রবিবার ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

খালেদা জিয়ার রাজনীতির অধ্যায় কি শেষ?

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১
200 ভিউ
খালেদা জিয়ার রাজনীতির অধ্যায় কি শেষ?

কক্সবাংলা ডটকম(১৩ অক্টোবর) :: খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি তিনি। তার ছেলে লন্ডনে পলাতক তারেক রহমান এখন দল চালাচ্ছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে তিনি। এ ছাড়া দুর্নীতির দুটি মামলায়ও দণ্ডিত। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের অনুরোধে, সরকারের অনুকূল্যে ৪ দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে এখন জামিনে আছেন তিনি। বয়সও হয়ে গেছে। দেশ ছাড়ার ইচ্ছাও জানিয়েছেন পরিবারকে। বিএনপির অনেক নেতাই মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইমেজ রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষুণ্ণ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ও বেঁচে থাকাকেই তিনি ও তার পরিবার এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে মৌলকভাবে থাকতে পারবেন, কি পারবেন না সে আলোচনা দলের ভেতরসহ রাজনৈতিক মহলে চলছে।

খালেদা জিয়ার রাজনীতির মাঠে আসাটাকেই অনেকে অঘটন মনে করেন। ছোট বেলা তো অনেক দূরে, ১৯৮১ সালে যখন জিয়াউর রহমান নিহত হন, তখনও খালেদা জিয়া নিতান্তই গৃহীণী। রাজনীতি নিয়ে চিন্তাধারা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কোনো অনুষ্ঠান, কোথাও তার উপস্থিতি ছিল না। তার ভাষায়- ‘রাজনীতি আমি বুঝতাম না।’ ৩রা জানুয়ারি ১৯৮২। জিয়ার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। এরপর তাকে হটিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সেসময় দলীয় কোন্দল, অনেক নেতার এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগদানের ফলে ছত্রভঙ্গ, বিপর্যস্ত এবং দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল। দল টিকিয়ে রাখাতে তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র কিছু নেতার অনুরোধে এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাসে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া।

রাজনীতিতে আসার ১০ বছরের মধ্যেই ১৯৯১ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান খালেদা জিয়া। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিএনপির অধীনে একটি কলঙ্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে অল্প সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা বাদ দিলে খালেদা জিয়া দুই বার পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেছেন। তবে এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অধ্যায় হয়তো শেষের পথেই বলে মনে করা হচ্ছে। তার মুক্তি নিয়ে কিছুই করতে পারেনি দলের নেতারা। দলের কার্যত ভূমিকার কারণসহ নানা কারণে তার রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক নেতা জেলে গেলে অনেক সময় আরও বিকশিত হন, আরও বড় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। উপমহাদেশের বহু বিখ্যাত নেতাদের কপালে কারাবাস জুটেছিল। নেহেরু জেলে ছিলেন বলে রচিত হয়েছিল ‘লেটারস টু ডটার’, কারাগার প্রধান হয়ে গিয়েছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তার দল কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। ঢাকার রাজপথে কোনো আন্দোলনই গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি। সরকারের কঠোর অবস্থান, নেতাদের অনেকের বিক্রি হয়ে যাওয়া এক্ষেত্রে নিয়ামক শক্তির ভূমিকা পালন করেছে। দুর্বল সংগঠন, সিদ্ধান্তহীনতা আর সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে না পারাও এখন বিএনপির নৈমিত্তিক বিষয়। ফলে খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে ফেরাটা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দেশের অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক খালেদা জিয়ার শাসন আমল, ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ — এই দুইভাগে ভাগ করেন। তারা মনে করেন, দুই ভাগে ভাগ করলে খালেদা জিয়ার বিবর্তনগুলো সহজে বুঝা যাবে। ৯১ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুনের রাজনীতি থাকার কথা ছিল না। এই খুনের রাজনীতি নতুন করে চালু করেন খালেদা ও তারেক রহমান। যেখানে ৯১-এ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর পরে জামায়াতের রগকাটা, চাপাতি কোপের রাজনীতিও সকল গণতান্ত্রিক দল মিলে বন্ধ করা উচিত ছিল, সেখানে এই রগকাটা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালের রাজনীতি ফুলে-ফেঁপে বেড়ে উঠতে দিল খালেদা জিয়া ও তারেক। তাই ৯১ পরবর্তীতে খুনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার যে বিষয়টি সম্মিলিতভাবে হওয়ার কথা ছিল, সে আলোচনা আজো চলছে।

অন্যদিকে, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানকে অতি দ্রুততার সাথে দলের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং ২১শে অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার বিষয়টি বিএনপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় দলের সিনিয়র অনেক নেতার সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল খালেদা জিয়ার। তারই একটি ফলাফল হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বিদায় নিতে হয়েছিল।আর ক্ষমতার মেয়াদের একেবারে শেষের দিকে দল ছেড়ে গিয়েছিলেন অলি আহমদ, যিনি এক সময় খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে আনার জন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। আর ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়া গ্রেফতার হবার আগে মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করেন।

খালেদা জিয়া যখন রাজনৈতিকভাবে নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছিলেন, তখন ২০১৫ সালে ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার পারিবারিক ট্র্যাজেডিও ঘটে। আর এখন তিনি নিজেই হাসপাতালের বিছানায়। আর এর মধ্য দিয়েই খালেদা জিয়ার রাজনীতির অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

200 ভিউ

Posted ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com