সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

করোনায় লবণের রেকর্ড দরপতন : চরম সংকটে কক্সবাজারের হাজার হাজার কৃষক

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০
70 ভিউ
করোনায় লবণের রেকর্ড দরপতন : চরম সংকটে কক্সবাজারের হাজার হাজার কৃষক

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৩ এপ্রিল) :: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার নতুন বাজার এলাকার লবণচাষী মো. আবু বকর। নয় বছর ধরে লবণ চাষের সঙ্গে যুক্ত তিনি। কিন্তু গত তিন বছরে অস্বাভাবিক লোকসানে পড়ে প্রায় সব পুঁজিই হারিয়েছেন। দেনা পরিশোধ ও জীবিকার তাগিদে এবারো ২৫০ কানি জমিতে লবণ চাষ করেছেন। ব্যয় হয়েছে কানিপ্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকা করে। লবণ উৎপাদনও হয়েছে অনেক। কিন্তু দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় বিক্রি করতে পারছেন না। কানিপ্রতি লবণের দাম পাচ্ছেন গড়ে ১০-১২ হাজার টাকা করে। অর্থাৎ এবারো তার বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ মাঠে পড়ে আছে। ক্রেতা না থাকায় এসব লবণ সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিক কিনতে হবে তাকে।

এক্ষেত্রেও ব্যয় বাড়বে কানিপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে। এছাড়া শ্রমিকের মজুরিসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য নতুন করে বিনিয়োগও করতে হবে। এ অবস্থায় উৎপাদিত লবণ মাঠেই ফেলে ব্যবসা থেকে সরে যাওয়া ছাড়া গতি নেই তার। একই অবস্থা মহেশখালীর মো. আবদুল কাদের, এহসান, আবুল হোসেন, জসিমসহ কয়েকশ লবণচাষীর।  এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ৪৪ হাজার প্রান্তিক চাষিসহ লবণ ব্যবসায় জড়িত জেলার অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ।

কক্সবাজারের মহেশখালী ও চকরিয়ার (বদরখালী) একাধিক লবণচাষী জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র পরিসরে যারা লবণ চাষ করেছেন, তাদের অনেকেই উৎপাদিত লবণ বিক্রি করতে পারেননি। পাওনাদারের টাকা ফেরত দিতে না পেরে তাদের কেউ কেউ মাঠে লবণ রেখেই চলে গেছেন। শাহ্ আলম, কবির নামের স্থানীয় দুই কৃষক মাঠে লবণ রেখে সরে পড়েছেন এক সপ্তাহ আগে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আরো অনেক কৃষককে একই পথ ধরতে হবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

দেশে মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমুখী। কভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর কারখানা বন্ধ ও পরিবহন সংকটে লবণের দাম নেমে এসেছে রেকর্ড সর্বনিম্নে। বিক্রি না হওয়ার পাশাপাশি লোকসানে পড়ে দায়-দেনা এড়াতে মাঠে লবণ ফেলে যাচ্ছেন কৃষকরা। সংকট থেকে উত্তরণে অনেকে মজুদ করে অপেক্ষার পরামর্শ দিলেও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক এখন চরম সংকটে দিন পার করছেন।

কয়েক বছর ধরেই উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে লবণ বিক্রি করে লোকসানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লবণচাষীরা।

অন্যদিকে চলমান নভেল করোনাভাইরাস সংকটের কারণে ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না লবণের। ফলে অনেক কৃষক মাঠে লবণ রেখেই সরে যাচ্ছেন। চলমান তাপদাহের পর যেকোনো সময় বৃষ্টিপাত হলে মাঠের লবণ নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য কৃষকদের হয় এখনই এসব লবণ বিক্রি করে দিতে হবে, নয়তো মাঠেই গর্ত করে প্লাস্টিক আবরণ দিয়ে মজুদ করতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো এর জন্যও আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন, যে ধাক্কা এখন আর নিতে পারছেন না কৃষকরা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), লবণচাষী ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, দেশে নিবন্ধিত লবণচাষীর সংখ্যা ৩০ হাজার ৬০০। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ১৪০ টাকা দামে লবণ বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। যদিও বিসিকের হিসাবে গড় দাম হচ্ছে ১৫৩ টাকা। অথচ প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয় প্রায় ২০০ টাকা। সর্বশেষ তিন বছর আগে লাভে লবণ বিক্রি করেছিলেন চাষীরা। সে সময় পণ্যটির দামও উঠেছিল সর্বোচ্চে। কিন্তু এরপর থেকে প্রতিবারই লোকসানে লবণ বিক্রি করছেন তারা।

বর্তমানেও কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়া ও ভাড়া বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানায় লবণের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। ফলে এবার লবণের দাম নেমে এসেছে অস্বাভাবিক কমে। চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাপারীরা লবণ ক্রয় করলেও কৃষকদের নগদ টাকা দিতে পারছেন না। এ কারণেও অনেকে বড় ধরনের লোকসান দিয়েও লবণ বিক্রি করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিক কক্সবাজারের উপমহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, চলমান নভেল করোনাভাইরাসের সংকটে চাষীরা লবণের ভালো দাম পাচ্ছেন না। সারা দেশের শিল্প-কারখানা পুরোদমে চালু হলে লবণের দাম আবারো সহনীয় পর্যায়ে উঠে যাবে। উৎপাদন খরচ তুলে আনা ও লাভের জন্য দাম বেড়ে যাওয়া পর্যন্ত কৃষকদের অপেক্ষা করতে হবে। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে আমরা এরই মধ্যে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ ও এনজিও থেকে ঋণ সুবিধা নিয়ে দিতে তত্পরতা চালাচ্ছি। শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনে লবণের দাম স্ট্যান্ডার্ড পর্যায়ে নির্ধারণের সুপারিশও করা হয়েছে। আশা করছি, চলমান বাণিজ্যিক সংকট কেটে গেলে লবণচাষীরাও লাভের মুখ দেখবেন।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দেশে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন। ৫৭ হাজার একর জমি থেকে এরই মধ্যে (২৮ মার্চ পর্যন্ত) ৮ লাখ ৮৩ হাজার টন লবণ উত্তোলন হয়েছে। ২০১৯ সালে ৬০ হাজার একর জমিতে ১৮ লাখ টন লবণ

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময় উৎপাদন হয়েছিল ১৮ লাখ ২৪ হাজার টন।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা  বলেন, লবণ শিল্প কেবল মাত্র কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার হত দরিদ্র লবণ চাষিদের স্বার্থ রক্ষা করে না। এ শিল্প স্বার্থ রক্ষা করে গোটা দেশের ১৬ কোটি মানুষের। তাই দেশের মানুষের স্বার্থে লবণ চাষীদের রক্ষায় এগিয়ে আসা উচিত।

70 ভিউ

Posted ৫:০০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com