শুক্রবার ২৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ২৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী : টিকা নিয়ে বৈষম্য দূর করতে হবে

শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
84 ভিউ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী : টিকা নিয়ে বৈষম্য দূর করতে হবে

কক্সবাংলা ডটকম(২৪ সেপ্টেম্বর) :: করোনা মোকাবিলায় গোটা বিশ্বকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে কভিড-১৯ মহামারি। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও আলোকপাত করেছে। সর্বজনীন বিষয়গুলোয় বিশ্বকে অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন নতুন অংশীদারিত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে।

শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। করোনা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ অন্যান্য ইস্যুতে ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, কভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে সবার জন্য সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিয়ে বৈষম্য দূর করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোকে একযোগে কাজ করানোর ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারব। এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিসংঘই হোক সবার ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল। আসুন, সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১২টার কিছুক্ষণ আগে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিতে শুরু করেন। এ বিশ্বসভায় তিনি প্রায় আধা ঘণ্টা ভাষণ দেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা তার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বরাবরের মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেন।

ইউএনজিএর ৭৬তম অধিবেশন গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। শতাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান নীতিনির্ধারণী এ বৈঠকে সশরীরে অংশ নিচ্ছেন। ভাষণের শুরুতে ইউএনজিএর ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় মালদ্বীপের আবদুল্লাহ শহিদ এবং ৭৫তম অধিবেশনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বিদায়ী সভাপতি ভলকান বজকিরকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে এ নিয়ে ১৭ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে করোনার প্রাদুর্ভাবের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ পরিষদের এই ৭৬তম অধিবেশনটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন কভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বারবার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারিতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এই সংকটকালে নিবেদিত সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য সম্মুখসারির সব করোনাযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, কভিড-১৯-এর নির্মম বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘প্রত্যাশা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সংকটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।

১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জাতির পিতা ছিলেন বহুপাক্ষিকতাবাদের একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি জাতিসংঘকে জনগণের ‘আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র’ মনে করতেন। বাংলাদেশের জাতিসংঘ অভিযাত্রার প্রথম দিনে একমাত্র ভাষণে তিনি এমন একটি বিশ্ব গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি থাকবে না।

তিনি বলেন, সাতচল্লিশ বছর আগের বঙ্গবন্ধুর সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি যে কোনো ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এসব বাংলাদেশের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কিছু উদাহরণ মাত্র।

টানা তিন মেয়াদে দেশ ও জনগণের কল্যাণে তার সরকারের উন্নয়ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম, জিডিপিতে বিশ্বের ৪১তম। গত এক দশকে দেশের দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দুই হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

তিনি বলেন, এ বছর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের মাইলফলক অর্জন করেছে। এখন আমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ ও ২১০০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও টেকসই বদ্বীপে রূপান্তর করা।

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ও এই সংকট মোকাবিলায় তার সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে দেশের শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া এ মহামারি মোকাবিলায় তার সরকারের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিভিন্ন সময় তার সরকার ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে। সময়োচিত পদক্ষেপ ও জনগণের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও বাংলাদেশ ৫ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনাদিকাল থেকে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। তা সত্ত্বেও বুকে আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানবজাতি এসব পাহাড়সম সমস্যা অতিক্রম করে টিকে রয়েছে। এই মহামারিও এমনি একটি সংকট, যেখান থেকে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সে জন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন সবাইকে অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ছয়টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, গত বছর এ অধিবেশনে তিনি কভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানালে বিশ্বনেতাদের অনেকে এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন। সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্নআয়ের দেশগুলো ১ শতাশেরও কম টিকা পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লাখ লাখ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনোই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারব না। তাই আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সংগত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেলের ওয়ার্কিং গ্রুপ-১-এর প্রতিবেদনে এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র কোনো দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্নআয়ের দেশগুলোর লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, সাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে। ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। তবে এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাঙ্ক্ষাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করে। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ আশা করে, দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশিসংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে। যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।

তিনি বলেন, মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাদের অনেকে চাকরিচ্যুত, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সংকটকালে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণকে নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, এ সংকট এবার পঞ্চম বছরে পড়ল। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করে। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আশা করি, আসিয়ানের নেতারা বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে হবে।

আফগানিস্তান সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ ও ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ দেশটির জনগণের ওপরই নির্ভর করে। আফগানিস্তানের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাবনার প্রধান প্রবক্তা হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বজায় রেখেছে।

তিনি বলেন, শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আজ আমরা গর্ববোধ করি। মহামারির নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে কঠিনতম পরিবেশে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের আলোকে বাংলাদেশ সর্বদা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক। বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রত্যয় থেকেই বাংলাদেশ ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ অনুস্বাক্ষর করেছে। এ বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

ভাষণে জাতিসংঘকে সারাবিশ্বে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মহান সংস্থা আখ্যা দিয়ে প্রায় ৪৬ বছর আগে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী ঘাতক বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্র তার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্নেহময়ী মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল, ১০-বছরের শেখ রাসেল, চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও নিকটাত্মীয়কে নির্মমভাবে হত্যা করে।

তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যাই। আমাদের ছয় বছর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছি। দেশে ফিরে আমি মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করি। জাতির পিতার স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

84 ভিউ

Posted ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com