বৃহস্পতিবার ২০শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২০শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

গুম নিয়ে চাপে সরকার : কূটনৈতিক পাড়ায় সরব বিএনপি

শনিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২২
99 ভিউ
গুম নিয়ে চাপে সরকার : কূটনৈতিক পাড়ায় সরব বিএনপি

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ জানুয়ারি) :: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের রেশ কাটতে না কাটতেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

তারা বলেছে যে, মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে বাংলাদেশের কোন ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছাই নেই। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই প্রতিবেদনটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, এখন গুম নিয়ে সরকারকে চাপে ফেলার একটা কৌশল প্রকাশ্য রূপ ধারণ করেছে। দেশে সুশীল সমাজের একটি অংশ এবং বিদেশে লবিস্ট, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে গুমের বিষয়টিকে সামনে এনে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, এমন একটি প্রচারণা এখন দৃশ্যমান। এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো, সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং আগামী নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তার নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে বিএনপি এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দল যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছে সেই দাবিটিকে সামনে আনার জন্যই গুম নাটক সাজানো হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয় ইত্যাদি প্রচার করতে পারলে আগামী নির্বাচনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হতে পারে। ইতিমধ্যে এরকম একটি দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের কাছে দেয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুম নিয়ে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে তখন বাংলাদেশেও সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রিত একটি দৈনিকে গুম ব্যক্তিদের বাড়ি যাচ্ছে পুলিশ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে তাদের স্বজনদের জেরা ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে, কাউকে কাউকে থানায় ডেকে পাঠানো এবং ক্ষেত্র বিশেষে সাদা কাগজে সই দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। আর এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ‘মায়ের ডাক’ ও আইন সালিশ কেন্দ্র পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়েছে।

লক্ষণীয় যে, বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচারিত হয় সেই ঘটনাগুলো উৎসভূমি হলো বাংলাদেশই। প্রথমে সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রিত জাতীয় একটি বাংলা এবং ইংরেজি দৈনিকে এ সংক্রান্ত খবরগুলো প্রকাশিত হয়। এর পরপরই এই প্রতিবেদনের আলোকে দেশীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিবৃতি দেয় এবং এই বিবৃতির পরপরই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন সেটি লুফে নেয় এবং সেটি বিভিন্ন দেশের প্রদান করে।

বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ৮৭ জন গুম হয়েছে, এই ৮৭ জন্যের একটি তালিকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন সরকারের কাছে দিয়েছে। কিন্তু সরকারের কোন কোন মহলের অদক্ষতা, দায়িত্বহীনতা এবং অনাগ্রহের কারণে এর জবাব দেওয়া হয়নি। এর মাত্র ৭ জনকে জবাব দেওয়া হয়েছে। এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুম হওয়া ব্যক্তিদের সম্বন্ধে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য তাঁদের বাড়িতে যাচ্ছেন এবং এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করার কাজটা করছেন যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দেয়া হয়।

বাংলাদেশে যাদেরকে গুম বলা হচ্ছে তারা আসলে নিখোঁজ এবং বিভিন্ন কারণেই মানুষ নিখোঁজ হয়। শুধু বাংলাদেশে নয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছিল। বাংলাদেশের কোন ব্যক্তি নিখোঁজ হলে তাকে গুম বলে প্রচারিত করা একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই নিখোঁজ ব্যক্তিরা নানা কারণে নিখোঁজ হন।

বাংলাদেশে মোটদাগে পাঁচটি কারণে মানুষ নিখোঁজ হন। প্রথমত, দায়-দেনা পরিশোধে অক্ষমতার কারণে আত্মগোপন করেন এবং নিখোঁজ হন। দ্বিতীয়ত, প্রতিপক্ষের মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়ানোর জন্য নিখোঁজ হন। তৃতীয়ত, জঙ্গিবাদ বা কোন সংগঠনে যোগদানের জন্য নিখোঁজ হন। চতুর্থত, অভিবাসী হওয়ার জন্য নিখোঁজ হন। পঞ্চমত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তারা আটক হন। কিন্তু যেকোনো নিখোঁজই গুম বলে প্রচারের যে প্রবণতায় সে প্রবণতা বাংলাদেশের ওপর একটি চাপ সৃষ্টি করছে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশন, তথ্য অধিকার কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না বলেই পরিস্থিতি ক্রমশ নেতিবাচক হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত এবং সঙ্ঘবদ্ধ প্রচারণা। দেশের একটি গোষ্ঠী এই প্রচারণার মূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কূটনৈতিক পাড়ায় সরব বিএনপি

Thumbnail

বিএনপি এখন রাজপথে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনৈতিক পাড়ায়ও সরব হয়েছে। বিভিন্ন দূতাবাস এবং বিদেশী মিশনে তারা ধরনা দিচ্ছে, বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিএনপির পাঁচজন নেতা নিয়মিতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান চীনসহ বিভিন্ন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। মূলত পাঁচটি ইস্যুতে তারা এই যোগাযোগগুলো করছেন।
প্রথমত, খালেদার মুক্তি। বিএনপির নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে বিভিন্ন দূতাবাসে নিয়মিত আপডেট দিচ্ছেন এবং তারা বলতে চাইছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায্যভাবে বিদেশ যেতে দেওয়া হচ্ছেনা এবং তার বিদেশ যাওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। এটিকে তারা আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে দেখাতে চাইছে।
দ্বিতীয়ত, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন। তারা সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করছে এবং গুম হওয়া ব্যক্তিরা অধিকাংশই বিএনপির নেতাকর্মী এই দাবী করছে। অন্তত তিনটি দূতাবাসে বিএনপি তাদের নেতাদের একটি তালিকা দিয়েছে যে তালিকায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে তাদের ভাষায় মিথ্যা মামলা নিয়েও বিএনপি এখন কূটনৈতিক মহলে দেন-দরবার এবং লবিং করছে।
তৃতীয়ত, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। বিএনপির নেতারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি বড় বাঁধা বলে দাবি করছেন এবং এই প্রেক্ষিতে তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের জন্য যেন আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয় সেজন্য বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন।
চতুর্থত, নির্বাচন কমিশন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। বিএনপির বিভিন্ন নেতারা কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে নানা রকম অভিযোগ করছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কিভাবে পক্ষপাত হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কিভাবে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ইত্যাদি বিষয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
পঞ্চমত, দুর্নীতি। বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন নেতারা পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসে অভিযোগ করছে যে, বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে এবং এ সমস্ত দুর্নীতি সম্পর্কে বিদেশ থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে সেই তথ্যগুলো তারা কূটনৈতিক মহলের কাছে তুলে দিচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বিএনপির পাঁচজন নেতা এখন কূটনৈতিক পাড়ায় অত্যন্ত সরব এবং কূটনীতিকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান। ড. মঈন খান দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক মহলে পরিচিত এবং বিএনপির পক্ষ থেকে কূটনৈতিক বিষয়গুলো তিনি দেখাশোনা করেন। এর পাশাপাশি রয়েছেন বিএনপির নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং তার পুত্র তাবিথ আউয়াল। এরা দুজনও নিয়মিত বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কথা বলছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নিয়মিত তাদেরকে আপডেট দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকেও বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রাখতে দেখা যাচ্ছে। বিএনপি মনে করছে যে, রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহল যদি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই পর্যবেক্ষণ করে তাহলে সেটি বিএনপির আন্দোলনের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। তবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এখন পর্যন্ত বিএনপির এ সমস্ত দেন-দরবারে কোনো ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানা যায়নি।
99 ভিউ

Posted ১:০৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com