শনিবার ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বঙ্গোপসাগর

বুধবার, ২২ জুন ২০২২
37 ভিউ
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বঙ্গোপসাগর

কক্সবাংলা ডটকম(২২ জুন) :: বৈশ্বিক ভূরাজনীতি গত কয়েক দশকে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে বাণিজ্য কাঠামোয়ও। এ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় বাণিজ্যপথগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ সাগরটির তীরবর্তী দেশগুলোর অর্থনীতিও সম্প্রসারিত হয়েছে গোটা বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে।

এ মুহূর্তে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় প্রভাবক হয়ে উঠেছে ‘চায়না ফ্যাক্টর’। চীনকে মোকাবেলা করতে গিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ব্লকের মনোযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইন্দো-প্যাসিফিক। বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির এ আমূল পরিবর্তন গোটা ইন্দো-প্যাসিফিকে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়িয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সামনের দিনগুলোয় গোটা ইন্দো-প্যাসিফিকে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে প্রভাবশালী অঞ্চল হয়ে ওঠার জোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকেই।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর বঙ্গোপসাগরের ওপর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। দুই অঞ্চলের সংযোগ স্থাপনকারী এ উপসাগর আবার প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। গোটা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ বসবাস করে বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী দেশগুলোয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ অঞ্চলের অর্থনীতিও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হয়েছে। কভিডের আগে গোটা বিশ্বে এ অঞ্চলের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বর্তমানে বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী দেশগুলোর মোট জিডিপির পরিমাণ ৩ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

ইন্দো-প্যাসিফিকে রাজনৈতিক-কূটনৈতিক-বাণিজ্যিকসহ সম্ভাব্য সব ধরনের উপায়ে চীনকে মোকাবেলা করতে চায় পশ্চিমারা। চীনের চিরবৈরী দেশ হিসেবে এ দ্বৈরথে নাম লিখিয়েছে ভারতও। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় বিস্মৃত জোট কোয়াডকে পুনরায় সক্রিয় করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। সক্রিয় হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি জোট অকাসও। চীনের সঙ্গে এসব জোটের দ্বৈরথের বড় একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। পশ্চিমা ভূরাজনীতির একাডেমিশিয়ান ও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ‘মুক্ত ও অবাধ’ ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা নেয়ার মতো সম্ভাবনা বঙ্গোপসাগরের রয়েছে।

দীর্ঘদিন ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক আলোচনায় বঙ্গোপসাগরের পরিচিতি ছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকওয়াটার’ (নিস্তরঙ্গ আন্তর্জাতিক জলরাশি) হিসেবে। তবে সে নিস্তরঙ্গতা কাটিয়ে বঙ্গোপসাগর এখন হয়ে উঠেছে বিশ্ববাণিজ্যের সবচেয়ে সক্রিয় জলপথগুলোর একটি। বিশাল এ উপসাগরের পশ্চিম প্রান্তে ভারত, পূর্ব প্রান্তে থাইল্যান্ড। সাগরের তীরবর্তী অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ। পরোক্ষ নির্ভরশীলতা রয়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য কয়েকটি দেশেরও। বিশ্ববাণিজ্যে পরিবাহিত পণ্যের এক-চতুর্থাংশ যায় বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানিস্বল্পতায় ভোগা দেশগুলোয় পারস্য উপসাগর হয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেল ও এলএনজির নিরাপদ করিডোর বঙ্গোপসাগর।

এ সাগর নিয়ে এখন পর্যন্ত তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেনি। বঙ্গোপসাগরের তীরেই গড়ে উঠেছে আসিয়ান ও সার্কের মতো বৃহৎ দুই আঞ্চলিক জোট। উপরন্তু বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক জোটেরও বিকাশ ঘটেছে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার এ সাগরের জলসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে আন্তর্জাতিক আদালতে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দেশগুলোর এ সম্মান প্রদর্শন গোটা ইন্দো-প্যাসিফিককে ‘মুক্ত ও অবাধ’ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জন কে ফেয়ারব্যাংক সেন্টার ফর চাইনিজ স্টাডিজের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট আনু আনোয়ার। সম্প্রতি টেক্সাস ন্যাশনাল সিকিউরিটি রিভিউয়ে তার এ পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।

গত কয়েক বছরে ইন্দো-প্যাসিফিকের উপ-অঞ্চল হিসেবে বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক তাত্পর্য নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে নানা আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক দেখা গিয়েছে। বঙ্গোপসাগরকে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে দেখছেন তাদের সবাই। বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী দেশগুলো নিজেরাই এখনো নিজেদের মধ্যে সেভাবে শক্তিশালী কানেক্টিভিটি গড়ে তুলতে পারেনি। যদিও গত কয়েক বছরে এখানে আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের বড় একটি মাপকাঠি হয়ে উঠেছে আর্থিক, জ্বালানি এবং সড়ক-রেল-আকাশ ও নৌ কানেক্টিভিটি।

আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারের কারণে বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী দেশগুলোর ভূরাজনীতির একেবারে কেন্দ্রে অবস্থান ভারতের। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এখানকার আঞ্চলিক ভূরাজনীতির ওপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ দিনে দিনে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বেইজিংয়ের প্রভাব ক্রমেই বেড়েছে। এক্ষেত্রে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটিতে দেশ দুটির অবদানই বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের ভাষ্যমতে, প্রতিবেশী বাংলাদেশ, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে কানেক্টিভিটি তৈরিতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে ভারত।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ (পূর্ব দিকে সক্রিয়তা বাড়ানো) নীতিমালা গ্রহণ করেছিল ভারত। ২০১৪ সাল থেকেই নিজ সীমান্তের পূর্ব দিকে সক্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। আঞ্চলিক সক্রিয়তার দিক থেকে দেশটির মনোযোগও দক্ষিণ এশিয়ার ভূখণ্ড থেকে সরে এসেছে বঙ্গোপসাগরের দিকে। সার্কের পরিবর্তে বিমসটেক জোট নিয়েই সক্রিয়তা বাড়াতে চাইছে নয়াদিল্লি। ভূরাজনৈতিক সক্রিয়তার ভরকেন্দ্র বদলালেও বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কানেক্টিভিটি উন্নয়নে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি ভারত।

নিজে বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী না হলেও এ সাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে বড় আয়তনের সীমান্ত রয়েছে চীনের। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী দেশগুলোয় একের পর এক সড়ক-রেল-নৌ ও আকাশ চলাচল অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করেছে চীন। সক্রিয়তা বাড়িয়েছে আর্থিক এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও।

কানেক্টিভিটি ও অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে চীনের সঙ্গে নীরব প্রতিযোগিতায় রয়েছে জাপানও। এ অঞ্চলের দেশগুলোয় নতুন বন্দর, সড়ক, জ্বালানি পাইপলাইন ও রেলওয়ে নির্মাণে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে দেশটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিনিয়োগের মধ্যে দেশগুলোর শুধু ভূরাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক স্বার্থও রয়েছে। নিজ নিজ অর্থনীতির উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই চীন ও প্রতিযোগী দেশগুলো বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে যতটা সম্ভব চীনের প্রভাববলয়ের বাইরে নিয়ে আসতে চায় পশ্চিমা দেশগুলো ও তাদের মিত্ররা। এক্ষেত্রে তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যকে বর্ণনা করা হচ্ছে ‘অবাধ ও মুক্ত’ ইন্দো-প্যাসিফিক হিসেবে। ইন্দো-প্যাসিফিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই বঙ্গোপসাগরে সামনের দিনগুলোয় সব পক্ষেরই তত্পরতা আরো বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, গত কয়েক দশকে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃিত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও। ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। আর অর্থনৈতিক কর্মপরিধি বাড়লে সুপারপাওয়ার দেশগুলো এ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ তার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। অন্যান্য দেশও তাদের অর্থনীতির গতিধারা বাড়িয়েছে। সে হিসেবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক তত্পরতা নতুন ধরনের মাত্রা পেয়েছে। এখানকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেহেতু ভবিষ্যতে আরো বাড়বে, সে কারণে ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও ধীরে ধীরে আরো বাড়বে। চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলা করতে গিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ইন্দো-প্যাসিফিকে মনোযোগ বাড়াচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘মুক্ত ও অবাধ’ ইন্দো-প্যাসিফিক বলতে মূলত পশ্চিমা দেশ ও তাদের মিত্রদের (ভারত-জাপান) প্রভাবাধীন ইন্দো-প্যাসিফিককেই বোঝানো হয়। পশ্চিমা দেশগুলো মনে করছে, এ অঞ্চলে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব কমানো না গেলে একসময় ইন্দো-প্যাসিফিকে পশ্চিমাদের সামরিক আধিপত্য কমবে। অতীতে ভূমধ্যসাগর বা আটলান্টিক ছিল অর্থনৈতিক তত্পরতার বড় কেন্দ্র। বিশ্ববাণিজ্যে ইউরোপ ও আমেরিকার আধিপত্যের কারণেই মহাসাগরগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এর বিপরীতে এ অঞ্চলের বাণিজ্য ছিল খুবই নগণ্য। এখন তার বিপরীত। এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে, কারণ এখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। এ অর্থনৈতিক গুরুত্বই এখানকার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে চীনের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।

এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সামনের দিনগুলোয় আরো বাড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের ভাষ্যমতে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এখন মূলধননিবিড় ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পোৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। চীন, জাপান ও কোরিয়ার মতো দেশগুলোর শ্রমঘন শিল্পগুলো স্থানান্তর হচ্ছে উন্নয়নশীল বিশ্বে। এদিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোয় যুব শ্রমবাজারও দিনে দিনে সম্প্রসারিত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বাংলাদেশের কথা। দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরই বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে এ হার প্রায় একই রকম। এরই মধ্যে তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে গার্মেন্টের মতো শ্রমনিবিড় শিল্পে সবচেয়ে অগ্রসর দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।

ইন্দো-প্যাসিফিকে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব বৃদ্ধির পেছনে ভূরাজনীতি ও বাণিজ্যই বেশি কাজ করছে বলে মনে করছেন বাণিজ্য খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্যমতে, পশ্চিমা জোট ও তাদের মিত্ররা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্যে দেশটির সক্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে ভূরাজনীতি একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, সামগ্রিকভাবে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক বিষয়ের ওপরই ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া ভূরাজনৈতিক একটি প্রেক্ষাপটও আছে। দিনে দিনে অর্থনৈতিক কূটনীতিও গতি পেয়েছে। এতে বাংলাদেশের মতো বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী দেশগুলো এখন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদেও অনেক সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগর অঞ্চল। ধারণা করা হয়, বঙ্গোপসাগরে এ মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের রিজার্ভ রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক হিসাবের ভিত্তিতে কোনো কোনো গবেষক-পর্যবেক্ষকের দাবি, ঠিকমতো অনুসন্ধান-উত্তোলন কার্যক্রম চালানো গেলে গোটা ইন্দো-প্যাসিফিকে গ্যাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী অঞ্চল হয়ে উঠতে পারে বঙ্গোপসাগর। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের রিজার্ভ-উত্তোলন অনুপাত গোটা এশিয়া-প্যাসিফিকে সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মজুদ দিয়ে আরো ৬৭ বছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

ভূরাজনীতির বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলোকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। অবকাঠামো সংকট ও আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশ সেভাবে না হওয়ায় এখানকার বাণিজ্যিক বিকাশও সেভাবে ঘটেনি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মোট বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশ আঞ্চলিক, যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ হার ২৫ শতাংশ।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরও মনে করছেন, বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী দেশগুলো এখনো বাণিজ্যিক শক্তি হিসেবে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনের প্রতিযোগী হওয়ার মতো কোনো বাণিজ্যিক শক্তি এখনো তৈরি হয়নি। যদি আমরা ভারতের কথাও ভাবি, দেশটি যে বাণিজ্য করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে তা খুবই নগণ্য। বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী দেশগুলো এখনো সে অর্থে তেমন কিছু করে উঠতে পারেনি।

37 ভিউ

Posted ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২২ জুন ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com