মঙ্গলবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনায় আক্রান্ত মন্ত্রী এমপির সহ তালিকায় বিশিষ্টজনরা

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০
11 ভিউ
করোনায় আক্রান্ত মন্ত্রী এমপির সহ তালিকায় বিশিষ্টজনরা

কক্সবাংলা ডটকম(১৬ জুন) :: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ রূপ নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গোটা বিশ্বকে থমকে দেওয়া অদৃশ্য এই ভাইরাস থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোনো শ্রেণির মানুষই। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সারি লম্বা হয়েই চলেছে। এরই মধ্যে দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যসহ রাজনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, চিকিত্সক, পুলিশ, সাংবাদিক, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীসহ সব পর্যায়ের মানুষ। আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় শুরুতে তুলনামূলকভাবে অন্য শ্রেণি-পেশার মানুষ বেশি আক্রান্ত হলেও এখন সেই তালিকায় বিশিষ্টজনরাও চলে আসায় দেশজুড়ে উদ্বেগ-আতঙ্কের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত। তার এপিএসও আক্রান্ত। কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈসিং। বান্দরবান থেকে টানা ছয়বার নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে এরই মধ্যে সামরিক হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে আসা হয়েছে। ৬০ বছর বয়সি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈসিংয়ের পারিবারিক সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, তিনি আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার ডায়াবেটিসও রয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত হওয়া সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের রণজিত্ কুমার রায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এবাদুল করিম, জামালপুর-২ আসনের ফরিদুল হক খান, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। এই পাঁচ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য। সংসদ সদস্যদের মধ্যে পুরো পরিবারসহ করোনা আক্রান্ত হন মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও মোছলেম উদ্দিন। পরিবারের ছয় সদস্যসহ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ির মোট ১১ জন করোনায় আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী, বড়ো মেয়ে, বড়ো মেয়ের স্বামী, তিন নাতি ও দুই গৃহকর্মী রয়েছেন। আর মোছলেম উদ্দিনের পরিবারসহ একত্রে ১০ জন করোনায় আক্রান্ত হন। আক্রান্তদের মধ্যে তার স্ত্রী, ছেলে ও নাতিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের আরেক এমপি শহীদুজ্জামান সরকার (নওগাঁ-২) করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন। সাবেক হুইপ শহীদুজ্জামান সরকারই প্রথম ব্যক্তি, এমপিদের মধ্যে যিনি প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত হন।

শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে সোমবার দুপুরে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছেন সিলেট-২ আসনের গণফোরামের এমপি মোকাব্বির খান। গণফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোশতাক আহমেদ ইত্তেফাককে জানান, গতকাল সংসদে মোকাব্বির খানের বক্তব্য রাখার কথা ছিল। তিনি ন্যাম ভবনেই ছিলেন, সেখানে হঠাত্ শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় তিনি দুপুরে সিএমএইচে ভর্তি হন। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না সেটি পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর ব্রেইন স্ট্রোক করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শনিবার তিনি মারা যান। যদিও মৃত্যুর আগে পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ এসেছিল প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে একই দিন মৃত্যুবরণ করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। গতকাল মারা গেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন কামরান। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি সিএমএইচে চিকিত্সাধীন ছিলেন। কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানও করোনায় আক্রান্ত।

এর আগে করোনায় মারা যান বিগত বিএনপি সরকারের বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আনোয়ারুল কবির তালুকদার। রাজনীতিবিদদের মধ্যে আনোয়ারুল কবির তালুকদারই প্রথম করোনায় প্রাণ হারান। এছাড়া করোনায়া মারা গেছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সদস্য কামরুন্নাহার পুতুল ও আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি হাজি মকবুল হোসেন। আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ফেনীর নিজাম হাজারীর বড়ো ভাইও করোনায় মারা গেছেন। একই দিন পুত্রের মৃত্যু সংবাদে মারা যান তার বৃদ্ধা মা।

এদিকে, করোনায় মারা গেছেন আওয়ামী লীগের এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর স্ত্রী বেগম সাহান আরা আবদুল্লাহ। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলও করোনা আক্রান্ত। তিনি বাসায় থেকে চিকিত্সা নিয়েছেন, এখন অনেকটা সুস্থ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১১ জুন মারা গেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত বিএনপির ঢাকা মহানগরের উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসানসহ ৫৬ জন নেতাকর্মী মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন দলের ১২১ জন নেতাকর্মী।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে মারা গেছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা নিলুফার মঞ্জুরও করোনায় মারা যান। ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য নাজমুল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাকিল উদ্দিন আহমেদও প্রাণ হারিয়েছেন করোনায়। এছাড়া পানি বিশেষজ্ঞ এম এ সামাদ, এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম, পপুলার গ্রুপের চেয়ারম্যান তাহেরা আক্তার, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী খোকন সাহা, ব্র্যাকের পরিচালক আফতাব উদ্দীন আহমদ, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা মো. ইমামুল কবীরও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

করোনার ছোবলে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে মারা গেছেন সাবেক সচিব এম বজলুল করিম, অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়া অতিরিক্ত সচিব তৌফিকুল আলম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. ফখরুল কবির, উপকর কমিশনার সুধাংশু কুমার, রাজস্ব কর্মকর্তা খোরশেদ আলম, খাদ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা উত্পল হাসান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক জালাল সাইফুর রহমান প্রমুখ। গত শনিবার দিবাগত রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নতুন সচিব আবদুল মান্নানের স্ত্রী কামরুন নাহার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিএমএইচে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্মব্যবস্থাপক আশরাফ আলী, রূপালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক সহিদুল ইসলাম খান, সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মাহবুব এলাহী, সিটি ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের মুজতবা শাহরিয়ার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজন ব্যাংক কমকর্তাও করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

সর্বশেষ, প্রতিরক্ষাসচিব আবদুল্লাহ আল মহসিন চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিএমএইচে ভর্তি রয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর ও তার স্ত্রী নাসরীন আক্তারও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।

সামনে বাড়বে ভয়াবহতা

সামনে বাড়বে ভয়াবহতা
দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিদিনই শনাক্তের পাশাপাশি মৃতের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ ভয়াবহ আকারে বাড়তে থাকে, যা এখনো অব্যাহত। সোমবার সংক্রমণের শততম দিনে এসেও কেউ বলতে পারছে না কবে নাগাদ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। বরং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে যদি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে আর সংক্রমণ রোধ না করা যায়, তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। অতিদ্রুত সাবধান হতে হবে। নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা। আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে না পারলে পরিস্থিতি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভারতে ১০০ দিনে মোট আক্রান্ত ছিলেন ৫৯ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে মারা গিয়েছিলেন এক হাজার ৯৮১ জন। এরপর ভারতে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে দেখা গেছে। গতকাল ১৩৭তম দিনে এসে ভারতে মোট আক্রান্ত ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮০ জন। মৃত্যু হয়েছে নয় হাজার ৫২৪ জনের। পাকিস্তানে ৪ জুন পর্যন্ত ১০০ দিনে মোট আক্রান্ত হয়েছিলেন ৮৫ হাজার ২৬৪ জন। মারা গেছেন এক হাজার ৭৭০ জন। গতকাল ১১৫তম দিনে পাকিস্তানে মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ২৮৪ জন। প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানে একশ দিনের পর এই বিশাল অঙ্কের আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে গতকাল একশ দিনে মোট আক্রান্ত ছিল ৯০ হাজার ৬১৯ জন। মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ২০৯ জনের। এখন একশ পরবর্তী দিনের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে সন্দিহান দেশের বিশেষজ্ঞরাই।

দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও অন্যরা ধারণা করছিলেন, জুনের শেষ সপ্তাহে দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিম্নমুখী হবে। ফলে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু এখন ?বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন সেই স্বাভাবিক জীবন কবে আসবে, সেটা অনিশ্চিত। বরং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। তারা বলছেন, এপ্রিলে তারা ওই প্রক্ষেপণ বা পূর্বানুমান করেছিলেন সারা দেশে সাধা?রণ ছুটি বা লকডাউন পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে। এরপর প্রথমে পোশাক কারখানা, তারপর লকডাউন শিথিল করে দোকানপাট এবং ঈদের পর গণপরিবহনসহ সব খুলে দেওয়া হয়। আগে ধারণা করা হচ্ছিল জুনের শেষ নাগাদ দেশে এক লাখ ২৩ হাজারের মতো মানুষ আক্রান্ত হবে। এখন মনে করছেন আক্রান্ত আরও বাড়বে। সেটা এক লাখ ৬০ থেকে ৬৩ হাজার হতে পারে। কবে স্বাভাবিক জীবন কবে আসবে তা নির্ভর করছে, সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং মানুষ কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, তার ওপর।কভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এভাবে যদি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে তাহলে ভয়াবহ বিপর্যয় হবে। রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়লে তো হাসপাতালে জায়গা পাওয়াই কঠিন হয়ে যাবে। এখনই যেসব হাসপাতালে কভিডের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সেগুলো ভর্তি হয়ে গেছে। জায়গাই তো খালি নেই। সরকারকে চেষ্টা করতে হবে। তার চেয়েও জরুরি, রোগের সংক্রমণ যাতে কমে সে ব্যবস্থা নেওয়া। যে কোনোভাবেই রোগী সংখ্যা কম হোক এই প্রার্থনা করি। যেন হাসপাতালে যাওয়া না লাগে, যেন আইসিইউ না লাগে। এজন্য প্রতিকার, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রতি জোর দিতে হবে বেশি, যাতে সংক্রমণের হার কমে যায়। মানুষ কোনো নির্দেশনা মানছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা প্রতিকার, প্রতিরোধ কিছুই নিচ্ছে না। এজন্য বিপর্যয় রোধে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সচেতন হতে হবে।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ব্রাজিলের সরকার ভেবেছিল প্রকৃতিগতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হবে। তাই তারা সবকিছু স্বাভাবিক রেখেছিল। কিন্তু এরপর সে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এখন বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা ও মৃতের হার যেভাবে বাড়ছে এটা দেশের জন্য বিপদ সংকেত দিচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে না পারলে পরিস্থিতি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এটা প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে না, সমন্বিতভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি বলেন, ভাইরাসটি ধীরে ধীরে শুরু করে প্রকটভাবে ছড়াতে থাকে। তাই সে ধরনের ভয়াবহতা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দিয়েছেন তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। রেড জোন পুরোপুরি লকডাউন করতে হবে।  অপেক্ষাকৃত কম সংক্রমিত এলাকায় চলাচল সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কম সংক্রমিত গ্রিন জোন এলাকায় পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় ২১ জানুয়ারি। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। ওই দিন তিনজন রোগী শনাক্ত হয়। এরপর এক-দুদিন পর পর দুই-তিনজন করে রোগী শনাক্ত হতে থকে। মূলত এপ্রিল মাস থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রথম দিকে ঢাকার পর নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর সংক্রমণের হটস্পট ছিল। এখন সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে চট্টগ্রাম। সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।

স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই কোথাও : করোনার বিস্তারের মধ্যে সব খুলে দেওয়ার পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি। শারীরিক দূরত্ব না মেনেই রাস্তা-ঘাটে ঘোরাফেরা করছে মানুষ। গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে লঞ্চে।  ট্রেনের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, ট্রেনে ওঠানামায় শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারে বাড়ছে লোকসমাগম। এমনকি শিল্প এলাকাগুলোতে শ্রমিকরা দূরত্ব বজায় না রেখে মিলেমিশে যাতায়াত করছেন। রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও যানবাহনে কিছু মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও একটি বড় অংশই মাস্ক ছাড়া বা খুলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এভাবেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা।

11 ভিউ

Posted ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.