মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

করোনা মহামারীতে বেড়েছে নগদ অর্থের লেনদেন

বুধবার, ০৫ মে ২০২১
48 ভিউ
করোনা মহামারীতে বেড়েছে নগদ অর্থের লেনদেন

কক্সবাংলা ডটকম(৫ মে) :: অনেক আগেই লেনদেন ব্যবস্থা প্লাস্টিক মানি বা কার্ডে রূপান্তর করেছে উন্নত বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলো এখন ঝুঁকছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রায়। চীন চালু করেছে নিজস্ব ই-কারেন্সি ব্যবস্থা। করোনাভাইরাসের মতো বৈশ্বিক মহামারী লেনদেন ব্যবস্থা থেকে নগদ শব্দটিই বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। চলমান মহামারীতে এ অঞ্চলে নগদ অর্থের লেনদেন না কমে উল্টো বেড়েই চলছে।

দেশের লেনদেন ব্যবস্থা ডিজিটাল করে তোলার আলোচনা শোনা যাচ্ছে কয়েক বছর ধরে। যদিও পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের মানুষ নগদ টাকা ঘরে রাখার প্রবণতা থেকে বেরোতে পারেনি। উল্টো দেশের মানুষ আগের তুলনায় বেশি নগদ অর্থ নিজেদের কাছে রাখছে। চলমান মহামারী নগদ অর্থ ঘরে রাখার প্রবণতাকে আরো বেশি উসকে দিয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইস্যু করা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। নগদ এ অর্থের মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকাই ছিল ব্যাংকের বাইরে বা জনগণের হাতে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ইস্যুকৃত নোটের প্রায় ৯৫ শতাংশ। দেশের মোট ব্যাংক আমানতের ১৭ দশমিক ৭ শতাংশই ছিল ইস্যুকৃত নোট।

নগদ টাকা ঘরে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিত্র প্রতিবেশী দেশ ভারতেও। ডিজিটাল লেনদেন ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি কালো টাকার দৌরাত্ম্য কমানোর কথা বলে পাঁচ বছর আগে ‘নোটবন্দি’র ঘোষণা দিয়েছিল ভারত। বাতিল করা হয়েছিল ৫০০ ও ১ হাজার রুপির সব নোট, যা দেশটির মোট নগদ অর্থের প্রায় ৮৬ শতাংশ। তীব্র বিরোধিতা উপেক্ষা করে ‘নোটবন্দি’র সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। যদিও পাঁচ বছর পর দেখা যাচ্ছে, ভারতে নগদ অর্থের পরিমাণ কমেনি। উল্টো করোনাভাইরাস ভারতীয়দের নগদ অর্থ ঘরে রাখতে অনেক বেশি উৎসাহিত করেছে। ২০২০ সালে দেশটির মোট ব্যাংক আমানতের ১৬ দশমিক ৮ শতাংশই ছিল নগদ।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা ও শাখা বেড়েছে। বেড়েছে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, এটিএম বুথ, পিওএস মেশিনের মতো ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যম। মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো প্রযুক্তিনির্ভর সেবাও যুক্ত হয়েছে অর্থনীতিতে। অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটার বাজারও অনেক বেশি সম্প্রসারিত হয়েছে। আবার প্রযুক্তির উত্কর্ষে ব্যাংক খাতে যুক্ত হয়েছে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সেবা। সে হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে নগদ টাকার প্রবাহ কমে আসার কথা। যদিও পরিসংখ্যান বলছে, দেশে নগদ অর্থের পরিমাণ ও হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

দেশের সামগ্রিক লেনদেন ব্যবস্থা ডিজিটাল না হওয়ার কারণেই নগদ অর্থের চাহিদা কমছে না বলে মনে করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন।  তিনি বলেন, দেশের প্রযুক্তিভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থাও অনেকটাই নগদনির্ভর। এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো প্রযুক্তিনির্ভর সেবাগুলোকে মানুষ নগদ টাকা উত্তোলনের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহার করছে। দেশের লেনদেন ব্যবস্থা এখনো ডিজিটাল নয়। কেনাকাটা, ইউটিলিটি বিল, যাতায়াত ভাড়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন লেনদেনের প্রায় শতভাগই এখনো নগদনির্ভর। এ কারণে সাধারণ মানুষ নিজেদের কাছে নগদ টাকা রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, সামগ্রিকভাবে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা না হলে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমানো যাবে না। অবকাঠামো গড়ে তুলতে হলে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে দেশে কালোটাকার দৌরাত্ম্যও কমে আসবে।

যেকোনো সমাজে সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় নগদ অর্থের নোট। এজন্য চীনের উহানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাজার থেকে ব্যবহূত নোট তুলে নেয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে এমনিতেই নগদ অর্থের লেনদেন খুবই কম। তার পরও করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে ডিজিটাল লেনদেনে জোর দিয়েছে ওইসব দেশের নাগরিকরা। এক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজারে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ২২ দশমিক ১৩ শতাংশ। যদিও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ নগদ অর্থ বেড়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে চলে যাওয়া কাগুজে মুদ্রার পরিমাণ বেড়েছে ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ।

অর্থনীতির চাহিদার নিরিখে মুদ্রা ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার। বাংলাদেশে সরকারি মুদ্রা হলো ১, ২ ও ৫ টাকার নোট এবং কয়েন। সরকারের ইস্যুকৃত এ ধরনের মুদ্রা রয়েছে ১ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ও গভর্নরের স্বাক্ষরযুক্ত নোট ব্যাংক নোট হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক নোট হলো ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার কাগুজে মুদ্রা। অর্থনীতির আকার বিবেচনায় বাংলাদেশে ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকার নগদ অর্থ যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ১০-১২ শতাংশ নগদ হিসেবে বাজারে থাকাই যথোপযুক্ত। কিন্তু এক দশক ধরে বাজারে নগদ অর্থের পরিমাণ ও হার বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১০ সালে দেশের ব্যাংক খাতে নগদ অর্থ ছিল ৪৬ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। এর পর থেকে প্রতিবছরই ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৬ সালে এসে এ অর্থের পরিমাণ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে ওই বছরও ব্যাংক খাতের মোট আমানতের সাড়ে ১৩ শতাংশ নগদে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭০ কোটি টাকা। নগদ এ অর্থের প্রায় ৯৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬২ কোটি টাকাই ব্যাংকের বাইরে।

গত বছরের মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এটি কার্যকর ছিল টানা ৬৬ দিন। লকডাউনের সময়ে দেশে নগদ টাকার চাহিদা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ২০২০ সালের জুলাই শেষে ব্যাংক খাতে নগদ অর্থের পরিমানণ দাঁড়ায় ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। নগদ এ অর্থের মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকাই গ্রাহকদের ঘরে চলে যায়। করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ঘরে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকে ফিরতে শুরু করে। তবে চলতি বছরে মহামারীর দ্বিতীয় ধাক্কায় ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ আরো বেড়েছে।

করনীতিসহ সরকারের বিভিন্ন নীতিগত বৈষম্যের কারণে দেশে নগদ লেনদেন উৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক বলেন, যেকোনো ডিজিটাল লেনদেনের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ নগদ টাকায় কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। গুটিকয়েক শপিং মল আর হোটেল-রেস্টুরেন্ট বাদ দিলে দেশের কোথাও ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবস্থা নেই। দোকানদাররাও চান লেনদেন নগদে হোক। এ অবস্থায় দ্রুতই নগদ অর্থের চাহিদা কমবে না।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে কোনো অর্থ স্থানান্তর করলেই তার জন্য শুল্ক দিতে হয়। ঋণের ওপরও শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রতিটি লেনদেনে শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। এভাবে একটি দেশের লেনদেন ব্যবস্থা ডিজিটাল করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাশলেস সমাজ নির্মাণের কোনো উদ্যোগও নেই।

অর্থনীতিতে কালো টাকার প্রভাব বেড়ে গেলে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণও বেড়ে যায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে নগদভিত্তিক অর্থনীতির আকার (ক্যাশবেজড ইকোনমি) দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৬৯৫ কোটি টাকার। যদিও ২০১০ সালে বাংলাদেশে নগদভিত্তিক অর্থনীতির আকার ৮০ হাজার কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ ছিল।

ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের বড় অংশই কালো টাকা বলে মনে করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান। তিনি বলেন, অপরাধীরা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ব্যাংকে রাখতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে এ অর্থের একটি অংশ দেশ থেকে পাচার হচ্ছে, অন্য অংশ বাড়িতে সিন্দুক বা বালিশ-তোষকে ঢুকছে। সিন্দুকে ঢুকে যাওয়া অর্থ দেশের অর্থনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখে না। লেনদেন ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজিটাল না হওয়া পর্যন্ত নগদ অর্থের চাহিদা কমবে না।

ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের অন্তত ২৫ শতাংশের কোনো হদিস নেই বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ইস্যুকৃত মুদ্রার পরিসংখ্যান তৈরি করে। বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির একটি দেশে কী পরিমাণ নগদ অর্থের প্রয়োজন সেটিও পর্যালোচনা করা হয়। কিন্তু কোনো পরিসংখ্যানেই ইস্যুকৃত অর্থের অন্তত ২৫ শতাংশের অবস্থান নির্ণয় করা যাচ্ছে না। এটি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও উদ্বেগ রয়েছে।

48 ভিউ

Posted ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৫ মে ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com