বৃহস্পতিবার ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

চকরিয়ায় দুর্গোৎসবের থিম : অসুরকে বধ করে মণি-ঋষিদের দেবলোক ফিরিয়ে দিলেন ‘মা দুর্গা’

বুধবার, ০২ অক্টোবর ২০১৯
35 ভিউ
চকরিয়ায় দুর্গোৎসবের থিম : অসুরকে বধ করে মণি-ঋষিদের দেবলোক ফিরিয়ে দিলেন ‘মা দুর্গা’

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া(২ অক্টোবর) :: অমরত্ব লাভের আশায় মহিষাসুর ব্রক্ষার তপস্যায় মগ্ন হন। দীর্ঘকাল অসুরের তপস্যায় পৃত হয়ে ব্রক্ষা মহিষাসুরের কাছে প্রকট হন। এসময় ব্রক্ষা অসুরকে সন্তানরুপে গ্রহণ করে কি চাই জানতে চান। অসুর এসময় অসুর ব্রক্ষার কাছে অমরত্ব দাবি করেন। কিন্তু ব্রক্ষা এই বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। ব্রক্ষা এসময় অসুরকে বলেন এই পৃথিবীতে আমিও অমর নই। তোমাকে কীভাবে অমরত্ব দান করবো। এসময় ব্রক্ষা অসুরকে অমরত্ব না দিলেও প্রবল শক্তিশালী এবং অপরাজেয় হওয়ার বর দেও তবে এও বলেন তোমার মৃত্যু হবে কোন এক নারীর কাছে। এতেই তুষ্ট শহিষাসুর।

বর পাওয়ার সাথে সাথে শুর করে অত্যাচার-নির্যাতন। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠে দেবলোক। স্বয়ং ইন্দ্র দেব থেকে শুরু করে মণি-ঋষি, সাধু-সন্ন্যাসী সবাই অসুরের কাছে ধরাশায়ী। মহিষাসুর নিজেকে ঈশ্বররুপে প্রতিষ্টা করতে উন্মাধ হয়ে উঠেছে। সবাইকে তার পুজো করার নির্দেশ জারি করেছেন। যে তার পুজো করবেনা তার মৃত্যুদন্ডাদেশ হবে বলেও ঘোষনা করেছেন। এই ভয়ে সাধু-সন্ন্যাসীরা ছুটে গেলেন ব্রক্ষা, বিষ্ণু ও শিবের কাছে। কিন্তু তারাও অসুরের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অসুরকে যে প্রবল শক্তিশালী হওয়ার বর দিয়েছেন ব্রক্ষা। বিষ্ণু ও শিব সাধু-সন্ন্যাসীদের ব্রক্ষার কাছে যেতে বলেন।

কিন্তু ব্রক্ষার একার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন ! তাই অসুরকে কীভাবে বধ করা যায় তার করণীয় ঠিক করতে ব্রক্ষা, বিষ্ণু ও শিব বৈঠকে মিলিত হলেন। তাদের সকলের প্রচেষ্টায় সৃষ্টি হলো দূর্গতিনাশিনী মা দূর্গা। তাদের সকলের ত্যাজে মা দূর্গা হয়ে উঠলেন ভয়ংকরী, অগ্নীরুপী। ফলে অসুরের সাথে যুদ্ধ লিপ্ত হলেন মা দূর্গা। যুদ্ধে পরাস্ত হলেন অসুর। মা দূর্গার হাতে বধ হলেন মহিষাসুর। সাধু-সন্ন্যাসীরা ফিরে গেলেন দেবলোকে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এভাবেই ফুটিয়ে তুলা হয়েছে চকরিয়া পৌরসভার হিন্দুপাড়াস্থ সার্ব্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরের দুর্গোৎসবকে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে রংয়ের কাজ। বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ হবে পুরো কাজ।

গত শনিবার মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে দেবী পক্ষের আগমন। চন্ডীপাঠ, বিভিন্ন অনুষ্টানের মধ্যদিয়ে মা দূর্গাকে মর্ত্যলোকে আহবান করেন ভক্তকুল। আগামী শুক্রবার ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে মায়ের অর্চনা। মঙ্গলবার দশমীর পুজার মাধ্যমে মাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দূর্গোৎসবকে ঘিরে কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরে চলছে সাজসাজ রব। সবাই যার মতো ব্যস্ত। কেউ ব্যস্ত লাইটিংয়ের কাজে, কেউ ব্যস্ত প্রতিমা তৈরীর কাজে আবার কেউ ব্যস্ত সাজসজ্জায়। মা দূর্গাকে মাঝখানে রেখে এর দু’পাশে বসানো হয়েছে স্বরস্বতী, লক্ষী, গণেশ ও কার্তিককে। এদের দু’পাশে বসানো হয়েছে পানির ফোয়ারা। এছাড়াও ব্রক্ষা, বিষ্ণু ও শিব এবং বেশ কয়েকটি অসুর বানানো হয়েছে। স্টেইজের মাঝে মাঝে বসানো হয়েছে বিভিন্ন কালারের লাইট।

ফরিদপুর থেকে এসেছেন মৃৎ শিল্পী সুমন পাল। এই মন্ডপে পুরো থিমটি তৈরী করতে তিনি ২০/২৫টি প্রতিমা তৈরী করেছেন। তাদের এসব প্রতিমা তৈরীতে সময় লেগেছে ২০দিন। গত মঙ্গলবার থেকে প্রতিমার গায়ে রংয়ে তুলি বসান তারা। বৃহস্পতিবারের মধ্যে রংসহ পুরো সেট তৈরী করবেন বলে জানান সুমন পাল।

মন্ডপের আলোকসজ্জার কাজ করছেন চট্টগ্রাম মাহনগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার নাটাই লাইটিং সিস্টেম। এর কর্ণদ্ধার মো.নবী বলেন, ইতোমধ্যে লাইটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আমরা লাইটিং সিস্টেম চালু করবো। আশাকরি চকরিয়ার ভক্তরা সুন্দর একটি আলোকসজ্জা দেখতে পাবেন।

এদিকে, চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দরবার ডেকোরেটার্সের মালিক মানিক রুদ্র তার দলবল নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন পুজা মন্ডপকে সাজসজ্জায় সাজাতে। তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে পুরো মন্দির এলাকাকে সাজাতে তার ১৫ জন কর্মী কাজ করছেন বলেও জানান। হরি মন্দিরের দুর্গোৎসবকে ঘিরে বেশ কয়েকটি বড় বড় তোরণ নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন চকরিয়ার মধ্যে সেরা সাজসজ্জা হবে চকরিয়া কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরের পূজা মন্ডপ।

চকরিয়া সার্ব্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির দূর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কান্তি দে ও সাধারণ সম্পাদক ডা.অসীম কান্তি দে রুবেল জানান, এবছর চকরিয়ায় ৪৬টি পূজা মন্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্টিত হচ্ছে। এসব মন্ডপের মধ্যে আশা করি আমরা নতুন কিছু দেখাতে পারবো। তাই আমরা এবছর অসুরের অত্যাচারে অতিষ্ট সাধু-সন্ন্যাসীদের মা দূর্গা কীভাবে রক্ষা করেছেন তা থিমের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করছি। এছাড়া অষ্টমী পুজারদিন রাতে ধর্মীয় নাটক ‘পরশুরামের মাতৃহত্যা’ কাহিনী নিয়ে নাটিকা মঞ্চস্ত করা হবে।

এজন্য আমাদের এবারের পুজার বাজেটও বেশি। প্রায় ৮ লাখ টাকা। আশাকরি সকলের সাহায্য-সহযোগিতায় চকরিয়াবাসী তথা কক্সবাজারবাসীকে সুন্দর একটি পুজা উপহার দিতে পারবো।

 

35 ভিউ

Posted ৫:০১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০২ অক্টোবর ২০১৯

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com