শুক্রবার ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জাতিসংঘে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ভোট দেয়নি বাংলাদেশ !

রবিবার, ২০ জুন ২০২১
98 ভিউ
জাতিসংঘে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ভোট দেয়নি বাংলাদেশ !

কক্সবাংলা ডটকম(১৯ জুন) :: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ, থার্ড কমিটি কিংবা হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল- গত ৩ বছরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব ক’টি রেজ্যুলেশনে সায় ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু এবারই প্রথম মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ভোটাভুটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট প্রদান থেকে বিরত (অ্যাবস্টেইন) থেকেছে ঢাকা। অর্থাৎ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ সংক্রান্ত ওই প্রস্তাবে সায় দেয়নি বাংলাদেশ। কিন্তু কেন? কি কারণে জাতিসংঘে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ভোট দেয়নি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ওই অবস্থান পরিবর্তনের যুক্তিটা কি? তা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। অবশ্য এ নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় টেলিফোন আলাপে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, প্রথমত এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর আনা রেজ্যুলেশন, এটা ভিন্ন এক প্রস্তাব।

দ্বিতীয়ত: মিয়ানমার পরিস্থিতির সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, যা রেজ্যুলেশনে আরও শক্তভাবে প্রতিফলন চেয়েছিল বাংলাদেশ। কারণ রোহিঙ্গা সংকট বা মিয়ানমার পরিস্থিতির বড় ভুক্তভোগী আমরা। কিন্তু বাংলাদেশের চেষ্টা সত্ত্বেও শুক্রবারের প্রস্তাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি জোরালো ভাষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ কারণে অনেকটা প্রতিবাদ হিসেবেই বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়ে অ্যাবস্টেইন বা প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে বলে ধারণা দেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বর্তমানে নিউ ইয়র্কে রয়েছেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা কেন অ্যাবস্টেইন করেছি তা নিয়ে জাতিসংঘে একটি বিবৃতি দিয়েছি। তাছাড়া এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় থাকায় আমরা সরাসরি তার নির্দেশনা পেয়েছি। ফলে দেশের স্বার্থ এবং অন্যান্য ইস্যু বিবেচনায় আমরা ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। রাষ্ট্রদূত বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জোরালো দাবি জানিয়ে একটি স্বতন্ত্র রেজ্যুলেশন আনা হচ্ছে। যার প্রস্তাব রাখছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, পাস হওয়া ‘প্রিভেনশন অব আর্ম কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক শুক্রবারের রেজ্যুলেশনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের আসল কারণ উদ্‌ঘাটন এবং মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে আবারো রোহিঙ্গা উচ্ছেদ থেকে বিরত থাকতে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ওই নন-বাইন্ডিং বা গ্রাহ্য করার বাধ্যবাধকতা না থাকা ওই রেজ্যুলেশনে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান, চীন, লাওস, নেপাল, থাইল্যান্ড ও রাশিয়া সহ ৩৬টি দেশ। আর এর পক্ষে ভোট দেয় ১১৯টি দেশ। প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে একটি মাত্র রাষ্ট্র বেলারুশ। পাস হওয়া রেজ্যুলেশনে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক এবং খেয়ালখুশিমতো যেসব ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সবার মুক্তির দাবি জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বলছে, ওই রেজ্যুলেশনে সদস্য সব দেশকে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বান ছাড়াও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং দেশের মানুষের সব মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে টেকসই একটি গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরকে অনুমোদন দিতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

শুক্রবার মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গনার ভোটের পর সাধারণ পরিষদের উদ্দেশে বলেন, ‘মিয়ানমারে বড় আকারের গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি রয়েছে। দেশটিতে সামরিক অধিগ্রহণ থেকে বের হওয়ার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জাতিসংঘ বিষয়ক রাষ্ট্রদূত ওলফ স্কুজ বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রস্তাব একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে যে- এটি সামরিক জান্তার বৈধতা মানে না, তাদের নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও সহিংসতার নিন্দা করে এবং বিশ্বের চোখে তাদের বিচ্ছিন্নতা প্রদর্শন করে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আগে থেকেই সাধারণ পরিষদকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে উদ্যোগ নিতে চাপ দিয়েছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করতে পারি না, যেখানে সামরিক অভ্যুত্থান একটি আদর্শ হয়ে ওঠে। এটা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।’

এর আগে, জাতিসংঘের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাবে মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গত মাসে রয়টার্সের হাতে আসা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নয়টি দেশ চেয়েছিল প্রস্তাবটি বাতিল করা হোক।

জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের মতো সাধারণ পরিষদে কোনো দেশের ভেটো ক্ষমতা নেই। সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবগুলো আইনত বাধ্যতামূলক না হলেও এগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

জাতিসংঘের প্রস্তাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে ‘অবিলম্বে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ’ এবং ইন্টারনেট ও সামাজিক প্রচার মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে নভেম্বরের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচিত সরকারকে অস্বীকৃতি জানিয়ে দেশটিতে অভ্যুত্থান করে সামরিক বাহিনী। তবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ছিল।

অ্যাসিস্ট্যান্স এসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স(এপিপিপি) জানিয়েছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে ৮৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও সামরিক জান্তা বলছে, এই সংখ্যা আরও অনেক কম।

98 ভিউ

Posted ২:০০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২০ জুন ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com