এরই মাঝে আমেরিকাতেই করোনা প্রতিষেধক টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। তবে সেটি পরীক্ষামূলক স্তরে বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এবার ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্লোরোকুইন নামের ওষুধটি নিয়ে নতুন পরীক্ষা শুরু।

এই ক্লোরোকুইন করোনাভাইরাস রুখতে কাজ করবে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ সংস্থা (এফডিএ)। তবে আগেই সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য ক্লোরোকুইন এবং রিমাদেসিভি (ইবোলা ও মারবার্গ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যবহৃত) নামের ওষুধের নাম বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর করোনা ঠেকাতে ক্লোরোকুইন কার্যকরী বলে জানিয়ে দিল এফডিএ। এই ওষুধ নিয়ো আরও পরীক্ষার প্রয়োজন আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসায় ক্লোরোকুইন ভালো ফল দিয়েছে। আমরা প্রেসক্রিপশন দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওষুধটি সরবরাহ করতে পারব।

এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে ইতালিতে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। শনিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরুর পর একদিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এনিয়ে দেশটিতে মোট চার হাজার ৮২৫ জনের মৃত্যু হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।.

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যায় চীনকে গত বৃহস্পতিবারই পেছনে ফেলেছে ইতালি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৪৫ জনের। তবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে এর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।

ইতালির সিভিল প্রটেকশন সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিলো ৪৭ হাজার ২১ জন। দেশটির সবচেয়ে উপদ্রুত এলাকা লোমবার্দের অবস্থা এখনও মারাত্মক। ওই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত মাসে ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় লোমবার্দে এই এলাকাতেই প্রথম ভাইরাসটির প্রকোপ শুরু হয়। বর্তমানে সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। সেখানে সহায়তা দিচ্ছেন চীনের মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, লোমবার্দেতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট কঠোর নয়। ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন কার্যকর করে নাগরিকদের ঘরে থাকতে বাধ্য করতে শুক্রবার থেকে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

ইতালিতে আক্রান্তদের মধ্যে মোট ছয় হাজার ৭২ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছে। আর এখনও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট দুই হাজার ৮৫৭ জন।

করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির দেওয়া তথ্য এমনই।সারা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা দু লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি।