি। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সরকার বোরো ধান ও চালের যে দাম নির্ধারণ করেছে তাকে কেউ কেউ অনেকটাই স্বস্তিদায়ক বললেও অনেকে এর বিরোধিতা করছেন। একপক্ষ বলছেন, নির্ধারিত দরে সরকারকে চাল দেবে মিলাররা। অন্য পক্ষ বলছেন, চাল কেনার দর নির্ধারণ এ বছরও সঠিক হয়নি। তাই সরকার কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বোরো কিনতে পারবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ (মিনিকেট রশিদ) জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর সরকার চালের ভালো দাম দিয়েছে। আমরা সরকারকে এ বছর হয়তো ভালো পরিমাণে চাল দেবো। হয়তো এ বছর সরকার বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারবে।

তবে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলী জানান, সরকারের দর নির্ধারণ এ বছরও সঠিক হয়নি। কারণ, প্রতিকেজি ধানের দাম ২৭ টাকা হলে এক কেজি চালের উৎপাদন খরচ দাড়ায় ৪২ টাকা। সেক্ষেত্রে আমরা ৪০ টাকা কেজি দরে চাল সরকারকে দেবো কীভাবে? কাজেই সরকারের বোরো সংগ্রহ অভিযান সফল হবে কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান।

লায়েক আলী জানিয়েছেন, বর্তমানে কাঁচা ধানের মণ ৯০০ টাকা। এই ধান শুকালে ৪০ কেজির স্থলে নিট ওজন দাঁড়ায় ৩০ কেজি। সেক্ষেত্রে এক মণ শুকনো ধানের দাম দাড়ায় ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা। আমরা সব সময় সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই, কিন্তু পরিস্থিতি এমন হলে মিলারদের পক্ষে সরকারের গুদামে ধান ও চাল দেওয়া কতটুকু সম্ভব- তা বিবেচনার সময় এসেছে।

সরকারের খাদ্যশস্য মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, মজুত বাড়াতে সরকারকে সংগ্রহ করতে হবে, আর এটি বাড়াতে ধান সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা থাকতে হবে। প্রতি ইউনিয়নে ধান কেনার মতো অবস্থা সরকারের এখনও গড়ে ওঠেনি। ইউনিয়ন পর্যায়ে কেনার মতো অবস্থা নেই, সংগ্রহের পর তা রাখার জন্য সরকারের গোডাউনও নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য সচিব নাজমানারা খানুম জানান, এখন আর মধ্যস্বত্বভোগী নেই। তবে এক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতন হতে হবে। তারা যদি তাদের লটারি স্লিপটি কারও কাছে বেচে না দেয়, তাহলে মধ্যস্বত্বভোগী সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ নেই। সরকার অ্যাপস ও লটারির মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনে। ধানের ন্যায্যমূল্য কৃষকের ব্যাংক হিসেবে পরিশোধ করা হয়।

বাদামতলী-বাবুবাজার চাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, বাজারে চালের দাম কমানোর জন্য সরকারের মজুত বাড়ানোর কোনও বিকল্প নাই। যতভাবেই হোক মজুত বাড়াতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন হলে বোরো ধান ও চাল কেনার দাম পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। দেশীয় বাজার থেকে কিনেই চালের মজুত বাড়াতে হবে। আমদানি করে নয়। মজুত পরিস্থিতি বাড়লে চালের দাম কমবে, তা কেউ ঠেকাতে পারবেন না।

তিনি জানান, যে যাই বলুক, চালের বাজারে এখন আর কোনও সিন্ডিকেট নাই। বাজারের এমন পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেট করে চালের ব্যবসা করা সম্ভব নয়। আবার কৃত্রিম সংকটও সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। চালসহ এখন সব ধরনের নিত্যপণ্যের বাজার প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এছাড়া সরকারের মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ এপ্রিল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বোরো ধান সংগ্রহ হয়েছিল দুই লাখ ১৯ হাজার টন। এ ছাড়াও ছয় লাখ ৬৭ হাজার ৮৯০ টন সিদ্ধ চাল এবং ৯৯ হাজার ১২৩ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়েছিল।

ভোজ্যতেলের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা

ভোজ্যতেলের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা

 আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দামে অস্থিরতায় দেশে ভোজ্যতেলের দাম আরেক দফা বাড়ানো হচ্ছে। এবার একলাফে লিটার প্রতি সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে ৯ টাকা।

আগামী শনিবার থেকে বর্ধিত দাম কার্যকর হবে। বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ভোজ্যতেলের এই বাড়তি দামের কথা জানায়।

ঈদের পর ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে লোকসান সমন্বয়ের আভাস দিয়েছিল দেশে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনের তথ্যমতে, শনিবার থেকেই দেশে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫৩ টাকায় বিক্রি হবে, যা এত দিন ছিল ১৪৪ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ৭২৮ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৭০ টাকায়। লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেল ১২৯ টাকা ও পাম সুপার তেল ১১২ টাকায় বিক্রি হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিভাগের (আইআইটি) প্রধান এ এইচ এম সফিকুজ্জামান নিউজবাংলার কাছে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে সরকারের চাপে দাম বাড়ানোর তিন দিনের মাথায় তিন টাকা কমাতে বাধ্য হয়েছিল।

তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে করোনা, লকডাউন, রমজান এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার সার্বিক বিষয় চিন্তা করে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বিপণনকারী ব্যবসায়ীদের দাম কমানোর অনুরোধ করলে দুই টাকা বর্ধিত দাম কার্যকর করা হয়। এতদিন ধরে ওই দামেই ভোজ্যতেল বিক্রি হয়ে আসছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, আমদানি মূল্য ধরে মন্ত্রণালয়ে লিটার প্রতি ভোজ্যতেলের দাম ১৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল অ্যাসোসিয়েশেন। পরে মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব থেকে চার টাকা কমিয়ে অনুমোদন দেয়।

আরও জানা গেছে, সরকার প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ১১০০ ডলার ধরে ৯ টাকা বাড়তি দাম নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে এই মুহূর্তে টনপ্রতি অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ১৪৬০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এই দাম না কমলে, বর্তমান স্টক শেষ হলে বা নতুন আমদানি মূল্যের তেল বাজারে এলে দাম আরও বাড়ানো হতে পারে। সরকারকে ভোজ্যতেলের ব্যবসায়ীরা এমন আভাসই দিয়েছেন।

124 ভিউ

Posted ৭:০৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com