বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কুতুবদিয়ায় একটি মনের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
47 ভিউ
কুতুবদিয়ায় একটি মনের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়

নজরুল ইসলাম, কুতুবদিয়া :: কুতুবদিয়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৯টি। বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন স্থানীয়দের বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহার হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পায়খানা প্রস্রাব থেকে শুরু করে ময়লা আবর্জনার স্তূপ করে পরিবেশ নষ্ট করেছে কিছু দুষ্কৃতিকারী। দীর্ঘ ১৮ মাস স্কুলের পরিবেশ সুন্দর রাখতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে সম্মানিত শিক্ষকদের। তাঁরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন স্কুলকে শিশুদের মনের মতো করে গড়ে তোলার।

উপজেলার অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষকদের পরিচর্যায় কুতুবদিয়া উপজেলায় মনের মতো স্কুল হিসেবে সকলের নজর কেড়েছে অজপাড়া গাঁয়ে অবস্থিত উত্তর লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা এত সুন্দর যে প্রতিদিন উপজেলা সদর থেকে কেউ না কেউ ঘুরে আসেন বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়টি ঘুরে এসে এর আদোপান্ত আপনাদের জানানোর চেষ্টা করছি আমরা।

বিদ্যালয়ের নাম- উত্তর লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৮৪ জন। শিক্ষক সংখ্যা ১০ জন। ২ টি ভবনে ১১টি কক্ষ। তারমধ্যে ৬টি শ্রেণি কক্ষ। ১টি কক্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লেখা বিখ্যাত লেখকদের ১০০টি বই সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার। ১টি ওয়াশব্লক ও ৮টি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য সম্মত ওয়াশরুম।

এখানে রয়েছে আড়াই হাজার ওয়ার্ড সম্পন্ন সৌর প্যানেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা। ১৯টি বৈদ্যুতিক পাখায় শীতল বাতাসের অনুভুতি পায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য স্লিপ অনুদানের ৭০ হাজার টাকা ও সেইভ দ্যা চিল্ড্রেন এর অনুদানের টাকার সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে শিক্ষকদের আন্তরিকতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তির প্রয়োগ দেখে অভিভূত হয়েছেন পরিদর্শনকারীরা। ঝকঝকে পরিষ্কার বিদ্যালয় আঙ্গিনা। কোথাও কোন ময়লা আবর্জনার দেখা নেই। পাশাপাশি দুটি ভবন। একটিতে অফিস কক্ষ, বঙ্গবন্ধু কর্ণার, প্রাক প্রাথমিক ও তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস রুম। শিক্ষকদের জন্য ওয়াশ রুমের ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। রয়েছে একটি পরিপাটি খাবার কক্ষও।

সিড়িতে তরে তরে সাজানো বাহারি ফুলের টব। অফিস কক্ষের প্রবেশ মুখে বসানো হয়েছে দুটি দৃষ্টি নন্দন ফুলের টব। দরজায় টানানো দামী ফর্দা। অফিস কক্ষে প্রবেশ করতেই নজরে পড়বে শিক্ষকদের কনফারেন্স হল। এ যেন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সভা কক্ষ। সৌর প্যানেলে বিদ্যুতায়িত কক্ষে সাঁ সাঁ করে ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা। গরমের শরীর মুহূর্তেই যেন পেল অবসাদ। আহা! কি আরাম। এখানে রয়েছে কোরিয়ান সরকারের একটি উপহার। বিশাল পিয়ানো। তাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি দেশের গান।

এই কর্ণারের নাম দেয়া হয়েছে সংগীত কর্ণার। পাশে আইসিটি কর্ণার। পিয়ানোটি চালিয়ে দেখান একজন শিক্ষক। এই কক্ষে রয়েছে শিক্ষকদের ছবি সম্বলিত একটি বোর্ড। তাতে রয়েছে কর্মরত শিক্ষকদের তথ্য। বিদ্যালয়ের প্রতিটি দেয়ালে মনোমুগ্ধকর চিত্রকর্ম। যা শিশুদের সহজেই নজর কাড়ে। শুধু শ্রেণি কক্ষ নয় বারান্দাসহ নিচ তলায় দেয়ালে দেয়ালে আকাঁ হয়েছে চিত্রকর্ম আর লেখা হয়েছে মনিষীদের বাণী। প্রাক প্রাথমিক শ্রেণিতে রয়েছে শিশুদের খেলনাপাতিসহ নানা জিনিসপত্র।

পরিদর্শনকারীদের প্রশ্ন? এমন স্কুল পেলে শিশু কি আর বিদ্যালয় বিমুখ হবে?

শিক্ষকরা জানিয়েছেন কেচম্যান্ট এলাকা ছাড়াও অন্যান্য এলাকা থেকেও শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় এ বিদ্যালয়ে। সম্মানিত শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুদান ও স্লিপের অর্থের স্বচ্ছ ব্যাবহার নিশ্চিত করতে পারলে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সার্বিক উন্নয়নসহ শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি সম্ভব।

বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করলে মনে পড়ে যায় মীনা দিবসের একটি প্রতিপাদ্য। “মনের মতো স্কুল পেলে, শিখব মোরা হেসে খেলে।” প্রতিপাদ্যটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরিচিত (“মীনা কার্টুন”) মীনা দিবস উপলক্ষে ২০১৯ সালে মীনা দিবস উদযাপনের। মীনা শিশুদের একটি জনপ্রিয় কার্টুন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ইউনিসেফের সহায়তায় কার্টুনটি ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হয়ে আসছে। কার্টুনটি মূলত বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক বিভিন্ন বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে আমাদের দেশে মীনা দিবস উদযাপন হয়ে আসছে। যদিও ১৯৯১ সাল ৯ বছরের একটি মেয়ের ভূমিকায় মীনার আবির্ভাব।

47 ভিউ

Posted ১২:০০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com