শনিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

সংসদ নির্বাচন ঘিরে দুই মেরুতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি : নেই সমঝোতার লক্ষণ

রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
80 ভিউ
সংসদ নির্বাচন ঘিরে দুই মেরুতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি : নেই সমঝোতার লক্ষণ

কক্সবাংলা ডটকম(১৭ সেপ্টেম্বর) :: দরজায় কড়া নাড়ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে বেড়েই চলেছে রাজনৈতিক উত্তাপ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। সেই সঙ্গে আছে বৈদেশিক চাপ ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

এই প্রেক্ষাপটেই সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের দৃষ্টি এখন ভোটের মাঠে। সরকারের টানা পনের বছরের উন্নয়ন-সাফল্য তুলে ধরে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে তৎপর দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল। সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি মানার সুযোগ নেই। আর এ লক্ষ্যে ভোটের প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজপথে বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় প্রস্তুতিও রয়েছে তাদের।

অন্যদিকে বিএনপি মনে করছে আন্দোলন প্রশ্নে তারা এখন ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্নে’। পিছু হটলেই পড়তে হবে অস্তিত্ব সংকটে। ‘এক দফা’ দাবি আদায়ে রাজপথেই সমাধান খুঁজতে চান তারা। ভয়-ভীতি উপেক্ষা করেই তারা সরব থাকছেন রাজপথে। দিচ্ছেন সরকার পতনের হুঙ্কার। দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ‘বাঁচা-মরার’ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত রাজপথে থাকার কোনো বিকল্প নেই। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে জনগণের সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে এবার ‘গণঅভ্যুত্থান’ ঘটাতে চান তারা।

এক দফা আন্দোলনে বিএনপির মূল টার্গেট এবার ঢাকা। প্রতিটি কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম ঘটিয়ে সরকারকে ‘না’ বলে দেয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে প্রতিটি সিদ্ধান্তে অটল থাকবে দলটি। অতীত আন্দোলনের অভিজ্ঞতায় বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, ঢাকায় জোরালো আন্দোলন ছাড়া সরকার পতন সম্ভব নয়। তাই তো কর্মসূচির ধরনে পরিবর্তন এনে গতি বাড়িয়ে ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসূচির রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তারা এক দফা আন্দোলনের পরিণতি দেখতে চান। নেতাদের আশঙ্কা- তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলে নির্বাচন ঠেকানো কঠিন হবে। এজন্য যুগপৎ আন্দোলনকে অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত রূপ দিতে ২০ দিনের সময়সীমা বেঁধে অলআউট কর্মসূচির রোডম্যাপ ঠিক করা হয়েছে।

দেশের বড় দুই দলের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে দেশের রাজনীতি এখন চৈত্রের বাউলা বাতাসের মতো উড়ছে। বাতাস কখন কোনমুখি হয় বলা মুশকিল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

এতোদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে প্রচার করা হতো বিএনপি বিদেশীদের (যুক্তরাষ্ট্র) পথ পানে চেয়ে রয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সিংগাপুরে, ড. হাছান মাহমুদ কানাডায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশাল বহর নিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে আজ যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন।

অন্যদিকে এতোদিন বিএনপি প্রচার করছে সেপ্টেম্বর থেকে সব ধরণের কর্মসূচি হবে ঢাকামুখি। কয়েকদিন আগেও ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ শ্লোগান দিয়েছে দলটির নেতাকর্র্মীরা। এখন কর্মসূচি হচ্ছে ঢাকার বিপরীত মুখে।

দিনাজপুর থেকে যে কর্মসূচি রংপুর-বগুড়া-সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকা মুখি হওয়ার কথা; সেটা উল্টোপথে হচ্ছে রংপুর থেকে দিনাজপুর, বগুড়া থেকে নওগাঁ হয়ে রাজশাহী অভিমুখে। এমন পরিস্থিতিতে সামনে দল কোন পথে হাঁটবে কি কৌশল নেবে তা নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীরাই আছেন অন্ধকারে। এতে করে প্রতিদ্বন্দ্বি দল দু’টির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা-অনাস্থা এবং বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কী হতে যাচ্ছে। কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে তা নিয়ে সবাই এখনো অন্ধকারে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধানের দোহাই দিয়ে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতোই নতুন ফর্মে পাতানো নির্বাচনের পথে এগুচ্ছে। মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ‘ন্যাড়া একবারই বেল তলায় যায়’ প্রবাদ প্রবাদের শিক্ষায় ২০২৮ সালের মতো বোকামি করতে চায় না।

দলটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না; দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেবে না। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে ‘একশ দল নির্বাচনে অংশ নিলেও সে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না যদি বিএনপি অংশ না নেয়’।

এ অবস্থায় বাংলাদেশের রাজনীতি, মানবাধিকার, আইনের শাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা অব্যহত রয়েছে। নির্বাচন ইস্যুতে গত ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্র নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। তারা চায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণে ‘মডেল’ নির্বাচন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি’ দেয়া হলেও বিগত দু’টি নির্বাচনের আলোকে কেউ সেটা বিশ্বাস করছে না।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে ভারতের সে সময়ের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের কর্মকা- সবাই জানে। আবার ২০১৮ সালের ‘রাতে ব্যালটে সিল মারা’ নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক মহলে ভারত আওয়ামী লীগের পক্ষে দুতিয়ালি করে সরকার টিকিয়ে রাখে। এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।

তারাও চায় পাতানো নির্বাচন নয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক। ভারতের সরকারি সংবাদ সংস্থা পিটিআই ১৩ সেপ্টেম্বর ‘কেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র লাইফ সাপোর্টে?’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রভাবশালী ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া পিটিআই-এর বরাতে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে একটি নির্বাচন আসার সাথে সাথে, সরকারের প্রধান বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের থেকে চাপ বাড়ছে। তারা একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে একের পর এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে রাস্তায় নেমেছে।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন করতে চায়। তার অধীনে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন দুটি বিতর্কে পরিপূর্ণ ছিলো। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভবত বাংলাদেশের স্বৈরাচারী শাসনের পথ অবরুদ্ধ করবে এবং বৃহত্তর জবাবদিহিতার পথ প্রশস্ত করবে।’

গত ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ ‘বাংলাদেশে নতুন করে ভিন্নমত দমনের মাত্রা বৃদ্ধির শঙ্কা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।এতে বলা হয়, ‘আগামী নির্বাচনের আগে ১৭ কোটি মানুষের উপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করে ধরে রেখেছেন। ভিন্নমতের কণ্ঠকে হয়রানি ও দমন করার জন্য গত ১৪ বছর ধরে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব দখল করেছেন। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছেন। দেশটিতে ক্রমবর্ধমানভাবে ভয়ংকর হয়ে উঠা বিচার ব্যবস্থায় বিরোধীদলীয় সমর্থক, নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকরা আটকা পড়েছেন। আদালতের কক্ষগুলো তাদের দিয়ে ঠাসা।’

নতুন ভিসা নীতি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র বিমুখ অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ। গত ৩ জুন শেখ হাসিনা বলেন, ‘কে আমাদের ভিসা দেবে না, কে স্যাংশন দেবে, ও নিয়ে মাথাব্যথা করে লাভ নেই। ২০ ঘণ্টা জার্নি করে, আটলান্টিক পার হয়ে আমেরিকা না গেলে কিচ্ছু যায় আসে না। পৃথিবীতে আরো অনেক মহাসাগর আছে, অনেক মহাদেশ আছে। আমরা সেসব মহাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবো।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ নেতারা বক্তৃতা-বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যত ‘শত্রুরাষ্ট্র’ তকমা দেয়।

অথচ জি ২০ সম্মেলনে দেখা গেল দিল্লিতে জো বাইডেনের সঙ্গে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবেন। ১৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত নৈশভোজেও প্রধানমন্ত্রী যোগ দিবেন। এদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সিংগাপুর গেছেন চিকিৎসা নিতে।

দীর্ঘ সাড়ে চৌদ্দ বছর ধরে আওয়ামী লীগ দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করছে। দু’টি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসায় দলটির নেতাকর্মীদের চিন্তা চেতনায় ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা’ ছাড়া অন্য কিছু নেই। দলের কেন্দ্র থেকে শেকড় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা ফের ক্ষমতায় আসার জন্য উদগ্রীব।

কেউ দলীয় নমিনেশনের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, কেউ পছন্দের প্রার্থীকে দলীয় নমিনেশন দেয়ার দেনদরবার করছেন। অথচ এতোদিন দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিয়োদগার করাকে তারা কৌশল মনে করতেন। কিন্তু হঠাৎ করে ‘সেলফি’ প্রদর্শন এবং শীর্ষ নেতাদের যুক্তরাষ্ট্র গমন কারো সিংগাপুর যাওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়ে গেছেন। আসলে দল কোন পথে হাঁটছে?

এতোদিন বিএনপি থেকে প্রচার করা হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে সব ধরণের কর্মসূচি রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক হবে। এর আগে জেলা পর্যায়, বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচি পালনে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। নানা বাধা বিপত্তির মধ্যেও সমাবেশগুলোতে লাখ লাখ লোকের সমাবেশ ঘটেছে। এমনো দেখা গেছে একশ কিলেমিটার পায়ে হেঁটে, সমাবেশের দু’দিন আগে মাঠে উপস্থিত হয়েছেন হাজারো কর্মী।

অতপর রাজধানী ঢাকার সমাবেশগুলোতে লাখ লাখ লোকের জমায়েত হয়। এমনকি রাজধানী ঢাকায় পথযাত্রা কর্মসূচিগুলোতে লাখো কর্মী সমর্থক হাজির হন; মাইলের পর মাইল পথযাত্রা দীর্ঘ হয়। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় যখন রাজনীতির মূল কেন্দ্র ঢাকা কেন্দ্রিক কর্মসূচি জোরদারের কথা; তখন ‘উল্টো যাত্রা’ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।

শনিবার যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল তথা তারুণ্যের কর্মসূচি রোডমার্চ রংপুর শহর থেকে শুরু হয়ে সৈয়দপুর দিয়ে দশমাইল হয়ে দিনাজপুরে গিয়ে শেষ হয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর বগুড়া থেকে রোডমার্চ শুরু হয়ে সেটি সান্তাহার, নওগাঁ হয়ে রাজশাহী নগরে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। তিন দিন বিরতি দিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর আবার সিলেটে রোডমার্চ। ভৈরব বাজার থেকে এই রোডমার্চ শুরু হয়ে সেটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার হয়ে সিলেটে গিয়ে শেষ হবে। আবার ২৬ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ থেকে রোড মার্চ শুরু হয়ে যশোর, নোয়াপাড়া হয়ে খুলনায় যাবে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রোডমার্চ যাত্রা করবে।

এটি কুমিল্লা থেকে শুরু হয়ে ফেনী, মিরসরাই হয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে শেষ হবে। দলটির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, দেশের ভোটাধিকারবঞ্চিত তরুণদের চলমান আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতেই তারুণ্যের এসব সমাবেশ। এখন চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে তরুণ-যুবকদের উজ্জীবিত করতে, রাজপথে আনতে এই রোডমার্চ কর্মসূচি নেয়া হয়। ‘এক দফা’ দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে তারুণ্যের রোডমার্চকে গণজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আবার ১৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানানা, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি। আসলে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতার এখনো অন্ধকারে দলটি ‘এক দফা’ আন্দোলন নিয়ে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিজ নিজ দলের গতিবিধি কর্মকৌশল কিছুই বুঝতে পারছেন না। দলের নীতি নির্ধারকদের কৌশল বদল, বিপরীতমুখি কর্মকা- নিয়ে তারা কার্যত অন্ধকারে রয়েছেন। সামনে দল কোন পথে যাবে সেটা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ যাচ্ছে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একপক্ষ যে কোনো মূল্যে আগামী নির্বাচন করতে চায়। আরেক পক্ষ যে কোনো মূল্যে এই নির্বাচন প্রতিহত করতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে দুই বড় দলের এই অনড় অবস্থানের পরিণতি কার জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না। এতে সংঘাত-সহিংসতার দিকে দেশ ধাবিত হবে। তখন কোনো পক্ষই আর নিরাপদ থাকবে না। জাতি হিসাবে আমরাও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়াব। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন রাজনীতিবিদদের বোধোদয়। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া। সমাধানের পথ খোঁজা। একটি কথা মাথায় রাখতে হবে-অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে সংকট মোকাবিলায় দিনশেষে এগিয়ে আসতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকেই, রাজনীতিবিদদেরই।

80 ভিউ

Posted ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com