
শাহিদ মোস্তফা শাহিদ,সদর(১৭ জানুয়ারী) :: কক্সসবাজার সদর ও চকরিয়ার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর খুটাখালীর মধ্যবর্তী এলাকায় ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন মহাসড়কের পূর্ব পাশের ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে সামাজিক বনায়নের প্লট দখলের খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ ও বনবিভাগের আইওয়াশ অভিযান নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। সংঘটিত ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।
১৭ জানুয়ারী রাত আনুমানিক ২টা ও বিকাল ২টায় দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বনবিভাগের লোকজন আইওয়াশ অভিযান চালিয়ে দুয়েকটি ঝুপড়ি ঘর ভেঙ্গে দেয়। এ পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে কোন ধরণের মামলা দায়ের করেনি।
সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাশর্^বর্তী খুটাখালী ইউনিয়নের শিয়াপাড়া এলাকায় আবদুর রশিদ প্রকাশ পেটান, এনামুল হক, জসিম মেম্বার,ইমাম শরীফের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের সংঘবদ্ধ মহিলা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ২০০৪ ও ২০০৫ সালের সামাজিক বনায়নের আনুমানিক ৩০ কানি মত রিজার্ভ জায়গা রাতের অন্ধকারে ৮টি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে দখল করে নেয়।
পরদিন খবর পেয়ে বিকাল ২টার দিকে প্লটের কয়েক উপকারভোগী বিষয়টি দেখতে গেলে পেটানের নেতৃত্বে আরো কয়েক ব্যক্তি ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয় এবং ঐদিকে গেলে গুলি করে হত্যা করারও হুমকি প্রদর্শন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপকারভোগী অভিযোগ করে জানান, ফুলছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকের সাথে যোগসাজশ করে তারা এ কর্মকান্ডটি চালিয়ে আসছে।
খবর পাওয়া সত্ত্বেও তিনি না গিয়ে ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা আল আমিন ও হেডম্যান আবদু শুক্কুর মেম্বারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে গোচরীভূত হওয়া ২টি ঝুপড়ি ঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে অফিসে ফিরে আসেন।
অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে সরকারী বনভূমি দখল, মাদার ট্রি পাচার, পাহাড় কাটা, মাটি বিক্রিসহ হরেক রকম অপরাধে সহযোগিতা করে আসার ধারাবাহিক প্রতিবেদন বেশ কয়েকদিন ধরে ফলাও করে সংবাদ পরিবেশিত হয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জনগণ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় এমইউপি আবদু শুক্কুর জানান, গুলিবর্ষণের বিষয়টি তিনি জানেন না এবং রেঞ্জ কর্মকর্তার অনুরোধে হেডম্যান হিসাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিট কর্মকর্তার সাথে ২টি ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদের বিষয়টি স্বীকার করেন।
এসব বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা দখলের বিষয়টি সত্য নয় দাবী করে জানান, বনবিভাগ থেকে উপকারভোগী হিসাবে তারা রাতের বেলাল পাহারা দেওয়ার জন্য কয়েকটি ঝুপড়ি নির্মাণ করেছিল।
ফুলছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক বিট কর্মকর্তা আল আমিনসহ লোকজন পাঠিয়ে ঝুপড়ি ঘরগুলো উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান।
এ ব্যাপারে মামলাও প্রক্রিয়াধীন বলে জানান এ কর্মকর্তা। স্থানীয়রা আরো জানান, অবিলম্বে সরকারী বনভূমি দখলকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে দেওয়া হোক।

Posted ১:৫১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta