সোমবার ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জাতীয় নির্বাচনে চাঙ্গা দেশের অর্থনীতি

শনিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮
156 ভিউ
জাতীয় নির্বাচনে চাঙ্গা দেশের অর্থনীতি

কক্সবাংলা ডটকম(৮ ডিসেম্বর) :: সামনেই নির্বাচন। রাজনীতির মাঠ থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, বলতে গেলে সব জায়গাতেই এখন উৎসবের আমেজ। ঈদ, পূর্জা কিংবা জাতীয় নির্বাচনের সময় শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামেও নগদ অর্থের সরবরাহ বাড়ে। ভোটের উষ্ণতা চায়ের কাপের ঝড়কে প্রভাবিত করে।

অর্থনীতির ভাষায় কর্মচাঞ্চল্য বাড়লে মানুষের ভোগ কিংবা ব্যয় বাড়ে, যা দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি ঈদের কথা বাদ দিলে ‘সংসদ নির্বাচনী উৎসব’ই সবচেয়ে বড় উৎসব, যদিও তা পাঁচ বছর পরপর আসে। গতবারের নির্বাচন খুব একটা জমেনি। ফলে টাকাও সেভাবে গ্রামাঞ্চলে যায়নি। এবারের ভিন্ন চিত্র। ঘরে ঘরে প্রার্থী। ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, ডাক্তার-আইনজীবী থেকে শুরু করে প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষই এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

ফলে নির্বাচন কেন্দ্র করে সারা দেশে নগদ অর্থের সরবরাহ বাড়ছে আগের চেয়ে কয়েক গুণ। মোটা দাগে প্রায় সব অংশগ্রহণকারী দলগুলো নির্ধারিত অর্থের প্রায় ৩ গুণ বেশি খরচ করে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টান্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। এতে টাকার সার্কুলেশন বাড়ছে। ফলে অর্থনীতি লাভবান হচ্ছে।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের জন্য সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।২০১৭-১৮ সালে বরাদ্দ ছিল ৯৫৩ কোটি টাকা। তবে নির্বাচন কেন্দ্র করে নতুন কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য বা বিনিয়োগে আসছেন না আগ্রহীরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচনের পরই তারা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাড়তি খরচ মেটাতে বাজারে ব্যাংকবহির্ভূত টাকার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই কালো টাকা। এই টাকার প্রভাবে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, নির্বাচনী চাপ মোকাবেলা করে ভোটের পর অর্থনীতি আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

মনোনয়ন কেনা থেকে শুরু করে মিছিল-মিটিং, সব জায়গাতেই টাকার ছড়াছড়ি। বড় ছয়টি দলই মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছেন ৩২ কোটি টাকারও বেশি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগেভাগেই করা ব্যানার, পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহর-বন্দর-গ্রাম। ভোগ ব্যয় বাড়ছে। এটা জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে একেকজন প্রার্থী খরচ করতে পারবেন ২৫ লাখ টাকা।

সেই হিসেবে যদি এক আসনে গড়ে পাঁচজনও প্রার্থী হন, তবে ৩০০ আসনে খরচ হবে ৩৭৫ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে এ খরচ আরো বাড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন খরচ ছাড়িয়ে যেতে পারে দেড় হাজার কোটি টাকা। কারণ, ভোটারদের মন জয়ে বেঁধে দেয়া নির্ধারিত খরচের চেয়ে বেশি খরচ করেন প্রার্থীরা। সেটা এখন ওপেন সিক্রেট।

তিনশ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা কোটি টাকার বেশি খরচ করেন ইলেকশনে। এটা নিশ্চিত। ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে, যা অন্তত পাঁচগুণ বেশি। এ ছাড়া অনেক আসনে শক্তিশালী একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী তো আছেনই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী একেকটি আসনে পাঁচজন প্রার্থী মিলে কমপক্ষে ৪ কোটি টাকা ব্যয় করবেন। আর ঢাকার আসনগুলোর একেকটিতেই ২ থেকে ৪ কোটি টাকা খরচ করবেন একেকজন প্রার্থী। সে হিসেবে প্রার্থীদের খরচ দাঁড়াবে কমপক্ষে ১২০০-১৫০০ কোটি টাকা। এ পরিমাণ অর্থের প্রায় ৯০ ভাগই যাবে গ্রামে।

এর বাইরে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব খরচ ধরা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা, যা মাত্র নির্বাচনী মাসে দেশের অর্থনীতিতে আবর্তিত হবে। বিভিন্নভাবে প্রবাসীরাও টাকা ঢালবেন নির্বাচনে। টাকার সরবরাহে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে ঠিকই। তবে ভয় আছে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে কিনা সেটি নিয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থনীতির একটি বড় দিক হচ্ছে এ সময় আটকে থাকা টাকার সঞ্চালন বেড়ে যায়, যদিও তা উৎপাদন খাতে যায় না।

তবু টাকার প্রবাহ বেড়ে যায়, ফলে অর্থনীতিতে এক ধরনের ভারসাম্য তৈরি হয়। নির্বাচন দেশের অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা হবে বলে মনে করেন এফবিসিসিআইর সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

নির্বাচনকালীন সময়ে পোশাক শিল্পের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে না বলে মনে করেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে পোশাক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। অন্য সময়ের মতো উৎপাদন অব্যাহত আছে।

156 ভিউ

Posted ১:২৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com