বুধবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বুধবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা চিকিৎসায় কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ নেই কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে

বুধবার, ০৩ জুন ২০২০
10 ভিউ
করোনা চিকিৎসায় কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ নেই কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২ জুন) :: কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় রোগীদের লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার জেলা সদর সরকারি হাসপাতালে। ফলে নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হলেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

গত শনিবার (৩০ মে) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে করোনার উপসর্গ শ্বাসকস্ট নিয়ে শহরের নুনিয়ারছড়ার ৩২ বছরের এক যুবক অক্সিজেনের অভাবে মারা গেলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখায় জেলাবাসী। এর ফলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অস্বস্থিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে আন্দোলনেরও ডাক দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

জানা যায়,সম্প্রতি লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপনের জন্য ন্যাশন্যাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে একটি চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়েছে, গণপূর্ত বিভাগ নির্মিত সরকারি হাসপাতালগুলোয় মেডিকেল গ্যাস পাইপলাইন সিস্টেম থাকলেও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল সহ দেশের অধিকাংশ হাসপাতালে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক নেই। ফলে কভিড-১৯ রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের জন্য এখনো যেসব হাসপাতালে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়নি, সেগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপনের প্রয়োজনে গ্যাস সিস্টেম লাইন সম্প্রসারণের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।

এ ৩৯ হাসপাতালের তালিকায় নাম রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও। এখানকার করোনা ইউনিটে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই। আছে শুধু আইসিইউতে। একই অবস্থা শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেও। সেখানে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ আছে শুধু আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়ালাইসিস কেন্দ্রে। মুগদা জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও সেটি পুরোপুরি কার্যকর নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়ে অল্প কিছু ক্ষেত্রে কাজ চালিয়ে নেয়া হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। আবার কমপ্রেসড অক্সিজেনের চেয়ে লিকুইড অক্সিজেন ব্যবহার করা তুলনামুলক সহজ। শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেই রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মন্ত্রণালয় গঠিত মিডিয়া সেলের ফোকাল পয়েন্ট মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের সুযোগ নেই। যেসব হাসপাতালে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক এখনো স্থাপন করা হয়নি, সেসব হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন যেসব হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে, সেখানে শুরু থেকেই যাতে এসব জরুরি বিষয় সংযুক্ত রাখা হয়, সে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন কক্সবাংলা-কে বলেন,সদর হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহের তুলনায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা কম।তবে আইসিও স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। কারণ হাসপাতালে আইসিও রোগী এবং কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের জন্য অক্সিজেন প্ল্যান্ট বাধ্যতামূলক থাকতে হবে। তিনি আরও জানান, রামু এবং চকরিয়া হাসপাতালে দ্রুত সময়ের মধ্যে অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো হবে।

এদিকে কক্সবাজারের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল। এক বার্তায় তিনি জানান “কক্সবাজার সদর হাসপাতালে অক্সিজেন ব্যবস্থার স্বল্পতা রয়েছে। এই ক্রান্তিকালে কোভিট-১৯ পজিটিভ রোগীদের জীবন বাঁচাতে অক্সিজেন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমত অবস্থায় সদর হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করে কোভিট-১৯ রোগীদের সহায়তা করতে কক্সবাজারের সুপ্রতিষ্ঠিত বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”

অপরদিকে চলমান করোনা মহামারিতে কক্সবাজারে ব্যাপকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শ্রীম্প হ্যাচারী এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে কক্সবাজারের সকল করোনা আইসোলেশন সেন্টারে অক্সিজেন সিলেন্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসোসিয়েশন এর সভাপতি আশেক উল্লাহ রফিক এম.পি ও মহাসচিব মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম হ্যাচারী মালিক, হ্যাচারী খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, পোনা বহনকারী এয়ার কর্গো ব্যবসায়ীদের সাথে টেলি কনফারেন্সে এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এসোসিয়েশন এর মহাসচিব মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন,সংগঠনের সভাপতি আশেক উল্লাহ রফিক এম পি মহোদয় এর আহ্বানে দু এক দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন এর কাছে এই মেডিক্যাল অক্সিজেন সিলেন্ডার হস্তান্তর করা হবে।

ডেথ সার্টিফিকেট লিখবে কক্সবাজারের জনগন – ছাত্র ইউনিয়ন 

শত অনুনয়েও করোনার টেস্ট ছাড়া ভর্তি করছে না কেউ, মুমূর্ষু রোগী নিয়ে অসহায় স্বজনরা ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে৷ এক পর্যায়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন রোগী৷ তাদের মৃত্যুর কারণ কিন্তু করোনা ভাইরাস নয়৷ প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের পর গত দুই মাসে সদর হাসপাতাল কতৃপক্ষের দ্বায়িত্বহীনতা,দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার নার্সদের অনুপস্থিতির কারনে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে৷ কিছু মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে উঠে এসেছে৷ কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বজন হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরেছেন, প্রকাশ করেছেন ক্ষোভ৷ কিছু মৃত্যু আড়ালেই রয়ে যাচ্ছে৷ সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার শহরের ব্যাবসায়ী নাগু কোম্পানির মৃত হওয়ার অনেক সময় পর জানা গেছে লোকটি করোনা অাক্রান্ত ছিলো। এর মাধ্যমেই স্বাস্থ্য খাতের চরম অবনতি ও দ্বায়িত্বে অবহেলার চিত্র ফুঁটে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছ ছাত্র ইউনিয়ন। ছাত্র ইউনিয়ন কক্সবাজার জেলা সংসদের দপ্তর সম্পাদক অাপন দাশ সাক্ষরিত প্রতিবাদ লিপিতে কক্সবাজার জেলা সংসদের সভাপতি অন্তিক চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম মারমা জানান, করোনা টেস্টের রির্পোট না থাকলে হাসপাতালে ডাক্তারেরা রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসায় অস্বীকৃতি জানানো, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকা, কর্তব্যরত ডাক্তারের অনুপস্থিতি, সদর হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির নামে কক্সবাজার-৩ অাসনের সংসদ সদস্য নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট, কক্সবাজার সিভিল সার্জন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকলের কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য ও অাচরন জনগনকে মৃত্যু পথে ঠেলে দিচ্ছে। এই মূর্হুত্তে জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার ব্যার্থতার প্রমান পৌর চেয়ারম্যানের করোনা চিকিৎসা গ্রহনে ঢাকায় যাত্রা। করোনা চিকিৎসায় ফান্ড গঠনের নামে এনজিও সহ বিভিন্ন প্রতিষ্টানের লক্ষাধিক টাকার হিসাব কড়ায় গন্ডায় বুঝে নিবে জনগণ। করোনা মহামারী চলাকালীন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তৈরী হওয়া সমস্ত সংকট নিরসন করা এখন সময়ের দাবী। তা না হলে দীর্ঘ দিন চলতে থাকা উন্নয়ন নাটকের শেষ দৃশ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও উন্নয়ন নাটকের নায়কদের ডেথ সার্টিফিকেট সাইন করবে কক্সবাজারের জনগন। এরই সাথে কক্সবাজার জেলার সচেতন জনগণকে নিজ নিজ জায়গা থেকে রাষ্ট্রের চরম দূর্যোগে সদর হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যাবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবার অাহব্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

10 ভিউ

Posted ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৩ জুন ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.