শুক্রবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

খেলাপি ঋণের ২০ গ্রাহকের পকেটে ৩১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা

শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
189 ভিউ
খেলাপি ঋণের ২০ গ্রাহকের পকেটে ৩১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ ফেব্রুয়ারী) :: অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবেই ফেরত দিচ্ছেন না গ্রাহক। বিশেষ করে প্রভাব খাটিয়ে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছেন তারা। রাজনৈতিক চাপে ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী গ্রাহকদের কাছেই হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ তুলে দিয়েছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

ফলে খেলাপি হয়ে যাওয়া ঋণের মধ্যে মাত্র ২০ গ্রাহকের পকেটে গেছে ৩১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপির ৪৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।এদিকে ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপি বেড়ে যাওয়ায় ৯টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে।

এর পরও বড় বড় গ্রাহকের কাছে বিপুল পরিমাণ ঋণ আটকে গেছে। বর্তমান ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ ১০ ঋণগ্রহীতা কোনো কারণে ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে ৩৯টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়বে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সময়মতো আদায় না হওয়ায় শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। আদায় না হওয়া ঋণগুলোকে ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

এগুলো হচ্ছে নিম্নমান, সন্দেহজনক ও কুঋণ বা মন্দঋণ। এর মধ্যে সন্দেহজনক ও কুঋণ শ্রেণির ঋণকে খেলাপি ধরা হয়। এই ক্যাটাগরিতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭০ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা।

এই খেলাপি ঋণের মধ্যে ৩১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা আটকে রয়েছে শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে।বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি ব্যাংক থেকেই অনিয়মের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ঋণ হাতিয়ে নেওয়া হয়। এতে সরকারি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি।

সরকারি মালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অন্য যে কোনো ব্যাংকের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। তবে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকও একক গ্রহীতার হাতে বড় অঙ্কের ঋণ তুলে দিচ্ছে। পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় এসব খেলাপি গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের আশা নেই বললেই চলে।

বিপুল পরিমাণ ঋণ আটকে থাকলেও কোনোভাবেই অর্থ আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। খেলাপির তালিকায় থাকা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ, অনেকে পলাতক। জেলেও রয়েছেন কয়েকজন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের করা মামলা বছরের পর বছর চলছে। মামলা চলছেÑ এই অজুহাতে ব্যাংকগুলো কার্যকর কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, এসব খেলাপির বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করে সম্পত্তি নিলামে তোলা উচিত। এর মাধ্যমে অর্থ আদায় করা যেতে পারে। তারা আদালতের শরণাপন্ন হলে নিষ্পত্তি করার জন্য ব্যাংকগুলোকে তৎপরতা চালাতে হবে।

সমস্যা হলো, যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এসব ঋণই খেলাপি হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করতে হবে।

বড় অঙ্কের ঋণের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান বলেন, একক গ্রহীতার হাতে অধিক পরিমাণ ঋণ দেওয়ার আগে সাবধান হতে হবে। ঋণ দেওয়ার আগে আদায়ের বিষয়টি ভাবতে হবে। বড় অঙ্কের ঋণ দিলে তা আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিকল্পভাবে ঋণ বিতরণ করতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ থাকায় ব্যাংকগুলোর মূলধন খোয়া গেছে। এখনো বিপুল ঋণ বড় বড় গ্রাহকের কাছে আটকা। ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যতে ঝুঁকি মোকাবিলা সক্ষমতা নির্ণয়ে এক পরীক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক দেখেছে, ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ ১০ ঋণগ্রহীতা কোনো কারণে খেলাপি হয়ে গেলে ৩৯টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি হবে।

এ ছাড়া শীর্ষ ৩ গ্রাহক খেলাপি হলে ২১ ব্যাংক এবং শীর্ষ ৭ গ্রাহক খেলাপি হলে ৩৮ ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হবে।খেলাপি ঋণ ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিলেও তা সফল হচ্ছে না। ঋণ কেন্দ্রীভূত করা বা একক গ্রহীতাকে বেশি পরিমাণ ঋণ দিতে নিরুৎসাহিত করলেও ব্যাংকগুলো একক গ্রাহকের কাছেই সবচেয়ে বেশি ঋণ দিচ্ছে। ফলে গত বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ডিসেম্বর ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে যা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা।

ঝুঁকি কমাতে একক গ্রাহকের হাতে ঋণ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে এক ব্যাংকের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, একক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও এসএমই খাতে ঋণ দিতে হবে।

খেলাপি ঋণ কমাতে প্রয়োজনে মামলা করার আগে খেলাপি গ্রাহকদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।গত বছর জুলাইয়ে জাতীয় সংসদে শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সেই তালিকা অনুসারে ২০ খেলাপি হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স, জেসমিন ভেজিটেবল, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস, বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা ট্রেডিং হাউস, আনোয়ারা স্পিনিং মিলস, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমস, এমএম ভেজিটেবল অয়েল প্রোডাক্ট, আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল, হলমার্ক ফ্যাশন, মুন্নু ফেব্রিকস, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিকস, সাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েল, নূরজাহান সুপার অয়েল, সালেহ কার্পেট মিলস, এসকে স্টিল ও চৌধুরী নিটওয়্যারস।

189 ভিউ

Posted ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com