শনিবার ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জাফর ইকবালের পেছনেই নির্বিকার দাঁড়িয়ে সেই হামলাকারী যুবক !

রবিবার, ০৪ মার্চ ২০১৮
368 ভিউ
জাফর ইকবালের পেছনেই নির্বিকার দাঁড়িয়ে সেই হামলাকারী যুবক !

কক্সবাংলা ডটকম(৩ মার্চ) :: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ জাফর ইকবালকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে সিলেট থেকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকায় আনা হয় তাকে।

শনিবার বিকেল পাঁচটা ৩৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে অধ্যাপক জাফর ইকবাল ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন। তার মাথার পেছনে আঘাত করা হয়েছে।আর জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাতের আগে ঠিক তার পেছনেই নির্বিকার দাঁড়িয়ে ছিল হামলাকারী যুবক।এর পরপরই শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

এদিকে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর রহমান ফয়জুলের বাড়িতে অভিযান শেষ করেছেন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে পুলিশ ও এর ২০ মিনিট আগে র‌্যাব অভিযান শেষে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এসময় তারা হামলাকারী ফয়জুলের মামা ফজলুল রহমানকে আটক করে নিয়ে যায়। একইসঙ্গে হামলাকারীর বাবা মাওলানা আতিকুর রহমানের বাড়ি থেকে বইপত্র ও সিডি নিয়ে যায় আইন-শঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার দিবাগত রাত দুইটায় ঘটনাস্থল সিলেট জেলার টুকেরবাজার শেখপাড়া ওয়ার্ডের মেম্বার গিয়াস উদ্দিন এসব তথ্য জানান।  তিনি বলেন, ‘আইনশঙ্খলা বাহিনী হামলাকারী ফয়জুলের পাশের বাড়ি থেকে তার মামা  ফজলুল রহমানকে আটক করেছে। তার বয়স আনুমানিক বিয়াল্লিশ-পয়তাল্লিশ।

এদিন বিকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিপল-ই বিভাগের ফেস্টিভ্যালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর রহমান ফয়জুল। পরে শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা পড়ে সে এখন আইনশঙ্খলা  বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আছে।

গিয়াস উদ্দিন জানান, পুলিশ হামলাকারীর মামা ফজলুলের ঘর থেকে একটি ল্যাপটপ জব্দ করেছে। আটকের পর ফজলুল পুলিশকে জানান, হামলাকারী ফয়জুলের একটি মোবাইলের দোকান আছে। দোকানটি সিলেট বন্দরবাজার করিম উল্লাহ মার্কেটে অবস্থিত।’

ফজলুল রহমান পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, তার ভাই লন্ডনে আছেন। আর তার স্ত্রীর আত্মীয়স্বজন সবাই প্রবাসী।

এর আগে রাত আটটার দিকে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর রহমান ফয়জুলের পিতা মাওলানা আতিকুর রহমানের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সিলেট-সুনামগঞ্জ রোডের টুকেরবাজার শেখপাড়ায় বসবাস করেন ফয়জুলের আটটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সিলেট র‌্যাব-৯ এর একটি দল ও সিলেট মহানগর পুলিশের (উত্তর) জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার বিভূতি ভূষণের নেতৃত্বে পুলিশ ফয়জুলের ওই বাড়িতে অভিযান চালান। এসময় তারা বাড়ির দেয়াল টপকে প্রথম দফায়ই বাড়ির চারদিক তল্লাশি করেন। এরপর তারা গেটের তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপকভাবে তল্লাশি অভিযান চালান।

র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা বাড়ি ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি অভিযান চালান। এসময় চারটি কক্ষ থেকে কয়েকজনের জাতীয় পরিচয়পত্র, জিহাদি বই, একটি ছোরাসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত সংগ্রহ করেন। কয়েকটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে।তবে ওই বাড়িতে  কারও ছবি পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে,ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীর নাম ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৫)। তার অন্য ভাইয়েরা স্থানীয়দের সঙ্গে মেলামেশা করলেও সে কারও সঙ্গে মিশতো না। তাদের একভাই কুয়েত প্রবাসী।

সিলেটের জালালাবাদ উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের শেখেরপাড়া ওয়ার্ডের  সদস্য গিয়াস উদ্দিন এই তথ্য জানান।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ফয়জুলের বাবার নাম মাওলানা আতিকুর রহমান। তারা এই এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেছে। মাওলানা আতিকুরের তিন ছেলে। আবুল, হাসান ও ফয়জুল। এদের মধ্যে একজন কুয়েতে থাকে। ফয়জুলকে কারও সঙ্গে মিশতে দেখতাম না। সে মাঝে-মাঝে বাড়ির বাইরে আসতো, তবে কারও সঙ্গে মিশতো না। তাকে স্থানীয় কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও যেতে দেখিনি। সে কোথায় লেখাপড়া করেছে, তা এখনও নিশ্চিত না।’

তিনি বলেন, ‘ফয়জুল বুকের ওপর হাত দিয়ে নামাজ পড়তো। আমাদের মতো নামাজ পড়তো না। স্থানীয়রা অনেকে বলছেন, সে নিয়মিত বাড়িঘরে থাকতো না। মাঝেমধ্যে আসতো আবার চলে যেত।’

এই ইউপি সদস্য বলেন, ‘ঘটনার পর টুকেরবাজারের শেখপাড়ায় ফয়জুলদের বাসায় র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালায়। তবে বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল।’

টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ বলেন, ‘হামলাকারীর পিতা টুকেরবাজারে মুখলেসিয়া মহিলা মাদ্রাসায় চাকরি করেন।’

রাত পৌনে বারোটার দিকে টুকেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ আরও বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত। মহল্লা সার্চ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ’

এদিকে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী যে এলাকায় ছিল, সেই এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চলছে। তবে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আর কেউ আটক হয়নি।

র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা তিন চারটি পরিচয় এপর্যন্ত পেয়েছি। সবগুলো তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছি। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালাচ্ছি। যেখানে যেখানে তথ্য পেয়েছি, সেখানেই আমরা অভিযান চালাচ্ছি। নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলেই সবাইকে জানাবো।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশেও আমরা অভিযান চালিয়েছি। তদন্ত করছি, এখনই সবকিছু জানানো যাবে না।’

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা তার একাধিক নাম পেয়েছি। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। একেক সময় আমরা একেকটি নাম পাচ্ছি। সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি, যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য,জাফর ইকবালের ওপর হুমকি আগেই ছিল ২০১৬ সালের এপ্রিলে পুলিশ সদর দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাফর ইকবালকে সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া হয়। তখন দিনের বেলায় দুজন এবং রাতে তিনজন সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বার্তা আসে। সেই  বার্তায় লেখা ছিল ‘Hi Unbeliever! We will strangulate you soon’।  তিনি লেখক হিসেবে বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। আমেরিকাতে পড়ার সময় তিনি তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ইয়াসমিন হকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ড. ইয়াসমিন হক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। ১৯৯৪ সালে তিনি দেশের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। উগ্রবাদী ও জামায়াত-শিবির চক্র সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে আসছে।

তার বৈশিষ্ট্যসূচক সহজ ভাষায় লেখা কলামগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক কালের কন্ঠসহ একাধিক পত্রিকায় সাদাসিধে কথা নামে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। তাঁর লেখা কলামগুলোতে তাঁর রাজনৈতিক সচেতনা এবং দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর স্বাধীনতা-বিরোধী ও ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মত প্রকাশ এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারার ধারক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাহিত্য ও সংস্কৃতিসেবী ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে অবস্থান বিভিন্ন সময় প্রতিক্রিয়াশীলদের রোষানলে পড়েছে।

ড. জাফর ইকবাল নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই। বর্তমানে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি নিয়মিত বিজ্ঞান-কল্পকাহিনী লিখে যাচ্ছেন, প্রতি বইমেলাতে তার নতুন সায়েন্স ফিকশান কেনার জন্যে পাঠকেরা ভিড় জমায়।

তিনি কিশোর উপন্যাসের লেখক হিসেবেও অত্যন্ত সফল। এই শাখাতেই তার প্রতিভা সর্বোচ্চ শিখর ছুঁয়েছে। তার লেখা অনেকগুলো কিশোর উপন্যাস বাংলা কিশোর-সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তার একাধিক কিশোর উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড গড়ে তোলার পেছনে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। গণিত শিক্ষার ওপর তিনি ও অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বেশ কয়েকটি বই রচনা করেছেন। এর মাঝে “নিউরনে অনুরণন” ও “নিউরনে আবারো অনুরণন” বই দুটি গণিতে আগ্রহীদের কাছে খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

368 ভিউ

Posted ২:১৯ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৪ মার্চ ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com