মঙ্গলবার ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

টানা ১৯ দিনের ছুটির ফাঁদে দেশ

মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১
118 ভিউ
টানা ১৯ দিনের ছুটির ফাঁদে দেশ

কক্সবাংলা ডটকম(২০ জুলাই) :: ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবং পরবর্তী করোনা বিধিনিষিধে কার্যত টানা ১৯ দিনের ছুটিতে পড়ছে দেশ। ঈদের ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘোষিত বিধিনিষিধে দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকবে অফিস, গণপরিবহন ও শপিং মল। তবে সীমিত আকারে খোলা থাকছে ব্যাংক।

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) থেকে ঈদের ছুটি শুরু হলেও পশুর হাট সংলগ্ন ব্যাংকগুলোর শাখা-উপশাখা সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকছে।

এ ছাড়া আজ তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধের সুবিধার্থে কেবল ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তৈরি পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো খোলা থাকবে।

এদিন ব্যাংকে সকাল ১০টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে।

এ ছাড়া কঠোর লকডাউন চলাকালে আগামী ২৫ জুলাই (রবিবার) থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে।

লেনদেন পরবর্তী সময়ের কাজ গোছানোর জন্য ব্যাংক খোলা রাখা যাবে দুপুর ৩টা পর্যন্ত।

এর বাইরে আরোপিত বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাতকরণ মিল কারখানা, কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ওষুধ, অক্সিজেন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্প-কারখানা।

আগামীকাল বুধবার (২১ জুলাই) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। অর্থাৎ ঈদের তিন দিন (২০, ২১ ও ২২ জুলাই) ছুটি।

এরপর ২৩ ও ২৪ জুলাই সাপ্তাহিক (শুক্র ও শনিবার) ছুটি। ফলে ঈদের ছুটি মিলে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সবাই।

অন্যদিকে, করোনা সংক্রমণ রোধে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকেই শুরু হচ্ছে বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ চলবে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত।

অর্থাৎ মোট ১৪ দিন থাকছে বিধিনিষেধ।

এসময় সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখা হবে। বন্ধ থাকবে সব শিল্প কারখানা এবং গণপরিবহন।

আগামী ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার পরদিন শুক্র ও শনিবার (৬ ও ৭ আগস্ট) সাপ্তাহিক ছুটি।

সাপ্তাহিক ছুটিতে সরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও অধিকাংশ বেসরকারি অফিস খোলা থাকে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে মূলত ঢাকা ত্যাগ করা মানুষদের আসার সুযোগ রেখে ৮ আগস্ট থেকেই শুরু হবে বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম।

অর্ধকোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়ছে ছয়দিনে, ফিরতে হবে একদিনে

টানা দুই সপ্তাহ পর ১৫ জুলাই থেকে শিথিল করা হয় কঠোর বিধিনিষেধ। সিম ব্যবহারকারীর তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ওইদিনই প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছে। গতকাল পর্যন্ত শৈথিল্যের প্রথম পাঁচদিনে রাজধানী ছেড়েছে অর্ধকোটি মানুষ। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আজও ঢাকা ছাড়তে পারে আরো ১০-১৫ লাখ। ২৩ জুলাই থেকে আন্তঃজেলা পরিবহন যোগাযোগ বন্ধের পাশাপাশি আবারো কঠোর বিধিনিষেধ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। সে হিসাবে ঘরমুখো মানুষ এবার ঢাকা ছাড়ার জন্য ছয়দিন সময় পেলেও ঈদের পর ফেরার জন্য সময় পাচ্ছে মোটে একদিন।

পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষকে কর্মস্থলে ফিরতে মাত্র একদিন সময় দেয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই যৌক্তিক হয়নি। ঘরমুখো মানুষ ঢাকা ফেরার জন্য একদিনে সবাই একযোগে রওনা দিলে ভয়াবহ জনদুর্ভোগের পাশাপাশি কভিডের সংক্রমণ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২২ জুলাই কর্মস্থলে ফেরার জন্য একদিনে সবাই রাস্তায় নামলে যানজট, জনজট, গণপরিবহন, ফেরিঘাট, টার্মিনালে মানুষের গাদাগাদিতে ভয়াবহ ভোগান্তির পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবে। এতে করে গত ১৪ দিনে ব্যাপক ক্ষতি স্বীকার করে পরিপালিত কঠোর বিধিনিষেধে অর্জিত ফলাফল শূন্যের কোটায় পৌঁছবে।

করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিদিন ৩৮টি আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পরিবহন করা হচ্ছে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী। এসব ট্রেনে দেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজারের মতো যাত্রী রাজধানীতে ফিরতে পারবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা এয়ারলাইনসগুলোর তথ্য বলছে, আকাশপথে দেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মানুষ একদিনে পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। আর সড়ক ও নৌপথে যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি চাহিদার ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একদিনে সড়কপথে সর্বোচ্চ কি পরিমাণ যাত্রী পরিবহন সম্ভব, জানতে চাইলে বাস ট্রাক মালিক সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও শ্যামলী এনআর পরিবহনের মালিক শুভঙ্কর ঘোষ বলেন, যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে চাহিদার ওপর। তবে এখনকার পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে চার ভাগের এক ভাগ। তবে ২২ জুলাই যত যাত্রীর চাপই থাকুক না কেন, তাদের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। তবে মানুষের চাপ বাড়লে সড়কে যানজট-বিশৃঙ্খলা হওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের একটা বড় অংশই একদিনের মধ্যে ফিরে আসার ঝুঁকি নিতে চাইবে না বলে মনে করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান।

তিনি বলেন, বেশির ভাগ মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে পরিবার-পরিজন নিয়ে। এদের অনেকেই আপাতত পরিবারকে ঢাকায় আনতে চাইবে না। অতীতেও ঈদের ছুটিতে আমরা এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ করেছি। করোনার কারণে ফেরার সুযোগ মাত্র একদিন থাকায় এ প্রবণতা আরো বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট শিল্প-কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ঈদের সময় ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের একটা বড় অংশ শিল্প-কারখানার কর্মী। তাই ছুটিতে যাওয়া শিল্প-কারখানার  কর্মীদের ৫ আগস্টের আগে ঢাকায় ফেরার প্রয়োজন হবে না।

ঈদ-পরবর্তী কঠোর বিধিনিষেধ ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের জন্য একটি ভালো কোয়ারেন্টিন পিরিয়ড হতে পারে বলে মনে করছেন অধ্যাপক হাদিউজ্জামান। তবে বিষয়টি পুরোপুরি সরকারের বিধিনিষেধ  সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঈদযাত্রার পঞ্চম দিন গতকালও দুর্ভোগ আর ভোগান্তিকে সঙ্গী করেই রাজধানী ছেড়েছে ঘরমুখী মানুষ। সবচেয়ে বেশি মানুষের দুর্ভোগ দেখা গেছে বাস কাউন্টারগুলোতে। যানজটের কারণে মারাত্মক শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে কাউন্টারগুলোর সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বস্তি নেই। যাত্রাপথে যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে। অন্যদিকে বাসগুলো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও।

নৌপথে শিডিউল বিপর্যয় না থাকলেও গাদাগাদি করে ঢাকা ছাড়ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। মানুষের ভিড়ে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।  গতকাল সারা দিনে দেশজুড়ে ৩৮টি আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকা থেকেই ছেড়ে গেছে ২৫টি ট্রেন। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও গতকাল মানুষের ভিড় দেখা গেছে লোকাল ও কমিউটার ট্রেনগুলোতে। আকাশপথে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতিদিন ৭০টির মতো ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইনসগুলো। আকাশপথে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে সবক’টি এয়ারলাইনস।

118 ভিউ

Posted ১২:৪৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com