রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

টেকনাফে আবারও উদ্ধার হলো ২ কেজি ভয়ংকর মাদক আইস : আটক-১

শুক্রবার, ২৬ মার্চ ২০২১
437 ভিউ
টেকনাফে আবারও উদ্ধার হলো ২ কেজি ভয়ংকর মাদক আইস : আটক-১

হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ :: দেশে মাদক প্রবেশের ডিপোখ্যাত কক্সবাজারের টেকনাফে দ্বিতীয়বারের মতো ইয়াবার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর মাদক ‘ক্রিস্টাল মেথ’ বা ‘আইস’ মাদক উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৫।এরআগে গত ৪ মার্চ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে টেকনাফ থেকেই প্রথমবার উদ্ধার করেছিল ২ কেজি ‘আইস’। একমাসের মধ্যে আবারও ভয়ংকর মাদক ‘ক্রিস্টাল মেথ’ বা ‘আইস’উদ্ধারের ঘটনায় ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকে।

র‌্যাপিড এ্যকশন ব্যাটালিয়ার র‌্যাব-১৫‘র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী কর্তৃক শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বেশ কিছুদিন যাবৎ মিয়ানমার থেকে শক্তিশালী মাদক আইস বা “ক্রিস্টাল মেথ” এর চালান টেকনাফ হয়ে বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে নজর রাখা হচ্ছিল।

এরই সূত্র ধরে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় মাদক কারবারী টেকনাফ সদর ইউপিস্থ উত্তর বরইতলী গ্রামের বায়তুল রহমান জামে মসজিদের গেইটের সামনে মাদকদ্রব্য আইস/ক্রিষ্টাল মেথ ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এর একটি দল ২৫ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় উক্ত স্থানে অভিযান চালায়।এসময় টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নোয়াখালী পাড়ার কালা মিয়া ও ভেলুয়া খাতুনের পুত্র মোঃ হোসেন ওরফে হোছনকে (৪৪) ধরে ফেলে।এসময় একই এলাকার মাদক কারবারী মৃত নবী হোসেনের পুত্র মোঃ রশিদ (৫০) কৌশলে পালিয়ে যায়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে আসামী হোছন আরো জানায়, তার নিকট মাদকদ্রব্য আইস/ক্রিস্টাল মেথ আছে। পরবর্তীতে উপস্থিত স্বাক্ষীদের সম্মুখে হোছনের হাতে থাকা বাদামী রংয়ের শপিং ব্যাগের ভিতর চীনের তৈরি দুইটি জলপাই রংয়ের গ্রিন-টি এর প্যাকেটের ভিতর বিশেষভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় ২ (দুই) কেজি আইস/ক্রিষ্টাল মেথ উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২ কোটি টাকা।

র‌্যাব-১৫ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে হোছন স্বীকার করে যে পলাতক আসামী মোঃ রশিদের সহযোগীতায় সে দীর্ঘদিন যাবৎ মায়ানমার/টেকনাফ এর সীমান্তবর্তী এলাকা হতে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করে আসছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য গত ৪ মার্চ টেকনাফে অভিযান চালিয়ে ২কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইসসহ একজনকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসময় টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা এলাকার গোলাল নবীর ছেলে মো আব্দুল্লাহকে (৩১) আটক করে।

কক্সবাজারের টেকনাফে এবার ‘মিলল ‘ভয়ংকর মাদক’ আইস : আটক-১

ভয়ংকর মাদক ‘আইস’ ছড়াচ্ছে নিঃশব্দে

জানা যায়,নব্বই দশকের শেষ দিকে দেশে মাদক হিসেবে ইয়াবা সেবন চললেও ২০০২ সালের দিকে তা ধরা পড়ে। যদিও শুরুর দিকে এ নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না প্রশাসনের। সেই ইয়াবাই এখন মাথাব্যথার বড় কারণ। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে দেশে আরেক ভয়ংকর মাদক ‘আইস’ বা ‘ক্রিস্টাল মেথ’-এর অস্তিত্ব মিললেও তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। বরং প্রথম চালান জব্দের পর গত দুই বছরে ঢাকাতে এই মাদকের আরও তিনটি চালান ধরা পড়েছে।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, নিঃশব্দে ভয়ংকর প্রাণঘাতী এই মাদক আইস ছড়িয়ে পড়ছে।

উপাদান পুরোনো হলেও আইস নামের এই মাদককে দেশে নতুন হিসেবে বলে আসছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা। তারা এও বলছেন, আপাতত কম ছড়ালেও এর বিস্তার ধ্বংস করা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। ছড়িয়ে পড়লে ইয়াবার মতো আইসের আগ্রাসনও থামানো কষ্টকর হবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার সজাগ দৃষ্টি থাকতে হবে।

মাদকের পরীক্ষাগার সূত্রে জানা গেছে, আইস ইয়াবারই নতুন এক সংস্করণ। দুটিই মিথাইল অ্যামফিটামিন দিয়ে তৈরি। অবশ্য বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা ইয়াবায় সাধারণত অ্যামফিটামিন থাকে পাঁচ ভাগ এবং আসল ইয়াবায় সেটা পাওয়া যায় ২০ থেকে ২৫ ভাগ পর্যন্ত। কিন্তু আইস পুরোটাই অ্যামফিটামিন

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, আইস ইয়াবার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতিকর মাদক এবং এটা মানবদেহে বেশি পরিমাণে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এজন্যই এটি ভয়ংকর।

তিনি বলেন, ইয়াবাও ধীরে ধীরে ছড়িয়েছিল। ৯০ দশকের শেষ দিকে দেশে ইয়াবা সেবন শুরু হয়। ২০০২ সালে এসে পরীক্ষায় ইয়াবার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ততদিনে সেটা ছড়িয়ে পড়েছিল। নতুন মাদক আইস এখনও পর্যন্ত সেভাবে ছড়াতে পারেনি। ধনী পরিবারের সন্তানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ছড়িয়ে পড়লে তা ভয়াবহ হবে।

অপর একজন কর্মকর্তা বলছিলেন, ইয়াবা শুরুর দিকে উচ্চবিত্তের পরিবারের সন্তানদের মাদক ছিল। এখন সেটি একজন রিকশাচালকও সেবন করেন।

আইস নিয়ে ধরাপড়াদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইস অনেক দামি এবং এটি উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের কাছেই পাওয়া যাচ্ছে। যদিও গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর হাতিরপুল ও হাতিরঝিল এলাকায় ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে আইসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। ওই চারজনই মাদকের কারবারি ছিল। এজন্য আইসের বিস্তার যে ছড়াচ্ছে সেটা টের পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী দেশগুলোতে আইসের ব্যবহার সেভাবে নেই। এজন্য এটা দেশের জন্য আপাতত স্বস্তির বিষয়। তবে চীন,থ্যাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে মাদক হিসেবে আইসের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে এর বিস্তার ঠেকাতে তারাও সতর্ক রয়েছেন।

যে কারণে ভয়ংকর মাদক আইস : আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ডিএনসি সূত্র জানায়, আইস মিথাইলের সঙ্গে শতভাগ অ্যামফিটামিন থাকায় এটা বিশ্বজুড়েই ভয়ংকর মাদক হিসেবে চিহ্নিত। দেশে এখনও আইস সেবনকারী কেউ চিকিৎসা নিয়েছে বলে তথ্য যেমন নেই, তেমনি এই ধরনের মাদকের সেবনকারীর ওপর গবেষণাও হয়নি। তবে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া আইস বহনকারী ও ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং এটিতে ইয়াবার শতভাগ উপাদান থাকায় এর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক আ ব ম ফারুক বলেন, এমননিতেই ইয়াবা আসক্তরা নানা উপসর্গে ভুগে থাকে। শতভাগ অ্যামফিটামিনযুক্ত মাদকে ভয়াবহভাবে দৈহিক ও মানসিক ক্ষতি যে হবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এটা দেশে ছড়ানোর আগেই কড়া নজরদারি বাড়াতে হবে। এটা ইয়াবার মতো ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলছিলেন, পুরোটাই অ্যামফিটামিন হওয়ায় এটি সেবনের পর মানবদেহে অতি অল্প সময়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এই মাদক সেবনে মস্তিস্কের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এ থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এটি হৃদযন্ত্র, কিডনি ও লিভারেরও ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে। এক কথায় এটি দ্রুত মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

দেশে ছড়ানোর শঙ্কা : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, ইয়াবার মতোই সহজে আইস বহন করা যায়। এখনও আকাশপথেই ব্যক্তি পর্যায়ে অল্প আকারে এটা আসছে। এজন্য বিমানবন্দরগুলোতে ধরাও পড়ছে না। দায়িত্বরত অনেকের কাছে এই মাদক সম্পর্কে ধারণা না থাকায় এটা দেশে ঢুকে পড়ছে। ক্রমেই এটা ছড়ানোর আশঙ্কা করছে পুলিশ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, ডার্কনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে আইসের মতো মাদকের চালান দেশে আনার তথ্য রয়েছে। এই ডার্কনেট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও এই মাদকের চালান আসার তথ্য রয়েছে। তা ছাড়া মাদকের কারবারিরা নতুন নতুন মাদক ছড়াবে- এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর বাইরে মাদক হিসেবে আইসের দাম অনেক বেশি হওয়ায় তা ছড়াতে কারবারিদের লোভটাও বেশি হবে।

আইসের বাজার তৈরির চেষ্টায় কারবারিরা : ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে প্রথম আইস নামের মাদকের অস্তিত্ব মেলে। ওই সময়ে আইসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এরপর ওই বছরের ২৭ জুন খিলক্ষেত এলাকা থেকে নাইজেরিয়ার এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেন ডিএনসি কর্মকর্তারা। গত বছরের ৪ নভেম্বরে পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়া এলাকা থেকে আইসসহ গ্রেপ্তার হয় ৬ জন।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি হাতিরপুল ও হাতিরঝিল এলাকা থেকে আইসসহ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয় আরও চারজন। তারা স্বীকার করেছে, দেশে এখনও আইসের চাহিদা বেশি নেই। ধনাঢ্য সন্তানদের কেউ কেউ এই অতি দামি মাদক সেবন করছে। তবে ‘অল্পতেই বেশি দাম পাওয়ায়’ তারা এটার ‘বাজার বাড়ানোর’ চেষ্টায় রয়েছে।

437 ভিউ

Posted ২:৪৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৬ মার্চ ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com