ইউক্রেনের শহর বুচায় বেসামরিক নাগরিক হত্যার কারণে রাশিয়াকে মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘে। বৃহস্পতিবার এতে মস্কোর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল দিল্লি। যা নিয়ে দেশটি পশ্চিম ও মস্কোর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতিতে অটল থাকার বিষয়টি পরিষ্কার করল।

বিবিসি নিউজ অনলাইন, ইন্ডিয়ার এডিটর বিকাশ পান্ডে বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আয়োজিত জাতিসংঘে ভোটে ফের ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকল ভারত। এর অর্থ হলো— ইউক্রেন নিয়ে দিল্লি যে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলছে তা নিয়ে দেশটি সমঝোতা করতে রাজি নয়।

তিনি আরও বলেন, দেশটি রাশিয়ার নিন্দা জানায়নি। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেলের টাকা শোধের পথ খুঁজছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে— পশ্চিমারা কতদিন ভারতের এ নিরপেক্ষ অবস্থান মেনে নেবে।

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা কড়া বিবৃতি দিয়েছেন।

সম্প্রতি ভারতকে সতর্ক করে ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে প্রকাশ্য কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার দিকে অগ্রসর হলে তাদের জন্য এর মাশুল এবং পরিণতি হবে অনেক বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি।’

ভারত পরীক্ষিত বন্ধু রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং বৃহত্তর ভৌগলিক উচ্চাকাঙক্ষার জন্য তার পশ্চিমকেও প্রয়োজন। কিন্তু দুই পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করা দিল্লির জন্য কূটনৈতিক দুঃস্বপ্ন হতে চলেছে।

 যা বলছে ভারত

ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিষয়ে দিল্লি বলছে, ইউক্রেনে সংঘাত শুরুর পর থেকে ভারত শান্তি, সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আমাদের বিশ্বাস রক্তপাত ও নিরপরাধদের প্রাণের বিনিময়ে কোনো সমাধান আসতে পারে না। যদি ভারত কোনো পক্ষে অবস্থান নেয় তবে সেটি হবে শান্তির পক্ষে এবং এটি হবে তাৎক্ষণিক যুদ্ধ বন্ধের জন্য।

এ পর্যন্ত রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা জানাতে জাতিসংঘে আটটি প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে ভারত।

তবে বুধবার দিল্লি যুদ্ধ নিয়ে একটি কড়া বিবৃতি দিয়েছিল। সেখানে বুচায় সংঘটিত হত্যার নিন্দার পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলা হয়।

রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে এ যুদ্ধে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে রাশিয়াকে বাদ দিতে এক প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ৯৩টি দেশ। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় ২৪ দেশ এবং ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে ৫৮ দেশ।