শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা তান্ডবে বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজার চালু থাকলেও বাংলাদেশে বন্ধ

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০
11 ভিউ
করোনা তান্ডবে বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজার চালু থাকলেও বাংলাদেশে বন্ধ

কক্সবাংলা ডটকম(১৩ এপ্রিল) :: নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার মধ্যেও বিশ্বব্যাপী থেমে নেই শেয়ারবাজারের কার্যক্রম। অটোমেটেড ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় সব দেশেই চালু রয়েছে লেনদেন। অথচ অটোমেটেড পদ্ধতিতে লেনদেন চালুর পর ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যক্তিনির্ভরতা কাটাতে না পারায় বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্ধ রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার। এতে বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরাও।

নভেল করেনাভাইরাসের প্রভাবে শেয়ারবাজারে ধস নামলেও অধিকাংশ দেশেই লেনদেন চালু রয়েছে। এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার এরই মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কা কিছুটা সামলে নিয়েছে। জাপানে জরুরি অবস্থা জারির পরও শেয়ারবাজার চালু রাখা হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াবহ আক্রমণে পর্যুদস্ত ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রেও চালু রয়েছে শেয়ারবাজার। ফিলিপাইন দুদিনের জন্য শেয়ারবাজার বন্ধ রাখলেও পরবর্তী সময়ে আবারো চালু করেছে।

এমনকি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীনের শেনঝেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনও চালু রয়েছে। এছাড়া বেশকিছু দেশে সময়সীমা কমিয়ে এনে হলেও বাজারের লেনদেন চালু রাখা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় শেয়ারবাজারের কার্যক্রম।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১৯৯৮ সালে অটোমেটেড পদ্ধতিতে লেনদেন চালু হয়। কিন্তু অটোমেটেড লেনদেন চালুর পর ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেয়ারবাজার সচল রাখতে ব্যক্তির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক এখানে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন্স সিস্টেমের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর অ্যাকাউন্টিং ফর ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. মিজানুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজার কখনো বন্ধ হয় না। এর কারণ হচ্ছে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকে অন্যতম লিকুইড অ্যাসেট হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমানে শেয়ারবাজার বন্ধ থাকায় বিনিয়োগকারীরা তাদের সম্পদ বিক্রি করতে পারছেন না। এটি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শেয়ারবাজারে একটি কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ অটোমেটেড সিস্টেম গড়ে তুলতে না পারার পেছনে স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসির পাশাপাশি সরকারেরও দায় রয়েছে।

শেয়ারবাজার পরিচালনার সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট রয়েছেন, তারা দক্ষতার সঙ্গে একটি কার্যকর বাজার গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে দ্রুত লেনদেন চালু করা উচিত। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজে না এসে টেফিফোন, অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপস, যার যেটা সুবিধা সেভাবে লেনদেন করবেন।

শেয়ারবাজার চালু রাখার সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জসহ ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কার্যক্রম চালু রাখার সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সীমিত আকারে লেনদেন চলছে। অন্যদিকে সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে বিএসইসি, সিডিবিএল, স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ কারণে বাজারের কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

শেয়ারবাজার বন্ধ থাকার বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, উন্নত বিশ্বের শেয়ারবাজার পুরোপুরি অটোমেটেড ও অনলাইন প্লাটফর্মভিত্তিক। সেখানে মোবাইল অ্যাপগুলো অনেক কার্যকরী। যেমন শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জের পুরো লেনদেন মোবাইলে হয়। সেখানে একটি ইন্টিগ্রেট সিস্টেম রয়েছে। এ সিস্টেমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, সেন্ট্রাল ডিপোজিটুর ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি সবাই সম্পৃক্ত। কিন্তু আমাদের এখানে পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলাদেশে বিএসইসি যদি বন্ধ থাকে, স্টক এক্সচেঞ্জও বন্ধ রাখতে হয়। পাশাপাশি সিডিবিএলও বন্ধ। ফলে ডিএসইকে চালু রাখা কিছুটা কষ্টকর বিষয়।

সরকার যদি ছুটি আরো বাড়ায়, সেক্ষেত্রে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের পর্ষদের সিদ্ধান্ত সরকারি ছুটি যদি বাড়ে, দুঃখজনক হলেও এটাই বাস্তবতা যে আমাদের লেনদেন বন্ধ থাকবে। তবে যদি বিএসইসি খোলা রাখে, সেক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

অবশ্য শেয়ারবাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি, বরং সরকারি ছুটি ঘোষণার কারণেই স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান মো. ইউনূসুর রহমান। তিনি  বলেন, পুঁজিবাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত কিন্তু স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার কারণে স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে এটি ঠিক যে দীর্ঘদিন স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ থাকলে বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এ সপ্তাহের মধ্যে আমরা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে পর্ষদ সভা করব। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সাধারণ ছুটি যদি ২৫ এপ্রিলের পর আরো বাড়ানো হয়, সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিচেনায় সীমিত পরিসরে হলেও পুঁজিবাজার চালু রাখা যায় কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

ডিএসইসির পাশাপাশি লেনদেন বন্ধ রয়েছে দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। তবে লেনদেন চালু রাখা যায় কিনা সে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম।

তিনি বলেন, পুরোপুরি অটোমেটেড না হওয়ার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের এখানে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অবশ্য লেনদেন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। তাই লেনদেন চালু করা সম্ভব কিনা এ বিষয়ে আমাদের পর্ষদ সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন বোধে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

লেনদেনের জন্য ডিএসইর মোবাইল অ্যাপস থাকলেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই এটি ব্যবহার করছেন না। তাছাড়া টেলিফোন ও অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে লেনদেন করার সুযোগ থাকলেও তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়নি। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী এখনো ব্রোকারেজ হাউজে গিয়েই লেনদেনে অভ্যস্ত। অন্যদিকে সিএসইতে মোবাইল অ্যাপস নেই।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডিএসই মোবাইল অ্যাপসে মোট ৫২ হাজার ৮০৬ বিনিয়োগকারী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ডিএসই ইনভেস্টর অ্যাপসে নিবন্ধন করেছেন ১৭ হাজার ২২৮ জন। ডিএসই মোবাইল ট্রেডারে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪৮। আর ডিএসই মোবাইল ভিআইপিতে নিবন্ধন করেছেন ১ হাজার ৫৩০ জন। ডিএসই মোবাইল অ্যাপসটি চালু হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬৩টি অর্ডার বা লেনদেনের আদেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে কার্যকর হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৩টি অর্ডার।

দেশে শেয়ারবাজার চালু রাখতে হলে বিএসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগ খোলা রাখতে হয়। কিন্তু সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে বিএসইসি বন্ধ রয়েছে। ফলে স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু রাখতে চাইলেও বিএসইসি বন্ধ থাকলে সেটি সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, যদি স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ারবাজার চালু রাখতে চায়, তাহলে বিএসইসির পক্ষে সার্ভিল্যান্স বিভাগ চালু রাখার বিষয়টি কঠিন কিছু নয়। অতীতে বন্ধের দিনেও বিএসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগ চালু রাখার নজির রয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে লেনদেন চালুর বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব আসেনি। যদি এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আসে, তাহলে কমিশন সেটি বিবেচনা করে দেখবে। অবশ্য সবার আগে জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। শেয়ারবাজার চালু হলে স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

এদিকে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি ছুটি আরো দীর্ঘায়িত হলে এবং শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকলে ব্রোকারেজ হাউজ ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট ও ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ছায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার চালু রাখতে হলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোয় অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মীর উপস্থিতি থাকতেই হবে। আবার বর্তমানে ব্যাংকিং লেনদেনের সময়সীমা সীমিত করে আড়াই ঘণ্টা করা হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে শেয়ারবাজারে ৪ ঘণ্টা লেনদেন হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে লেনদেন চালু করলে সেটি ২ ঘণ্টার কম হলে চলবে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লেনদেন বন্ধ থাকায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয়ও বন্ধ। লেনদেন যদি আরো দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান আরো বাড়বে। তাছাড়া লেনদেন বন্ধ থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী জরুরি প্রয়োজন হলেও শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ নিতে পারছেন না। তাই সবকিছু বিবেচনা করে যদি লেনদেন চালু করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি ইতিবাচক হবে।

11 ভিউ

Posted ২:২৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.