এলন মাস্কের মতো উদ্যমী মানুষদের বাদ দিলে অন্য কারও আসলে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের আগ্রহ থাকার কথা না। এর পিছনে দায়ী মঙ্গলের চরম ভাবাপন্ন পরিবেশ। অত্যন্ত পাতলা বায়ুমণ্ডলের কারণে মঙ্গলে নিঃশ্বাস নেয়া একেবারেই অসম্ভব। তীব্র ঠান্ডা, মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে এমন কম বায়ুচাপ এবং বিপজ্জনক সৌর বিকিরণের হাত থেকে রক্ষার জন্য বলতে গেলে কোন প্রতিরক্ষা না থাকা এমন নানাবিধ কারণে মঙ্গলে জীবনধারণ এক কথায় অসম্ভব রকমের কঠিন ও ব্যয়বহুল।

মহাকাশে কলোনির কথা বললে মঙ্গলের কথাই প্রথমে মনে আসে; Image Source: Universe Today

অন্যদিকে শুক্র গ্রহেরও নানা রকম সমস্যা আছে। এর পৃষ্ঠের পরিবেশ ভয়ংকর রকমের বিপজ্জনক। আমাদের জানা পৃথিবীর সাথে তুলনা করলে সেখানেও জীবন ধারণ অসম্ভব। তবে বাহ্যিকভাবে শুক্রের সাথে পৃথিবী পৃষ্ঠের কিছু মিল আছে। শুক্রের মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর মাধ্যকর্ষণের প্রায় ৯০%, আর আমরা সূর্য থেকে যতটা দূরে আছি, শুক্র গ্রহ সেই দূরত্ব থেকে মাত্র ৩০% কম দূরত্বে আছে সূর্য থেকে। তবুও সেখানে প্রধান ও ভয়ঙ্কর একটি পার্থক্য আছে। যেখানে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল অতিরিক্ত পাতলা সেখানে শুক্রের বায়ুমণ্ডল অতিমাত্রায় ঘন। পৃথিবী থেকে শুক্রের বায়ুমণ্ডল ৯০ গুন বেশি ঘন। এই ঘন বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান কার্বন-ডাই-অক্সাইড। আর এই ঘন বায়ুমণ্ডল আবৃত থাকে সালফিউরিক এসিডের মেঘ দ্বারা।

শুক্রের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর থেকে ৯০ গুন ঘন; Image Source: Science News

এই কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রীন হাউস ইফেক্টের মাধ্যমে সূর্যের বিপুল পরিমাণ তাপ তার পরিবেশে ধরে রাখে, ফলে শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠ সবসময় থাকে অতিমাত্রায় গরম। সূর্যের নিজের পৃষ্ঠ বাদ দিলে শুক্রের পৃষ্ঠই এই সৌরজগতের সব থেকে উত্তপ্ত জায়গা। শুক্রের তাপমাত্রা সব সময়েই থাকে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে, এই তাপমাত্রায় জিংক, পারদ বা যেকোন জৈব উপাদানকে গলিয়ে ফেলতে পারে। সেই সাথে আছে ভারী ও ঘন বায়ুমণ্ডলের বিপুল চাপ। পৃথিবীতে পানির এক কিলোমিটার নীচে যে চাপ অনুভূত হবে শুক্রের পৃষ্ঠে সেই একই চাপ অনুভূত হবে আর এই বিশাল চাপ একটি নিউক্লিয়ার সাবমেরিনকেও চিড়ে চ্যাপ্টা বানিয়ে দিতে পারে।

তাহলে এই রকম ভয়ঙ্কর জায়গায় আমরা কিভাবে বসতি স্থাপন করব? উত্তর হল ভূপৃষ্ঠকে এড়িয়ে যাওয়া। এমনকি শুক্র গ্রহে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ এতটাই বেশি যে এর বায়ুমণ্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইড অধিক চাপে “সুপার ক্রিটিকাল ফ্লুইড” নামের পদার্থের এক অদ্ভুত অবস্থায় পরিণত হয়ে ভূপৃষ্ঠে গলে পরে। এই সুপার ক্রিটিকাল ফ্লুইড না গ্যাসীয় পদার্থ না তরল পদার্থ, এই দুটোর মাঝামাঝি একটি অবস্থান এবং তরল ও গ্যাসীয় দুই ধরণের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। আমাদের পৃথিবীতে এই সুপার ক্রিটিকাল কার্বন-ডাই-অক্সাইড কে অত্যন্ত বিষাক্ত ও বিপজ্জনক হিসেবে দেখা হয়। এই পদার্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলভেন্ট ও স্টেরিলাইজার হিসেবে খুব সাবধানতার ব্যবহার করা হয়। আর শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠ আক্ষরিক অর্থে এই বিষাক্ত পদার্থের সাগরে ডুবে আছে।

ভেনেরা ১৩ থেকে পাওয়া শুক্রের পৃষ্ঠের ছবি; Image Source: Astronomy Stack Exchange

অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন ৬০,৭০ আর ৮০’র দশকে শুক্র গ্রহে বেশ কিছু প্রোব পাঠিয়েছিল। তাদের অধিকাংশই শুক্রের ভয়ংকর বায়ুমণ্ডলে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল আর বাকিগুলো ভূপৃষ্ঠে ভেঙে পড়েছিল। এগুলোর মাঝে ব্যতিক্রম ছিল ‘ভেনেরা ১৩’। শুক্রের নারকীয় তাপ ও চাপে ভর্তা হয়ে যাবার আগে এটি ২ ঘন্টা টিকে ছিল ও বেশ কিছু ছবি তুলে পাঠিয়েছিল। ছবিগুলো ছিল শুষ্ক, পাথুরে ও এলিয়েন সদৃশ লাল রঙের।

তাহলে আমরা কি করে এই বন্ধুর গ্রহে বসবাসের কল্পনা করব? এর উত্তর হচ্ছে আমাদের ভূপৃষ্ঠকে এড়িয়ে যেতে হবে। প্রথম যারা শুক্রকে বসতি স্থাপনের উপযোগী ভেবেছিলেন তাদের মধ্যে একজন, নাসার বিজ্ঞানী ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক জিওফ্রে ল্যান্ডিস বলেন, “প্রাণ ধারণের উপযোগীতার হিসেবে শুক্রের পৃষ্ঠ, পৃথিবীর পৃষ্ঠের অনেক নীচে অবস্থান করছে। এই সৌরজগতে অন্যান্য গ্রহের থেকে শুক্র গ্রহের পৃথিবীর সাথে মিল সব থেকে বেশি”। তবে আশ্চর্যজনক ভাবে পৃষ্ঠ থেকে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার উপরে শুক্র গ্রহ অনেক বেশি অতিথিপরায়ণ।

পৃষ্ঠের অনেক উপরে শুক্রের আবহাওয়া বেশ সহনশীল; Image Source: Astronomy Magazine

প্রথমত ওই উচ্চতায় শুক্র গ্রহের বায়ুচাপ পৃথিবীর বায়ুচাপের কাছাকাছি। আর অনেক পুরু বায়ুমণ্ডল থাকার কারণে শুক্র গ্রহের ওই উচ্চতার উপরে সূর্যের ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা থাকবে। ওই উচ্চতায় তাপমাত্রাও থাকবে পৃষ্ঠের তুলনায় অনেক বেশি সহনশীল, মাত্র ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস! পৃষ্ঠে যেখানে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, সেই তুলনায় ৬০ ডিগ্রিকে অবশ্যই সহনশীল বলতে হবে। আর শুক্র গ্রহ পর্যন্ত যেয়ে যদি আমরা বসতি স্থাপন করতে পারি তাহলে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে সহনশীল করে নেবার প্রযুক্তিও আমরা বের করতে পারব। আর বিকিরণের ঠেকানো ও চাপ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে আরও কয়েক কিলোমিটার উপরে গেলে সেখানে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পাওয়া সম্ভব। যা মানুষের পক্ষে খুবই সহনশীল। আর শুক্রের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বলতে গেলে পৃথিবীর সমান, তাই ওই উচ্চতায় দীর্ঘদিন কলোনি করে বসবাস করলেও মাধ্যাকর্ষণ এর কারণে ভঙ্গুর হাড় বা মাংসপেশি শিথিল হয়ে যাওয়া জনিত জটিলতায় পড়তে হবেনা।

এমন ক্লাউড সিটি গড়ে উঠতে পারে শুক্রে; Image Source: The Gospel Herald

তাহলে আমরা স্বপ্ন দেখতে পারি যে একদিন আমরা শুক্র গ্রহে মানুষের কলোনি স্থাপন করব। যদিও শুক্র নিয়ে মানুষের জ্ঞ্যান বলতে গেলে খুবই কম। মহাকাশ নিয়ে প্রতিযোগীতার শুরুর দিকে এই গ্রহে কিছু অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন প্রযুক্তিও এতো উন্নত ছিলনা, আর শুক্র গ্রহের বিরূপ আবহাওয়া পরবর্তীতে এই গ্রহে অভিযান চালাতে বিজ্ঞানীদের নিরুৎসাহিত করে। তবে সূর্য থেকে দূরত্ব, প্রযুক্তির উন্নতি ও নানা কারণে আবার শুক্র গ্রহের উপরে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। হয়ত পৃথিবীর বাইরে এই গ্রহেই সবার আগে মানুষ তার কলোনি গড়ে তুলবে।

সূর্য থেকে দূরত্বের দিক থেকে দ্বিতীয় গ্রহ। আকার, বায়ুমণ্ডল ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর সাথে মিল পাওয়া যায়, সেজন্য অনেকসময় শুক্র গ্রহকে পৃথিবীর যমজ গ্রহ বলে হয়। শুক্র প্রচণ্ড উষ্ণ, বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত বিষাক্ত ও পৃষ্টে বিভিন্ন আগ্নেয়গিরি রয়েছে।

গুরুত্তপুর্ন তথ্য

  • আকারে পৃথিবী থেকে সামান্য ছোট

  • সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ , দূরত্ব ১০ কোটি ৮ লক্ষ কিমি ( 0.৭২  AU)

  • শুক্র গ্রহের ১ দিন পৃথিবীর ২৪৩ দিনের সমান ( নিজের অক্ষে একবার পুর্ন আবর্তন )

  • শুক্র গ্রহের ১ বছর পৃথিবীর ২২৫ দিনের সমান ( কক্ষ পথে সূর্যকে একবার পরিভ্রমণ করতে যে সময় লাগে ) ।

  • বায়ুমণ্ডল – কার্বন-ডাই- অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন ।  বায়ুমণ্ডলে রয়েছে সালফিউরিক এসিডের মেঘ।

  • কোন উপগ্রহ নেই।

  • এখনো পর্যন্ত প্রায় ৪০ টি মহাকাশযান শুক্র গ্রহে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা পরিচালনা করেছে।

  • গ্রহে সর্বোচ্চ্ তাপমাত্রা প্রায় ৪৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ।

  • শুক্র নিজের অক্ষে উল্টা ভাবে ঘুরে অন্যান্য গ্রাহের সাপেক্ষে । এইজন্য গ্রহে পশ্চিমে সূর্যোদয় ও পুর্বে সূর্যাস্ত হয়।

পরিসংখ্যান

আবিষ্কার সাল – অজানা

পেরিহেলিওল – ১০৭,৪৭৬,১৭০ কিমি

এপিহেলিওন – ১০৮, ৯৪২,৭৮০ কিমি

বছরের দৈর্ঘ্য – ২২৪.৭০ পৃথিবীর দিন

কক্ষপথে গড় গতিবেগ – ১২৬,০৭৪ কিমি / ঘণ্টা

গড় ব্যাসার্থ – ৬০৫১.৮ কিমি

আয়তন – ৯২৮,৪১৫,৩৪৫,৮৯৩ কিমি৩

ভর –

ঘনত্ব- ৫.২৪৩ গ্রাম/সেমি৩

অভিকর্ষ বল – ৮.৮৭ মিটার/সেকেন্ড২

( পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ১০০ পাউন্ড হলে শুক্র গ্রহে তার ওজন হবে ৯১ পাউন্ড )

মুক্তিবেগ – ৩৭,২৯৬ কিমি/ঘণ্টা

তাপমাত্রা – ৪৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস

বায়ুমণ্ডলের উপাদান – CO2, N2

বর্ণনা

শুক্রগ্রহ ও পৃথিবীর অনেক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে মিল রয়েছে , যেমন ভর, ঘনত্ব এবং অভিকর্ষ বল । কিছু মিল থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অমিল বিদ্যমান যেমন বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত উত্তপ্ত যে তাপমাত্রায় এমনকি সীসা পর্যন্ত গলে যায় , বায়ুমণ্ডলের চাপ পৃথিবীর প্রায় ৯০ গুন । শুক্র আকাশের সবচে উজ্জল গ্রহ।

মিশন

বায়ুমণ্ডলের জন্য শুক্রগ্রহকে সরাসরি দেখা যায় না, কিন্তু নাসার প্রেরিত Megellan মিশন রাডারের মাধ্যমে পৃষ্টের প্রায় ৯৮%   চিত্র ধারণ করে।

Galileo মিশন ইনফারেড ক্যামেরার মাধ্যমে পৃষ্ট ও মেধের গঠন ম্যাপ করে ।

১৯৯০ সালে ESA (European space agency) প্রেরিত Venus Express মিশন ইনফারেড ইমেজে কয়েক লাখ বছর আগে আগ্নিয়াগিরির প্রমাণ , হয়ত এখনো জীবিত আগ্নিয়াগিরি আছে।

ট্রানজিট

নিয়মিত বিরতিতে শুক্র গ্রহ পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে অতিবাহিত হতে দেখা যায়, এই ঘটনাকে ট্রানজিট বলে, এর পূর্বে ১৬৩১, ১৬৩৯, ১৭৬১ , ১৮৭৪ এবং ১৮৮২ সালে ট্রানজিট দেখা গিয়েছে। এই শতাব্দীতে প্রথম ট্রানজিট হয়েছে ৮ই জুন ২০০৪,দ্বিতীয়  ট্রানজিট  ৬ই জুন ২০১২ সালে হয়েছে। পরবর্তি ট্রানজিট ১১ই ডিসেম্বর ২১১৭ হবে।

বায়ুমণ্ডল

শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং মেঘ সালফিউরিক এসিডের । অতি সামান্য পানির অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। বায়ুমণ্ডল তাপ ধরে রাখে তাই পৃষ্টের তাপমাত্রা এমনকি ৪৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর উঠে। এই পর্যন্ত যে কিছু মহাকাশযান শুক্র গ্রহে অবতরণ করতে সামর্থ্য হয়েছে , তাদের একটিও ২ ঘণ্টার বেশি টিকতে পারেনি প্রচণ্ড তাপের কারণে। গ্রহের মেঘে সালফার যৌগের আধিক্য দেখা যায়। বিজ্ঞ্যানীরা বায়ুমণ্ডলে বজ্রপাতের প্রমাণ পেয়েছেন।

শুক্র বছর

শুক্রগ্রহের বছর পৃথিবীর ২৪৩ দিনের সমান। নিজ অক্ষ কেন্দ্র করে ২৪৩ দিনে আবর্তন করে। এই গ্রহের ঘুর্নন পুর্ব থেকে পশ্চিম। এই ধরনের ঘুর্ননকে রেট্রোগ্রেড (Retrograde) বলে , যেখানে পৃথিবীর ঘুর্নন দিক পশ্চিম থেকে পুর্ব  (Protograde) । শুক্র গ্রহে সূর্যোদয় পশ্চিমে এবং সূর্যাস্ত পুর্ব দিকে হয়।

ভুপৃষ্ট

শুক্রের পৃষ্টে অসংখ্য খাদ রয়েছে মূলত উল্কাপাতের কারণে সৃষ্টি। ধারনা করা হয় , আগ্নেয়গিরির  কারণে ৩০-৪০ কোটি বছর আগে নতুন পৃষ্ট সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রের দুটি পার্বত্যাঞ্চল আছে, ঈশটার টেরা (Ishtar Terra) এবং এপ্রোডাইট টেরা(Aphrodite Terra) । উত্তর মেরুতে অবস্তিত ঈশটার টেরা আকারে প্রায় অস্ট্রেলিয়ার সমান এবং এপ্রোডাইট টেরা আকারে  প্রায় দক্ষিণ আমেরিকার সমান।  শুক্রের উঁচু শৃঙ্গ ম্যাক্সওয়েল মনটেজ। শুক্রের চৌম্বক ক্ষেত্র নেই, এক কারণ অত্যন্ত ধীর গতির ঘুর্নন।

চিত্র – হাবল টেলিস্কোপ থেকে তোলা শুক্র গ্রহের মেঘ

অভিযান

যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া বেশ কিছু নভোযান শুক্র গ্রহের উদ্দেশে প্রেরণ করেছে। প্রথম সফল নভোযান প্রেরণ করে নাসা মেরিনার-২ এর দিয়ে, তারপর রাশিয়া প্রেরিত ভেনিরা মিশনগুলু সফল ভাবে শুক্র গ্রহের কক্ষপথে , বায়ুমণ্ডলে এবং ভূপৃষ্ঠে অবতরণ করে। 

মেরিনার -২ , নাসা প্রেরিত প্রথম শুক্র গ্রহের উদ্দেশে নভোযান, ১৪ই ডিসেম্বর ১৯৬২ সালে শুক্র গ্রহকে অতিক্রম করে যায় । 

মেরিনার -৫ , নাসা, ১৯৬৭ সালের ১৯শে অক্টোবর গ্রহকে অতিক্রম করে যায়। 

ভেনিরা -৫ , রাশিয়া, রাশিয়া প্রেরিত মহাকাশযান ১৯৬৯ সালের ১৬ই মে শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং ৫৩ মিনিট পর্যন্ত মহাকাশযান                      চালু ছিল। 

ভেনিরা-৬, রাশিয়া, মহাকাশযানটি ১৭ই মে ১৯৬৯ সালে শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং ৫১ মিনিট কার্যক্ষম ছিল। 

ভেনিরা-৮, রাশিয়া, মহাকাশযানটি ২২শে জুলাই ১৯৭২ সালে শুক্র গ্রহের ভূপৃষ্ঠে অবতরণ করে।

ভেনিরা-৯, রাশিয়া,নভোযান ২০শে অক্টোবর ১৯৭৫ সালে অবতরণ করে শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠে। 

ভেনিরা-১০, রাশিয়া, নভোযান ২৩ শে অক্টোবর ১৯৭৫ সালে অবতরণ করে শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠে।   

পাইওনিয়ার – ১ এবং ২ , নাসা/যুক্তরাষ্ট্র , ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে শুক্র গ্রহের কক্ষপথে পৌছায়। 

ভেনিরা -১৩ এবং ১৪, রাশিয়া, ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে দুইটি নভোযান শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠে অবতন করে। 

ভেনিরা -১৫ এবং ১৬, রাশিয়া, ১৯৮২ সালের অক্টোবরে এই দুটি নভোযান শুক্র গ্রহের কক্ষপথে পৌছায়। 

ভেগা – ১ &ও ২, রাশিয়া, ১৯৮৫ সালের জুনে মাসে গ্রহের পৃষ্ঠে অবতরণ করে। 

​ম্যাজেলান ,ও নাসা/ যুক্তরাষ্ট্র , নভোযান শুক্র গ্রহের কক্ষপথে ১৯৯০ সালের ১০ই অক্টোবর পৌঁছে। 

ভেনাস এক্সপ্রেস – ESA, ২০০৬ সালের ১১ ই এপ্রিল শুক্র গ্রহের কক্ষপথে পৌছায়।

আকাতসুকি – জাপান, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৫। 

IKAROS – জাপান ২০১০ সালের ৮ই ডিসেম্বর শুক্র গ্রহকে অতিক্রম করে যায়।