
কক্সবাংলা ডটকম(৪ ডিসেম্বর) :: বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলায় জামিন বাতিল হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে বিএনপি। মামলার গতি প্রকৃতি দেখে দলটির নেতারা ক্রমান্বয়ে নিশ্চিত হচ্ছেন কারাগারে যেতেই হচ্ছে খালেদা জিয়াকে। এমনটা হলে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য হবেন তিনি।
তার অনুপস্থিতি দলকে কোথায় নিয়ে যাবে সেটাই এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ দলটির। কীভাবে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি সে প্রশ্নও উঠছে দলটির অভ্যন্তরে। দলের ঐক্য ধরে রাখতে তার বিকল্পই বা কে সে নিয়েও আলোচনা চলছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।
হরতালের অজুহাতে গত ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হননি বিএনপি চেয়ারপার্সন। দলীয় নেতারা মনে করেন, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। শুধু তাই নয়, ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান পরোয়ানা জারির পাশাপাশি খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিও শেষ করেন।
বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপে যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আগামী ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে পরপর তিন দিন ধার্য করেন। যাকে নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করেন দলটির নেতারা।
তাদের মতে, আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে খালেদা জিয়ার জবানবন্দি চলছিল, যা এখনো শেষ হয়নি। হরতাল না থাকলে ৭ম দিনের মতো তিনি আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিতেন। মামলার ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজনে তার জবানবন্দি শেষ করা প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু আদালত হঠাৎ করে তার জবানবন্দি শেষ করে পরবর্তী ধাপে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এমনকি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পরপর তিন দিন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। যিনি সপ্তাহে একদিন নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এর পেছনে সরকারের নীলনকশা কাজ করছে বলে অভিযোগ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর। তিনি এটাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। আর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আদালত সরকারের নির্দেশে এই নজিরবিহীন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এ রকম হলে সুবিচার পাওয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।
অবশ্য নির্ধারিত তারিখে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হয়ে আদালতকে অবহেলা করেছেন, বিচারকার্য বিলম্বিত করতে দীর্ঘ জবানবন্দি দিচ্ছেন, বারবার বিচারক পরিবর্তনের জন্য উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। স্থায়ী জামিনের আবেদন করছেন। যা আদালত সম্মানজনক মনে করেননি বলেই এমন আদেশ দিয়েছেন, এমন মতও রয়েছে দলটির অভ্যন্তরে। তবে তা প্রকাশ্যে নয়। অনেকটাই সংগোপনে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, প্রক্রিয়া চলছে খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার। স্বাভাবিক বিচারের মাধ্যমে নয়, প্রয়োজনে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া তারা প্রয়োগ করবে। গত বৃহস্পতিবার হরতালের কারণে খালেদা জিয়া সকালে যেতে পারবেন না বলে দুপুরে যাবেন, প্রস্তুতিও ঠিক। নিরাপত্তার কারণে উনি যাননি।
যদি খালেদা জিয়া সে দিন বের হতেন, আওয়ামী বাহিনী একটা অপকর্ম করে প্রচার করতো হরতালকারীরা এই কাজটা করেছে। তারপরও ২টায় উনি যাবেন। কিন্তু বেলা ১২টায় জজ সাহেব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে চলে গেলেন। অর্থাৎ সরকার যেন একটা সুযোগ খুঁজছিল, একটা সুযোগ খুঁজে ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য দেয়া- সেটাকে বন্ধ করে ৫/৬/৭ ডিসেম্বর এই তিন দিন যুক্তিতর্ক হবে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন এটা কোন দেশ? ধইরা-বাইন্ধা সাজা দিয়ে দেয়া। তাহলে আর বিচারের দরকার কী? নেত্রীকে ধরে জেল দিয়ে দেন। তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, আজকে আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে প্রহসনমূলক বিচার করে সাজা দেয়ার ব্যবস্থা করছে। আওয়ামী লীগ যদি ভাবে তাকে সাজা দিয়ে সব শেষ হয়ে যাবে, এটা খুব সহজ হবে না।

Posted ২:০৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta