
মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: শীত মানে পিঠা-ফুলির উৎসব। যাকে বলে শীতপিঠা। আর শীতকে ঘরে প্রায় প্রতিটা বাড়িতে পিঠা-ফুলির আয়োজন থাকে।
তবে, বাড়ির পিঠার চেয়েও ফুটপাথের পিঠার প্রতি খুব আকৃষ্ট সাধারণ মানুষ। শীতকে ঘিরে ফুটপাথের দ্বারে বসেছে হরেক রকমের পিঠার সামহার।
এই পিঠা-ফুলির বেঁচাবিক্রি থেকে বাঁধ পড়েনি কক্সবাজারের চকরিয়া। চকরিয়া পৌশহরের রাস্তার দ্বারে ফুটপাথে হরদম চলছে পিঠা-ফুলি বিক্রি।
বিকাল হলেও বেড়ে যায় পিঠা বিক্রির ধুম। এই পিঠা বিক্রি করে পরিবার নিয়ে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করছে গরীব পিঠা বিক্রেতারা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চিরিংগা পৌরশহর ছাড়িয়ে অলিগলিতে ভ্যানগাড়িতে ফেরি করে বসে পড়েছে পিঠা-ফুলি বিক্রেতারা। পিঠা-ফুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ভাপা পিঠা ও চিতল পিঠা।
পাশাপাশি মিঠার জিলাপীও বিক্রি হছে প্রচুর। তবে,ভাপা পিঠার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেশি। চুলা থেকে নামানোর মতো সময়ও দিচ্ছে না ক্রেতারা।
চিরিংগা পৌরশহরের হরি মন্দির সড়কে ভ্যান গাড়িতে করে ভাপা পিঠা ও চিতল পিঠা বিক্রি করছে আল-আমিন নামের এক কিশোর। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। বাবা থেকেও না থাকার মতো। মা ও দুই ভাই এক বোনের সংসার। আল-আমিন মেজো ছেলে। যেদিনে যেটা চলে, সেই ব্যবসায় করে। যেহেতু শীতকাল তাই শীত পিঠা বিক্রি করছে।
আল-আমিন বলেন, প্রতিদিন বিকাল ৩টায় হরি মন্দির সড়কে চলে আসি ভ্যান গাড়ি নিয়ে। এরপর ভাপা পিঠা ও চিতল পিঠা তৈরীর প্রস্ততি চলে। মূলত ৪টার পর থেকে বিক্রি শুরু হয়। রাত ১১টা পর্যন্ত পিঠা তৈরী করি। যদি ক্রেতা বেশি থাকে তাহলে মাঝেমধ্যে ১২টা পর্যন্ত থাকতে হয়।
সে আরও বলে, চিতল পিঠার সাথে কাঁচামরিচ, শুকনো মরিচ দিয়ে একটা বর্তা বানানো হয়। ওই বর্তার সাথে চিতল পিঠায় বেশ আকৃষ্ট ক্রেতারা। প্রতিদিন তার ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। তার সাথে একজন সাহায্যকারীও আছে। তাকেও একটা সম্মানি দেয়া লাগে। খরচ বাদ দিয়ে হাজার খানেক টাকা আয় হই।
চিরিংগা পৌরশহরের কাজী মার্কেটের সামনে মিঠার জিলাপী বিক্রি করছেন জসীম উদ্দিন। কিছুদিন আগেও সবজি বিক্রি করছেন। শীত মৌসুম চলে আসায় মিঠার জিলাপীর ব্যবসা শুরু করেছেন। শীতকালে মিঠার জিলাপীর চাহিদা বেশ ভালো।
তিনি বলেন, আমরা ভাসমান ব্যবসায়ী। একেক সময় একেক রকম ব্যবসা করি। শীতকালে জিলাপীর ব্যবসা করছি। প্রতিদিন সন্ধ্যার আগে আগে ভ্যান গাড়িতে করে মিঠার জিলাপী সরঞ্জাম নিয়ে আসি। সন্ধ্যা হলেই ক্রেতারা আসতে শুরু করে। কেউ দাঁিড়য়ে দাঁড়িয়ে খাই, কেউ কেউ বাসায় খাওয়ার জন্য নিয়ে যায়। দৈনিক ৪ হাজার টাকার কাছাকাছি বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে হাতে হাজার টাকা মতো থাকে। এতে সংসার খুব ভালো মতোই চলে। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের যদি একটা নিদিষ্ট জায়গা দিতো তাহলে বেশ ভালো হতো।
আক্তার হোসেন নামের এক ভদ্রলোক। ভাপা পিঠা খেতে এসেছেন আল-আমিনের দোকানে। বেশ কয়েকটি ভাপা পিঠা খাওয়ার পরে চিতল পিঠাও নিলেন। সাথে ঝাল জাতীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে বানানো ভর্তাও নিলেন। খুব তৃপ্তি নিয়ে খেলেন্।
কথা হয় উনার সাথে। তিনি বলেন, ফুটপাতের বাহারি আইটেমের খানাপিনার প্রতি তার বিশেষ আর্কষণ। যদিও এসব খাবার স্বাস্থ্যসম্মত না, তারপরও লোভ সামলাতে না পেরে খেয়ে ফেলি। তবে, ফুটপাথের এসব খাদ্য যদি স্বাস্থ্য-সম্মতভাবে প্রস্তত করা হতো এবং পরিবেশন করা হতো বিক্রেতারা সংখ্যা আরও বাড়তো।
তবে, বিক্রেতাদের আশা শীত আরেকটু বাড়লে জমজমাট হয়ে উঠবে শীতকালিন এসব পিঠা-ফুলির ব্যবসা। তাতে তাদের ব্যবসাও বাড়বে।

Posted ১০:০৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta