সোমবার ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

চট্টগ্রামের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণের নেপথ্যে কারা ? আইএসের দায় স্বীকার!

রবিবার, ০১ মার্চ ২০২০
133 ভিউ
চট্টগ্রামের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণের নেপথ্যে কারা ? আইএসের দায় স্বীকার!

কক্সবাংলা ডটকম(২৯ ফেব্রুয়ারী) :: চট্টগ্রামের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বিস্ফোরিত বোমাটি ছিল হাতে তৈরি সময় নিয়ন্ত্রিত ইম্প্রোভাইজড এপপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। ঘটনাস্থল ও আলামত বিশ্নেষণ করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা। তারা সম্প্রতি ঢাকা ও খুলনায় ঘটা সাতটি বোমা হামলার ধরনের সঙ্গে এটির মিল পেয়েছেন। তাদের মতে, একই কায়দায় ঘটেছে এ ঘটনাও। ব্যবহৃত বিস্ফোরকও একই ধরনের।

জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করেন এমন কয়েক কর্মকর্তা বলেছেন, পুনর্গঠিত জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা নব্য জেএমবির সদস্যরা এই বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে শনিবার জানায় সাইট ইন্টেলিজেন্স। তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এটি জঙ্গি হামলা বলে স্বীকার করতে রাজি হননি। তারা ঘটনাটিকে বলছেন, ‘নাশকতা’।

অন্যদিকে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন- ট্রাফিক পুলিশের ব্যবহূত সুরক্ষিত বক্সে কীভাবে বোমা রেখে গেল? এ ঘটনায় তারা পুলিশের কর্তব্যে অবহেলা দেখছেন।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় নগরের পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট পুলিশ বপে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হন। ঘটনার পর নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ বপ ও চেকপোস্টে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

নগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকায় সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে এই বিস্ফোণের কিছুটা মিল রয়েছে। পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়নি।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘নাশকতার উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।’

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত নাশকতা। কারা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

হামলা ও বিস্ফোরকের ধরন একই:

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, গত বছর ঢাকা ও খুলনায় সাতটি বোমা হামলার মধ্যে পাঁচটির লক্ষ্যবস্তু ছিল পুলিশ। স্থান এবং সময়ও ছিল কাছাকাছি। এখানেও পুলিশকে লক্ষ্য করা হয়েছে, সময়ও রাতের প্রথম প্রহর এবং স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে পুলিশ বপ। বিস্ফোরকও ব্যবহার করেছে আইইডি। কোনো সার্কিট পাওয়া না গেলেও এটা নিশ্চিত এটা হাতে তৈরি ও সময় নিয়ন্ত্রিত বোমা। এতে বোঝা যায়, এটি যারা ঘটিয়েছে তারা একই দল বা সেলের সদস্য। এটি জঙ্গিদের ‘লোন উলফ’ হামলা (একক হামলা) হতে পারে।

শনিবার সকালে ঢাকা থেকে অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের এএসপি শাওন কুমার সরকারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি দল চট্টগ্রাম পৌঁছায়। তারা বিস্ফোরণস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। বিস্ফোরণস্থল থেকে দুটি জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি পাইপের সঙ্গে গ্যাসভর্তি ক্যান বাঁধা ছিল। প্রচুর ধাতব বল উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ফোরণস্থলের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। রাস্তার অন্য পাশের একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার হাসান মো. শওকত আলী সমকালকে বলেন, ‘সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে এটাও একই সূত্রে ঘটেছে কিনা তা অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা খতিয়ে দেখছেন। একই ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার হয়েছে কিনা তাও তারা দেখছেন। এরপর নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে কারা এটি ঘটিয়েছে।’

বোমা রাখল কীভাবে:

শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণের আগে পুলিশ বক্সে বোমাটি রাখা ছিল। অথবা আগের দিনই ২৭ ফেব্রুয়ারি নগর পুলিশের বিশেষ শাখা এক বার্তায় সব ইউনিটকে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও নজরদারি বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকার পরও তাদের সুরক্ষিত জায়গায় অপরাধীরা কীভাবে বোমা রেখে গেল? তারা কর্তব্যে অবহেলা করেছে। এ দায় তাদের ওপর বর্তায়।’

তবে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মো. শহীদুল্লাহ দাবি করেন, ‘এগুলো তেমন সুরক্ষিত স্থাপনা নয়। শুধু ট্রাফিক সদস্যদের একটু বিশ্রাম, সিগন্যালের যন্ত্রপাতি, সিগন্যাল লাইট ও পোশাক রাখার জন্য অস্থায়ীভাবে এগুলো বানানো হয়েছে।’

হামলার দায় স্বীকার আইএসের!

চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জড়িত বলে জানিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠীর ইন্টারনেটভিত্তিক তৎপরতা নজরদারি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’।  আইএস পরিচালিত আমাক নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাইট ইন্টেলিজেন্স এ তথ্য জানায়।

এর আগে, শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে দুই নম্বর গেটের ওই পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যসহ আহত হন পাঁচ জন। ঘটনার পর পুলিশ প্রথমে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতির মেশিন বিস্ফোরণ হয়েছে জানালেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর তারা নিশ্চিত করেছে এটি বোমার বিস্ফোরণ ছিল। তবে তখন কে বা কারা এটি ঘটিয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) শ্যামল কান্তি নাথ বলেন, ‘আইএসের দায় স্বীকার করার কথা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’

অজ্ঞাত ব্যক্তি-গোষ্ঠীর নামে মামলা:

বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। শনিবার রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন ট্রাফিক পরিদর্শক অনিল বিকাশ চাকমা। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে আসামি করা হয়েছে। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আশিকুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে সরকারি কাজে দায়িত্বরত ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে গুরুতর জখম ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। জানমালের ক্ষতিসাধন, সরকারি সম্পদ নষ্ট ও জনমনে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ বিস্টেম্ফারণ ঘটানো হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন বাংলাদেশে ‘সক্রিয়’

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন এবং ব্যক্তিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। এই কালো তালিকাভুক্ত কয়েকটি সংগঠনের কার্যক্রম বাংলাদেশে রয়েছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে গ্লোবাল রিলিফ ফাউন্ডেশন, বেনেভোলেন্স ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন, আল হারমাইন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, রিভাইভাল অব ইসলামিক হেরিটেজ, আইসিস-বাংলাদেশ, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট ও হরকত-উল জিহাদ। এর মধ্যে অন্তত দুটি সংস্থার বাংলাদেশ অফিসের ঠিকানাও উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে আল হারমাইন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও রিভাইভাল অব ইসলামিক হেরিটেজের বিভিন্ন দেশের অফিসের যে ঠিকানা রয়েছে, তার মধ্যে ঢাকার উত্তরায় ওই দুই সংস্থার অফিস আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত এক বাংলাদেশি কূটনীতিক বলেন, ‘ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট কালো তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ওইসব সন্ত্রাসী সংগঠনের যে সম্পত্তি আছে সেগুলোকে বাজেয়াপ্ত করে থাকে।’ তিনি জানান, গোটা বিষয়টি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় এবং এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠনের আর্থিক ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়।’

যুক্তরাষ্ট্র কালো তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনের বিষয়ে বাংলাদেশকে কোনও তথ্য দেয় কিনা জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে একটি বোঝাপড়া আছে। যার মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে।’

এদিকে, জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে যে অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কংগ্রেসম্যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানি এবং ওই কংগ্রেসম্যানরা আমাদের বিষয়টি জানিয়েছেন।’

এ বিষয়ে পরবর্তী কর্মপন্থা কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসম্যানরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তারাই পদক্ষেপ নেবে।’

জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করছে অভিযোগ করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন কংগ্রেসম্যান তাদের স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অনুরোধ করেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য। কংগ্রেসম্যানরা অভিযোগ করেছেন, জামায়াত ও এর সঙ্গে সংযুক্ত অঙ্গ-সংগঠনগুলো শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই তাদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখেনি, দলটি এশিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে।

ইন্ডিয়ানার কংগ্রেসম্যান জিম ব্যাংকস, টেনেসির চাক ফ্লেইসমান ও টেক্সাসের র‍্যারন্ডি ওয়েবার গত ১ নভেম্বর স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাউন্টার টেরোরিজম কোঅর্ডিনেটর নাথান সেলসের কাছে জামায়াতের সন্ত্রাসী অর্থায়নের তথ্য-প্রমাণসহ একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

133 ভিউ

Posted ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০১ মার্চ ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com