বৃহস্পতিবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জাতীয় নির্বাচনের সময় জানাল সিইসি : কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ, ৯ দফা নিয়ে মাঠে বিএনপি

শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২
26 ভিউ
জাতীয় নির্বাচনের সময় জানাল সিইসি : কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ, ৯ দফা নিয়ে মাঠে বিএনপি

কক্সবাংলা ডটকম(৮ অক্টোবর) :: আগামী বছরের শেষ প্রান্তিক বা ২০২৪ সালের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আপনারা রাষ্ট্রের মূল প্রশাসনিক ইউনিট, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা। পদাধিকারবলে আপনারা জনগণের কাছে থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ও স্থানীয় সরকার গঠনের গুরুত্ব আপনারা নিশ্চয়ই অনুধাবন করে থাকেন।

শনিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকের সময় স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্যান্য কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা উপস্থিত রয়েছেন ।

সিইসি বলেন, প্রথমেই আমি ও আমার সহকর্মীদের পক্ষ থেকে উপস্থিত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের আন্তরিক স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সম্মানিত সিনিয়র সচিব ও বাংলাদেশ পুলিশের সম্মানিত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকও উপস্থিত আছেন। আপনাদেরও আন্তরিক শুভেচ্ছা। আমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমেই আপনারা আজকের সভার উদ্দেশ্য জেনেছেন।

কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ

দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব নির্বাচন বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে সবসময়ই উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিজেদের আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি এসব লক্ষ্য অর্জনে নানান পরামর্শও দিয়ে থাকেন তারা। সব সরকারের আমলেই চাপে থাকা বিরোধী দলগুলো সেসব বক্তব্য-পরামর্শকে স্বাগত জানায়।

অন্যদিকে বিদেশিদের কাছে ধরনা দেয়া নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন তোলে ক্ষমতাসীনরা। তবে এবার জাতীয় নির্বাচনের প্রায় বছর দেড়েক আগে থেকেই বিদেশি কূটনীতিকদের জাতীয় রাজনীতি, গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য নানামহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ মানছেন না কূটনীতিকরা। আর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করে কূটনীতিক শিষ্টাচার পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশনস ১৯৬১’-এর কারণে কোনো দেশের কূটনীতিকরা যদি ‘শিষ্টাচার’ বহির্ভূত কোনো কাজ করে থাকেন, তবে এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। অবশ্য কোনো কূটনীতিক শিষ্টাচার বহির্ভূতকাজে জড়িয়ে পড়লে তাকে বহিষ্কার করা বা প্রত্যাহার করার জন্য আহ্বান করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে,রাষ্ট্রদূতদের যথেষ্ট সম্মান করা হয়। বাংলাদেশের মতো এত আদর-যতœ কেউ করে না। সেটা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু আতিথেয়তা মানে এই নয়, কেউ এটির সুযোগ নিয়ে বাড়াবাড়ি আচরণ করবে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, উন্নয়নশীল দেশে বিদেশি কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপের প্রবণতা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে পশ্চিমারা এটি করে থাকে। কূটনীতিকদের রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হয়ে যাওয়া, আবার হস্তক্ষেপ করা- এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু

এসব প্রবণতা সব দেশে আমরা দেখি না। আমাদের দেশের চেয়ে অনেক দেশেই গণতন্ত্র অনেক বেশি চ্যালেঞ্জে রয়েছে, রাজনৈতিক সংকট রয়েছে- সেসব দেশে দাতা দেশগুলো এ ধরনের ভূমিকা পালন করে না বা কথা বলার সাহস পায় না। আবার অনেক সময় বিরোধী দল ক্ষমতায় আসার জন্য বিদেশিদের কাছে ধরনা দেয়, এটিও ভালো লক্ষণ নয়।

ভোটের আগে দৌড়ঝাঁপ :

দেড় বছরের মতো বাকি নির্বাচনের। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি। সাড়া দেয়নি বিএনপি। নির্বাচন নিয়ে সরব হয়েছেন বিদেশিরাও। বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি ছাড়াও সাতাশ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত। তাদের অবস্থান স্পষ্ট; অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চান পশ্চিমারা।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়। বাংলাদেশে অন্তর্ভূক্তিমূলক, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু নির্বাচন কমিশনের নয়, এটি সরকার, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের। সহিংস রাজনৈতিক অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয় এবং আগামী নির্বাচনে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় মনিটরিং করবে।

গত সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হোমসের মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ব্রিটেন। চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগমুক্ত নয় তারা। তবে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতা নয়; বরং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখতে চান তারা। ডিকসন বলেন, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রাস্তাঘাটে রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটেছে। আমরা সংঘর্ষ নয়, শান্তি দেখতে চাই।

যদিও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে না ভারত, তবে বাংলাদেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা দেখতে চায় না প্রতিবেশী দেশটি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সাভার জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ দেখতে চায় ভারত সরকার। তিনি বলেন, এদেশের নির্বাচন নিয়ে নাক গলাবে না নয়াদিল্লি। বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে ভারতে তার প্রভাব পড়ে। নিজেদের স্বার্থেই স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চায় তারা।

‘কোড অব কন্ডাক্ট’ মানছেন না কূটনীতিকরা :

২০২০ সালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদেশি কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ ছিল চোখে পড়ার মতো। ওই বছরের ২০ জানুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তÍর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কূটনীতিকদের ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ মেনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আর তা না হলে বিদেশি কূটনীতিকদের বাংলাদেশ ছাড়ার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, দুঃখের বিষয় এখানে কিছু বিদেশি মিশন আমাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করছে। নিজ নিজ দায়িত্বের বাইরে অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়। ডিপ্লোম্যাটরা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ মেনে কাজ করবেন। আর যারা মানবেন না, তাদের বলবো- দেশ থেকে চলে যান।

কূটনীতিকরা নির্বাচন প্রভাবিত করার মতো কথা বলবেন না- মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ডিপ্লোম্যাটরা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত। নির্বাচন নিয়ে প্রভাবিত করার মতো কোনো কথা কখনো বলেননি এবং বলবেনও না। আমাদের সঙ্গে অন্তত বলবেন না।

অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, কূটনীতিকদের ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ যেটা বলা হচ্ছে, কূটনৈতিক যে নিয়মকানুন আছে, বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্য আছে, তা অনেক সময় মেনে চলা হয় না। ভিয়েনা কনভেশন অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না। এতে ডিপ্লোমেটিক আচরণে সার্বিকভাবে ব্যত্যয় ঘটে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও কূটনীতিক শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, কূটনীতিকরা পরামর্শ দিতে পারেন, ছবক নয়। কূটনীতিকদের মধ্যে কূটনৈতিক আচরণ থাকবে, শিষ্টাচার থাকবে। গণতন্ত্র নিয়ে ভিন্ন মত থাকবে তবে তারা তাদের অভিমত চাপিয়ে দিতে পারেন না। হস্তক্ষেপ নিন্দনীয়। কূটনীতিকদের ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ নিয়ে ভিয়েনা কনভেনশনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

কূটনৈতিক ‘শালীনতা’ যেন লঙ্ঘন না হয় :

ক্ষমতাসীনরা বলছেন, বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা অবশ্যই আমাদের নির্বাচন নিয়ে পরামর্শ দিতে পারেন, সেটি যেন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মতো না হয়। কূটনৈতিক শালীনতা যেন লঙ্ঘন না হয়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য যারা রাষ্ট্রদূত ছিলেন এবং অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূতরাও নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। আমরাও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন চাই। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক শুধুমাত্র সরকারি দলের দায়িত্ব নয়; সব দলের দায়িত্ব। বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা নির্বাচন নিয়ে পরামর্শ দিতে পারেন, সেটি যেন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মতো না হয়। একই সঙ্গে কূটনৈতিক শালীনতাও যেন লঙ্ঘন না হয়।

জানতে চাইলে সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শফিউল্লাহ  বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নানা অজুহাতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের শরণাপন্ন হয়। নিজেরাই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কূটনীতিকদের কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। রাষ্ট্রদূতরা তাদের দেশের কথা বলবে। তাদের নীতির কথা বলবে। প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, হাই অফিসিয়িালসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলবে। কারণ এসব বিষয় তাদের দেশে জানাতে হয়। কূটনীতিকরা যে রাজনীতি নিয়ে কথা বলছেন, এটি নিয়েও বিভিন্ন মহলে কথা হচ্ছে। সব বিষয়ে মনিটরিং করে নিজ দেশে জানানোই তাদের কাজ। কিন্তু তারা হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সীমারেখা কতটুকু এটি দেখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, তবে এর কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। প্রতিটি সরকার চায় দেশে বাইরের বিনিয়োগ আসুক। বিদেশি বিনোয়োগ আসার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতদের ভূমিকা রয়েছে। সংঘাতপূর্ণ দেশে কেউ বিনিয়োগ করতে চায় না। মূলত এসব কারণেই কূটনীতিকরা কথা বলে। সুষ্ঠু নির্বাচন ও সুস্থ রাজনীতি থাকলে বিনিয়োগ বাড়বে, এটিই স্বাভাবিক।

তত্ত্বাবধায়কসহ ৯ দফা নিয়ে মাঠে বিএনপি

দশ সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনসম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে দলটি।

৮২ সাংগঠনিক জেলা ও এর অধীনের ইউনিটে এসব সমাবেশ সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ১০টি শক্তিশালী টিম। যেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি, সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ জেলা নেতাদের রাখা হয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ৯ দফা দাবিতে হবে এ সমাবেশ।

এর আগে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দাবি সংবলিত ৩০ লাখ লিফলেট ও পোস্টার তৈরি করা হয়েছে, যা দু-একদিনের মধ্যে সারা দেশে পাঠানো হবে। ‘একদলীয় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’ শিরোনামে লিফলেট ও পোস্টারে গুলিতে নিহত নূরে আলম, আব্দুর রহিম, শাওন প্রধান, শহিদুল ইসলাম শাওন ও আব্দুল আলমের ছবিও রাখা হয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও ৯ দফা দাবির মধ্যে আছে-‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি; চাল-ডাল, জ্বালানি তেল, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো; গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ; শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও শিক্ষা খাতে ভয়াবহ দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ; দুর্নীতির রাহুগ্রাসে ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতের হরিলুট বন্ধ; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, সাংবাদিকসহ সাধারণ নাগরিকদের মামলায় হয়রানি বন্ধ; ব্যাংকিং খাতে লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচার, শেয়ারবাজার লুণ্ঠনের অর্থ উদ্ধার এবং কৃষক, শ্রমিক, নিম্নবিত্ত মানুষের ন্যায্য দাবি মানতে হবে।’

বুধবার থেকে এই সমাবেশ শুরু হবে। শুরুর দিন ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ, ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর এবং ৫ নভেম্বর বরিশালে সমাবেশ হবে। ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং সবশেষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ। ১ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এসব বিভাগের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৮২ সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ দুই নেতাকে নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা করেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

এ সময় লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে সব সমাবেশে সর্বোচ্চসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি চেয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এজন্য নানা দিকনির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে জেলা ও মহানগরে কোনো কোন্দল থাকলে তা সমাধানের ওপর জোর দেন হাইকমান্ড।

সমাবেশে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে যা যা দরকার, তা করতে নেতাদের নির্দেশও দেন দলটির হাইকমান্ড। ওই সভার পর সব সাংগঠনিক জেলার নেতারা নিজ এলাকায় ইতোমধ্যে চলে গেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে টিমগুলোও বিভাগে প্রস্তুতি সভা করছে। জেলা শাখার নেতারা সংশ্লিষ্ট থানা, উপজেলা, পৌর ও ওয়ার্ডে কর্মী সভাও শুরু করেছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, আমরা কেন্দ্র থেকে ২০ লাখ লিফলেট ও ১০ লাখ পোস্টার সব সাংগঠনিক জেলায় পাঠিয়ে দেব। এছাড়াও জেলার নেতাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারাও স্থানীয়ভাবে পোস্টার ও লিফলেট তেরি করবেন। সমাবেশের আগে জনসচেতনতার জন্য পোস্টার লাগানো হবে। বিতরণ করা হবে লিফলেট।

তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির মিডিয়া সেলেরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সব সমাবেশই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিডিয়া সেলের ফেরিফাইড পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা করা হবে।

বিএনপি ঘোষিত প্রথম সমাবেশ হবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরে। এ বিভাগে চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান-এ দশটি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে বিএনপির। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বুধবারের সমাবেশের জন্য প্রশাসনকে স্টেডিয়াম সংলগ্ন কাজীর দেউরি চত্বর ও লালদীঘির চত্বর-এ দুটি জায়গায় কথা বলেছি।

আশা করছি যে কোনো একটি তারা দেবেন। এখন মহানগরে প্রস্তুতি সভাগুলো করছি। মহানগর ছাড়াও অন্যসব সাংগঠনিক জেলায় প্রস্তুতি সভা চলছে। আশা করছি, দেশের এই ক্রান্তিকালে, মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে চট্টগ্রামের এ সমাবেশ হবে ঐতিহাসিক।

বিএনপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, তৃণমূলের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তাতে আমরা অনেক আশাবাদী। বিভাগীয় সমাবেশেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেবেন। ঢাকা বিভাগের মহাসমাবেশ সফলে যা যা করা দরকার, তা করা হচ্ছে। এ বিভাগের অন্তর্গত সব জেলার নেতারা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সভা শুরু করেছেন।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, আমরা ঢাকার সমাবেশটাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছি। ঢাকার সমাবেশের চেয়েও যেন রাজশাহী বিভাগের সমাবেশ বড় করা যায়, সে লক্ষ্যেই নেতারা কাজ করছেন। দু-একদিনের মধ্যেই প্রতিটি জেলায় একটি করে টিম যাবে, সেখানে নেতাদের সঙ্গে সভা করবে। সমাবেশ সফল করার জন্য প্রতিটি থানা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত যাব। কারণ এই সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি চায় তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে।

তিনি আরও বলেন, সমাবেশের মধ্য দিয়ে আমরা সরকারকে ধাক্কা দিতে চাই। এটা হচ্ছে সরকারের পতনের ধাক্কা। যেহেতু কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। কারণ সরকারের সঙ্গে আমরা আলোচনা এবং সমঝোতায় যেতে চাই না। সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।

যে নির্বাচনে মানুষ তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, তাদের পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে পারবে। এই সরকারের দুঃশাসন থেকে পরিত্রাণের জন্যই এই আন্দোলন। তাই আমাদের পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। ধীরে ধীরে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকেই যাচ্ছে বিএনপি। এতে প্রত্যেক মানুষকে আমরা যুক্ত করতে চাই।

26 ভিউ

Posted ৩:০০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com