শুক্রবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা আতঙ্কে বাংলাদেশে বাড়ল লকডাউন মেয়াদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০
12 ভিউ
করোনা আতঙ্কে বাংলাদেশে বাড়ল লকডাউন মেয়াদ

কক্সবাংলা ডটকম(২২ এপ্রিল) :: মৃতের সংখ্যা শতাধিক। সরকারি হিসেব ১২০ জন মৃত। হু হু করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। এই অবস্থায় বাংলাদেশ জুড়ে ছুটির মেয়াদ বাড়ল ৫ মে পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তি দিকে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে আরও ১০ দিন বাড়িয়ে দেওয়ীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, আগামী ৬ মে বুধবার বৌদ্ধ পূর্ণিমার সরকারি ছুটি এর সঙ্গে যুক্ত করা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও লকডাউন চলছে। ৩ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিয়ম জারি থাকবে। ভারতে মৃত ৬০০ জনের বেশি। সেখানেও লকডাউন বাড়িয়ে দেওয়া নিয়ে চলছে আলোচনা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা এখনই লকডাউন তুললে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

বিবিসি জানাচ্ছে, বাংলাদেশে গত ২৬শে মার্চ থেকে লকডাউন চলছে, যা আগামী ২৫শে এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। আকাশ, নৌ, সড়ক ও ট্রেন সহ সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরি পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সকল প্রকার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, কলকারখানা বন্ধ । শুরুতে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন করা হলেও পরবর্তীতে তা কয়েক দফায় বাড়ানো হয়।

এই অঘোষিত লকডাউন ২৫শে এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এরই মাঝে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজধানী শহর ঢাকা, পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ করোনার সর্বাধিক সংক্রামিত এলাকা বলেই চিহ্নিত। ৬৪টি জেলার বেশিরভাগ এলাকায় ছড়িয়েছে সংক্রমণ।

লকডাউনের ওপর নির্ভর করছে করোনার ভবিষ্যৎ

করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী প্রতিদিনই শনাক্ত হচ্ছেন এবং নতুন নতুন এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এখন যে ট্রেন্ড চলছে তা থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়বে না, কমবে? তা জানতে আরো সপ্তাহ দুয়েক অপেক্ষা করতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, যদি লকডাউন কার্যকরভাবে মেনে চলে দিন পনেরোর মধ্যেই করোনার সংক্রমণ আয়ত্বে আনা সম্ভব। আর লকডাউন যদি ঢিমেতালে চলে তাহলে বাংলাদেশকে কড়া মূল্য দিতে হবে।

গত ২০ এপ্রিল দেশে করোনার রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন ৪৯২ জন। এরপর ২১ এপ্রিল তা কমে এসেছে ৪৩৪ জনে। আর বুধবার ৩৯০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৭২ জনে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মহানগরেই রোগীর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। অন্যদিকে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত তিনদিন ধরে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১০ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০ জন হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় অর্ধশতাধিক এবং নারায়ণগঞ্জে ৩৫ জন মারা গেছেন। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জের পরে করোনা এখন গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীতে শেকড় ছড়াচ্ছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জন রোগী বেড়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে গত কদিনে করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর পর আক্রান্তের সংখ্যা গত দুদিনে কমে এসেছে। তবে মৃতের সংখ্যা প্রায় একই রয়েছে। এ অবস্থায় দেশে করোনা ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যাচ্ছে- এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, কোনো কারণে হয়তো আক্রান্তের সংখ্যা কম হয়েছে। কিন্তু যেভাবে দেশজুড়ে উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে আক্রান্তের হার ঊর্ধ্বমুখী হবে। আবার কেউ বলছেন, ভাইরাসটি এখন কোন অবস্থায় রয়েছে তা বিশ্লেষণের সময় আসেনি। এজন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

জানতে চাইলে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ  বলেন, গত দুদিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। আমার ধারণা এপ্রিলের বাকি দিনগুলোতে পরিস্থিতি অনেকটা আয়ত্বে আসবে। এজন্য কড়াকড়িভাবে লকডাউন মানতে হবে। সুফল পেতে হলে বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। আর এসব মেনে চললে সুখবর আশা করা যাবে। আক্রান্ত হওয়ার পরে তরুণদের বেশি মৃত্যুও কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ধারণা করা হয়েছিল এই রোগে বয়স্করা বেশি মারা যাবেন। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা ঘরে থাকছেন। এর ফলে বয়স্কদের মৃত্যহার কম। অন্যদিকে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলে হুটহাট ঘরের বাইরে আসছেন তরুণরা। বাইরে এসে বিভিন্ন নেশা করছেন। এ কারণে তাদের মধ্যে আক্রান্তের হার যেমন বেশি, তেমনি মারা যাওয়ার সংখ্যাও বেশি।

জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, আক্রান্তের চিত্রটা পুরোপুরিভাবে এখনো বোঝা যাচ্ছে না। তবে ভাইরাসটি এখন ‘ফ্ল্যাট’ আছে। এর গতিপ্রকৃতি কি হবে তা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিষ্কার হবে। যারা এবং যাদের পরিবার আক্রান্ত হয়েছেন তারা এখন ঘর থেকে বেরোচ্ছেন না। যারা এখনো আক্রান্ত হননি এবং উপসর্গহীন রয়েছেন তাদের জন্য ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য ঘরে থাকার ওপর জোর দেন তিনি।

12 ভিউ

Posted ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.