বুধবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বুধবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

করোনা মহামরির প্রভাবে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে দ্বিগুণ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০
24 ভিউ
করোনা মহামরির প্রভাবে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে দ্বিগুণ

কক্সবাংলা ডটকম(১৭ অক্টোবর) :: বৈশ্বিক করোনাভাইরাস এর এক নিদারুণ বাস্তবতার মধ্যে এবার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস। যখন মহামারি করোনাভাইরাসের অভিঘাতে গোটা দুনিয়াই নাস্তানাবুদ। শতাব্দীর সবচেয়ে বড় এই দুর্যোগে উন্নত-স্বল্পোন্নত সব দেশই কমবেশি বিপর্যস্ত। কোনোরকম প্রস্তুতি ছাড়াই এত বড় বিপর্যয় মোকাবিলা করতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে। দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশের জন্য এই আক্রমণ মোকাবিলা করা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এপ্রিলে সারাদেশের নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর ব্র্যাকের এক জরিপ থেকে জানা যায়, কভিডে ৭৫ শতাংশ নিম্নবিত্তের মানুষের আয় কমেছে। দরিদ্রদের ৮৯ ভাগ মানুষ অতিদারিদ্র্যের কাতারে নেমে এসেছে। ১৪ শতাংশ মানুষের ঘরে খাবার সংকট। কভিডের আক্রমণে সুরীতির মতো বিশ্বব্যাপী অন্তত ৪০ কোটি মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যসীমায় নেমে এসেছে। নতুন এই সংখ্যা মিলে পৃথিবীতে এখন ১১০ কোটি হতদারিদ্র্য মানুষ। বৈশ্বিক কভিডে শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দায় এখন গোটা দুনিয়া।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এক প্রকার অবরুদ্ধ ছিল সারাদেশ। দফায় দফায় গণছুটির মেয়াদ বৃদ্ধিতে সারাদেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই বন্ধ ছিল। লকডাউন তুলে নেওয়ার পরও কার্যক্রম এখনও স্বাভাবিক হয়নি অনেক প্রতিষ্ঠানে। সক্ষমতা অনুযায়ী পুরো মাত্রায় উৎপাদন শুরু হয়নি শিল্পকারখানায়। অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। বেতনভাতা কাটছাঁট হয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে। কমবেশি আয় ও মুনাফা কমেছে। অধিকাংশ শ্রেণি-পেশার মানুষের আয়েই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

করোনার আক্রমণে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে দিনমজুর, শ্রমিক, ভাসমান নানা পেশার দরিদ্র মানুষ। দেশে এখন অফিস-আদালত খোলা। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও সবই বন্ধ। মিল-কারখানায় কাজকর্ম শুরু হয়েছে। তবে বহু শ্রমিক এখনও কাজ পাননি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে যাদের দোকানপাট, ক্ষুদ্র ব্যবসা ছিল, তা এখনও বন্ধ। এদের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দিনে ১ দশমিক ৯ ডলারের কম আয়ের মানুষ অতিদারিদ্র্য। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬১ টাকা। বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালে হতদারিদ্র্যের এভাবে সংজ্ঞায়িত করে। এর আগে ১ দশমিক ২৫ ডলারের কম আয়ের মানুষকে অতিদারিদ্র্য হিসেবে ধরা হতো। অন্যদিকে, দারিদ্র্য হচ্ছে নূ্যনতম জীবনযাত্রার মান অর্জনের অক্ষমতা।

১৯৯২ সালের ২২ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সভায় প্রতিবছর ১৭ অক্টোবর দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরের বছর ১৯৯৩ সাল থেকেই সারাবিশ্বে এই দিনটি দারিদ্র্য বিমোচন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘ এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘সকলের জন্য সামাজিক এবং পরিবেশগত সুবিচার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে লড়ি’।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক জরিপ বলছে, শুধু কভিডের কারণে যে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে অন্তত ৪০ কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমায় নেমে আসবে। এ কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১১০ কোটিতে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে বিশ্ব। সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কভিডের কশাঘাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা বাইরে রয়েছে। এতে দারিদ্র্যের বহুমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরির বড় আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাড়বে আয়বৈষম্য, শিশুশ্রম ও সামাজিক সহিংসতা।

ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কভিডের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশে দেশে শিশুশ্রম বেড়েছে। এ মুহূর্তে বিশ্বের ১৩০টি দেশের অন্তত ১০০ কোটি শিশুর স্কুল বন্ধ রয়েছে। স্কুল আবার শুরু হলেও বহু দরিদ্র পরিবার সন্তানদের আর স্কুলে পাঠাতে পারবেন না। দারিদ্র্যের কারণে এসব পরিবারের শিশুরা শ্রমে নিযুক্ত হতে বাধ্য হবে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি আরও কিছুটা নাজুক। খোদ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর জুন শেষে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশে ঠেকেছে। অতিদারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। করোনার আগে এই হার ছিল যথাক্রমে ২০ দশমিক ৫ এবং ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিবিএসের জরিপমতে, ২০১৬ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। অবশ্য কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি গবেষণা সংস্থার জরিপের ফল সরকারি হিসাবের তুলনায় বেশি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, করোনায় দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে ৩৫ শতাংশ। মে মাসে গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপে বলে, দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার জরিপের এই ভিন্নতা কেন- জানতে চাইলে জিইডির সদস্য সরকারের সিনিয়র সচিব অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, অন্যান্য সংস্থার হিসাবের কোনো ভিত্তি নেই। তারা সব সময়ই সরকারের হিসাবের বিরোধিতা করে এসেছেন। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এতে কিছু যায়-আসে না। জিইডির হিসাবই নির্ভরযোগ্য। কারণ, পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ডেটা নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পেশাদার গবেষকরাই এই প্রতিবেদন দিয়েছেন।

সানেমের গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়, দারিদ্র্যের হার বিবেচনায় বাংলাদেশ ১৫ বছরের আগে ফিরে যাবে।
কভিডের আগে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রশংসা করে আসছিল সারাবিশ্ব। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের সাফল্যের স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বৈশ্বিক সংস্থা।

তারা এ রকমও বলেছে, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নতির এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্ব। গত দেড় দশকে বাংলাদেশের দুই কোটি ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত দারিদ্র্য কমেছে মোট দারিদ্র্যের অর্ধেকেরও বেশি।

বিশ্বব্যাপী গত তিন দশকে ৯৪ কোটি মানুষ হতদারিদ্র্যের করাল গ্রাস থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি অর্জনে ২০৩০ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে বাংলাদেশসহ এই কাতারের অন্যান্য দেশ।

করোনাকালে দারিদ্র্য হ্রাসে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ ক্যাশ পৌঁছানো, শিল্পকে সহায়তা দিয়ে কর্মসংস্থান ঝরে পড়া রোধসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা, সুশাসনের অভাব, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা বন্যা, আম্পানের আঘাত ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা পদক্ষেপের প্রকৃত সুফল আশানুরূপ মেলেনি। দেখা গেছে, স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ঘরের মাটি খুঁড়ে গরিবদের জন্য বরাদ্দ চালের বস্তা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। নগদ ক্যাশ সহায়তার ক্ষেত্রে এক জনপ্রতিনিধির মোবাইল থেকে শতাধিক নাম নিবন্ধনের ঘটনা ধরা পড়ে। সম্প্রতি ব্র্যাক ইনস্টিটিউিট অব গভর্ন্যান্স ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক জরিপ বলেছে, ৬৫ শতাংশ প্রকৃত গরিব মানুষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এই বাস্তবতায় কভিডের অভিঘাত মোকাবিলা করে দারিদ্র্য বিমোচন সহজ হবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সমকালকে বলেন, কভিডের আগে থেকেই দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কিছুটা ধীর ছিল। এই নাজুক অবস্থা কভিডে একেবারে ভেঙে পড়েছে। দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকা শ্রেণিও নতুন করে দারিদ্র্যের কাতারে ভিড় জমিয়েছে।

কভিডকালে সরকারের সদিচ্ছা এবং কিছু ভালো পদক্ষেপ সত্ত্বেও দরিদ্রদের সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে ভালো উদ্যোগগুলো তেমন ভালো ফল দেয়নি। পাঁচ দফা বন্যা পরিস্থিতিকে আরও বাজে অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরও বেড়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অনুযায়ী দারিদ্র্য বিমোচন হয়তো সম্ভব হবে না। এই কঠিন বাস্তবতায় দারিদ্র্য বিমোচনে প্রক্রিয়াগত দুর্বলতায় নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। নতুন কিছু নীতিও নেওয়া যায়- যাতে হতদারিদ্র্যরা আয়ের একটা অবলম্বন করে নিতে পারে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে টিকিয়ে রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ, বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবিকার জোগানে বড় উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

24 ভিউ

Posted ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com