রবিবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনায় ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ

সোমবার, ১১ মে ২০২০
13 ভিউ
করোনায় ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ

কক্সবাংলা ডটকম(১০ মে) :: খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া, এপ্রিল থেকে ঋণে ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর করা, আমানত প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াসহ নানা কারণে আগে থেকেই চাপের মধ্যে ছিল ব্যাংক খাত। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে নতুন করে ঋণ বিতরণ হচ্ছে খুব কম। আদায় আপাতত হচ্ছে না বললেই চলে। আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় কমিশন আয় কমেছে।

এর মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রভাবে সরকারের প্রণোদনার অংশ হিসেবে জুন পর্যন্ত কেউ কিস্তি না দিলেও খেলাপি না করা এবং এপ্রিল ও মে মাসে ব্যাংকের সব ঋণের সুদ আদায় না করে ‘সুদবিহীন ব্লকড’ হিসাবে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসবের সম্মিলিত প্রভাবে সুদসহ আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেবে কীভাবে- সেই প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খারাপ হলেও অনেকে ভালো ব্যবসা করছেন। বিশেষ করে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা চলছে রমরমা। আবার বেতনের বিপরীতে গাড়ি কিংবা বাড়ির জন্য ঋণ নেওয়া বেশিরভাগ গ্রাহক আগের মতো নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। অথচ ঢালাওভাবে আগামী জুন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ না করলেও খেলাপি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন আবার মার্চ পর্যন্ত বিতরণ করা সব ঋণের বিপরীতে এপ্রিল ও মে মাসের সুদ আদায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। এভাবে ঢালাওভাবে সুবিধা না দিয়ে শুধু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সুবিধা দিলে ঋণশৃঙ্খলা কম বিঘ্নিত হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে গত এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণে ৯ শতাংশ সুদ নামিয়ে আনায় বড় ধরনের চাপে আছে অধিকাংশ ব্যাংক। কেননা ৯ থেকে সাড়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদে তাদের অনেক মেয়াদি আমানত রয়েছে। মেয়াদপূর্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব আমানতে উচ্চহারেই সুদ গুনতে হবে। গত জানুয়ারি পর্যন্ত হিসাবে ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে গড়ে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ হারে প্রতি মাসে ৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা সুদ গুনতে হচ্ছে। জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ঋণ ছিল ১০ লাখ ৫২ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।

এর বিপরীতে গড়ে ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ হারে প্রতি মাসে ৮ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা সুদ আয় রয়েছে ব্যাংকগুলোর। এ হিসাবে এপ্রিল ও মে মাসের সুদ আয়ের ১৬ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা স্থগিত খাতে চলে যাবে। যদিও ব্যাংকের খরচ এক টাকাও কমেনি বরং বেড়েছে। বিশেষ করে সব কর্মকর্তার নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধের পাশাপাশি এখন যারা অফিস করবেন, তাদের বাড়তি বেতন দিতে হবে। এক মাসে কেউ ১০ দিন অফিস করলেই এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ টাকা তাকে দিতে হচ্ছে। আবার কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে বা মারা গেলে বীমা সুবিধা দিতে হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের ক্ষতি পোষাতে সুবিধা দিতে হবে। তবে এভাবে ঢালাওভাবে না দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে সুবিধা দেওয়া উচিত ছিল। এক্ষেত্রে কারা ক্ষতিগ্রস্ত তা ব্যাংকগুলো ঠিক করতে পারত। তবে ঋণখেলাপিদের কোনো সুবিধা না দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ভালো।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ হালিম চৌধুরী বলেন, ব্যাংক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একটি পণ্য কিনে বিক্রির সময় কোনো দাম নিতে পারবে না, তা হয় না। তিনি মনে করেন, এপ্রিল ও মে মাসের সুদ আদায়ের ওপর স্থগিতাদেশ হয়তো সাময়িক। আপাতত এই সুদ ব্যাংকের আয় খাতে না নিলেও হয়তো পরবর্তী সময়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। কিংবা সরকার হয়তো সুদ ভর্তুকির বিষয়ে কিছু ভাবছে।

কয়েকজন সিনিয়র ব্যাংকার বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এসব প্রণোদনার বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক সিআরআর কমিয়ে ও বেশ কয়েকটি পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দিচ্ছে। তবে এই প্রণোদনার আওতায় বিতরণ করা পুরো ঋণের দায় নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। পুনঃঅর্থায়নসহ যে কোনো ঋণ ফেরত না এলে তা ব্যাংকের ঘাড়েই চাপবে।

প্রণোদনা এই মুহূর্তে অর্থনীতির জন্য ভালো হলেও আগামীতে খেলাপি ঋণ বেড়ে ব্যাংকগুলো ব্যাপক চাপে পড়তে পারে।বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঋণের সুদ আদায় পরবর্তী সময়ে কঠিন হবে। আর সরকার এই স্থগিত খাতে রাখা সুদ ভর্তুকি হিসেবে দেবে কিনা এখনই তা বলা যাচ্ছে না।

13 ভিউ

Posted ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১১ মে ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.