বৃহস্পতিবার ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনায় বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে নেই বেশিরভাগ এমপি

রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০
11 ভিউ
করোনায় বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে নেই বেশিরভাগ এমপি

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ মার্চ) :: নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সারা বিশ্বকে ভীতসন্ত্রস্ত করে রেখেছে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে।আর বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদে রয়েছেন অসংখ্য দিনমজুর বা মেহনতি মানুষ। নির্বাচনে ভোট চেয়ে প্রায় সব প্রার্থীর পোস্টারে একটা কমন স্লোগান থাকে ‘গরিব, দুঃখী ও মেহনতি মানুষের বন্ধু’কে ভোট দিন। খাদ্য সংকটের আশঙ্কায় থাকা দেশের লাখ লাখ মেহনতি মানুষের পাশে নেই ভোটের আগের সেই বন্ধুরা।

দেশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতেগোনা কয়েকজন সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাল-ডাল বিতরণ করছেন। হাত গুটিয়ে বসে আছেন বেশিরভাগ সাংসদ।

একজন এমপি অবশ্য দাবি করলেন, বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত না হলে দিনমজুরদের খাদ্য সংকট হবে না। কারণ মানুষের আয় বেড়েছে। মানুষ এখন এতটা গরিব কেউ নেই। আরেকজন এমপি জানালেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় তিনি এলাকায় যেতে পারছেন না। আবার কেউ কেউ সরকারি উদ্যোগ পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন।

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুল্ক্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা, গাড়ির জ্বালানি খরচ, পাঁচ কোটি টাকা থোক বরাদ্দসহ একজন এমপি অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন রাষ্ট্রের কাছ থেকে। এরপর গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এলাকায় যেতে না পারার অজুহাত যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। সরকারি বরাদ্দের বাইরে তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাবে দেশে দিনমজুরের সংখ্যা এক কোটির ওপরে। যাদের প্রতিদিন কাজের নিশ্চয়তা নেই। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষের একটা বড় অংশই দিনমজুর। ঢাকায় নানা ধরনের সরকারি-বেসরকারি ও বিত্তবানদের উদ্যোগে চাল-ডাল বিতরণের তথ্য মিলছে। তবে যারা ঢাকা ছেড়ে গেছেন তারা খুবই নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছেন। কারণ এলাকায় গিয়ে কাজ পাচ্ছেন না; ত্রাণও পাচ্ছেন না। হঠাৎ নেমে আসা এ বিপদের দিনে জনপ্রতিনিধিদের পাশে চান সাধারণ মানুষ।

সরকারি নির্দেশনার পর ২৫ মার্চ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ২৬ মার্চ থেকে সরকারি-বেসরকারি সব অফিসও বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর যোগাযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে বিচ্ছিন্ন। একই সঙ্গে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তাই অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। আর্থিকভাবে সচ্ছলরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুদ করলেও দিনমজুরদের সে সুযোগ নেই।

নড়াইলে নিজের এলাকায় ব্যাপকভাবে অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন স্থানীয় এমপি ও ক্রিকেট তারকা মাশরাফি বিন মুর্তজা।

লকডাউনে কক্সবাজারের ৪টি আসনের সংসদ সদস্যদের এখনো পর্যন্ত মাঠে নামেননি।আর জেলার ৫ এমপিদের পক্ষ থেকে চাল-ডাল বিতরণের তেমন কোনো উদ্যোগের খবর মেলেনি।

টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সদর আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন আড়াই হাজার প্যাকেট তৈরি করেছেন গরিবদের মধ্যে বিতরণের জন্য। এর মধ্যে রয়েছে- পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি ডাল, এক কেজি লবণ ও একটি সাবান। তবে জেলার অন্য এমপিদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগের খবর মেলেনি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বরিশাল জেলায় সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ ছয় এমপির অধিকাংশের কোনো তৎপরতা নেই। বিভাগের অন্য জেলার এমপিদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি প্রায় একই। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানের পর বরিশালের সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর কোনো ধরনের তৎপরতার খবর কেউ জানাতে পারেননি। জেলার ছয় এমপির মধ্যে চার এমপির অবস্থাও প্রায় একই। তবে ওই চার এমপির ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, এলাকায় না থাকলেও তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে রংপুরের দিনমজুররা। জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার চর শংকরদহের দিনমজুর আফজাল মিয়া (৫০) বলেন, ‘মাটি কাটি, লেবারি করি হামরা চলি। বাঁন্দের ওপর বাড়ি করি আছি। সরকার কওছে ঘর থ্যাকি বাহির হওয়া যাবার ন্যায়। সব কাম-কাজ বন্দো হয়া গেইছে। এল্যা আমরা কী করি খামো। সরকার তো এ্যালাও কিছু দেয় নাই হামাক।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনের এমপি মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, তার নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় ভ্যানচালক, রিকশাচালক, দিনমজুর ও হতদরিদ্রদের সহায়তা দিতে কাজীপুর ও সদরের প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও শেরপুর-২ আসনের (নালিতাবাড়ী-নকলা) এমপি মতিয়া চৌধুরী ইউএনও এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার হাতে এক লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন। এ ছাড়া ওই দুই উপজেলায় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে এক লাখ লিফলেট ও ১০ হাজার মাস্ক বিতরণ করেছেন। সরকারি বরাদ্দ যেন প্রকৃত দরিদ্র মানুষ পায় সেজন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসন, দলীয় নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দিয়েছেন।

দিনাজপুরের আসনের এমপি  এলাকায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ করেছেন। তিনি নিজেই এলাকায় গিয়ে সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। তার মতে, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে এমপিদের সবাই সক্রিয় রয়েছেন সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তবে রাজনীতি করে যারা এমপি হয়েছেন, তাদের জন্য কোনো নির্দেশনার প্রয়োজন নেই। জনগণের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।

11 ভিউ

Posted ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.