বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে

শুক্রবার, ১৬ জুন ২০১৭
537 ভিউ
খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ জুন) :: দ্রুত নগরায়ণ ও বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা পরিবর্তন আনছে খাদ্যগ্রহণের ধরনে। স্বাভাবিক খাবারের পরিবর্তে আগ্রহ বাড়ছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে। আয়-উন্নতি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের সহজলভ্যতা এ প্রবণতা আরো উসকে দিচ্ছে। এসব খাবারের সঙ্গে অলক্ষেই শরীরে ঢুকছে মাত্রাতিরিক্ত লবণ।

স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লবণ ব্যবহার হচ্ছে রান্নার কাজেও। অতিরিক্ত লবণসমৃদ্ধ এসব খাবার গ্রহণের ফলে বাড়ছে হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি। অস্বাভাবিক মাত্রায় চিনি পরিভোগে বাড়ছে আরেক অসংক্রামক ব্যাধি ডায়াবেটিসের ব্যাপকতা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মান অনুযায়ী, একজন মানুষের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচ গ্রাম লবণই যথেষ্ট। এর বেশি হলে উচ্চরক্তচাপসহ হূদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এর চেয়ে বেশি লবণ পরিভোগ হচ্ছে।

বাংলাদেশে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের তথ্য উঠে এসেছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায়। তাতে দেখা গেছে, দেশে জনপ্রতি দৈনিক লবণ গ্রহণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে দেশে জনপ্রতি দৈনিক লবণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯ গ্রামে। এ লবণের ৮০ শতাংশই আসছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য থেকে।

খাদ্যাভ্যাসের কারণে অতিরিক্ত লবণ শরীরে প্রবেশ করায় অসংক্রামক ব্যাধি বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রাইমারি হেলথকেয়ার) ডা. খালেদা ইসলাম। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন খাবার যেমন— চিপস, সস, পনির ও ফাস্টফুডে মাত্রাতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করা হয়। এসব খাবারের সঙ্গে বাড়ছে লবণ গ্রহণের পরিমাণ। এতে উচ্চরক্তচাপসহ অসংক্রামক বিভিন্ন রোগের ব্যাপকতা বাড়ছে দেশে। এখনই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

হূিপণ্ড রক্তকে ধাক্কা দিয়ে ধমনীতে পাঠালে এর (ধমনী) গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তা-ই রক্তচাপ। এ চাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। এ মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপ। ডব্লিউএইচওর গবেষণা অনুযায়ী, উচ্চরক্তচাপজনিত কারণে সারা বিশ্বে বছরে মারা যাচ্ছে প্রতি লাখে প্রায় ৩০০ জন। এ রোগে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি, এমন ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। গত তিন দশকে বাংলাদেশে উচ্চরক্তচাপে ভোগা ও আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপক হারে। ১৯৮৩-৯৯ সাল পর্যন্ত দেশে উচ্চরক্তচাপে ভোগা মানুষ ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। সর্বশেষ হিসাবে তা ১৭ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

দেশে উচ্চরক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে সরকারি প্রতিবেদনেও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় অংশ উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত। দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৮ শতাংশ এতে আক্রান্ত হচ্ছে।

উচ্চরক্তচাপে পুরুষের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নারীরা। রোগটিতে প্রায় ১৫ শতাংশ নারী আক্রান্ত হলেও পুরুষের মধ্যে এ হার প্রায় ৯ শতাংশ। আর্থিক সামর্থ্যের বিবেচনায় আবার অতিদরিদ্রদের মধ্যে এর ব্যাপকতা তুলনামূলক কম। উচ্চ ও মধ্যবিত্তরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে রোগটিতে।

ডায়াবেটিস ও স্থূলতার অন্যতম কারণ চিনি। দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তির সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সরাসরি চিনি থেকে গ্রহণের সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডব্লিউএইচওর নীতিমালা অনুযায়ী, দৈনিক ছয় চা চামচ চিনি প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য যথেষ্ট।

মনোস্যাকারাইড (গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) ও ডাইস্যাকারাইড (সুক্রোজ বা খাওয়ার চিনি)— এ দুই আকারে খাবারে চিনির উপস্থিতি পাওয়া যায়। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে দেশে চিনি গ্রহণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মাধ্যমে অসচেতনভাবে মানুষ চিনির একটা বড় অংশ প্রতিদিন গ্রহণ করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এক টেবিল চামচ কেচাপের মাধ্যমে প্রায় এক চা চামচ চিনি ও এক ক্যান সোডার মাধ্যমে প্রায় ১০ চা চামচ চিনি শরীরে প্রবেশ করছে। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে স্থূলতার পাশাপাশি বাড়ছে ডায়াবেটিস ও দন্তক্ষয়ের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ১৯৮০ সালের দিকে দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার ছিল শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯০ সালের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০০০ সালে এসে রোগটিতে আক্রান্তের হার ৫ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়। ২০১৩ সালে তা ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশনের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল ৭১ লাখ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াবেটিস ও এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. জলিল আনসারী বলেন, খাদ্যে চিনির পরিমাণ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়বে। আগে থেকেই যারা রোগটিতে আক্রান্ত, চিনির পরিভোগ বাড়লে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে তারা। মাত্রাতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে নতুন করেও অনেকে রোগটিতে আক্রান্ত হবে।

537 ভিউ

Posted ২:৪৬ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ জুন ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com