শনিবার ১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানির আড়ালে অর্থপাচার : শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিবেদন প্রকাশ

বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯
133 ভিউ
টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানির আড়ালে অর্থপাচার : শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিবেদন প্রকাশ

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২৬ ডিসেম্বর) :: সাম্প্রতিক সংকটে আমদানিকৃত পেঁয়াজ অনেক বাড়তি দরে কিনতে হয়েছে ক্রেতাকে। অন্যদিকে আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে অর্থপাচারের আরও খবর বেরিয়ে আসছে। বিশেষত কক্সবাজারের টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে হাজার হাজার টন আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য কম দেখানো হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে,টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ১ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হলেও মূল্য দেখানো হয়েছে ৫০০ ডলার। অর্থাত্ প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানিতে ৭০০ ডলারের মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ মনে করছে, এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে। এটি কী প্রক্রিয়া ঘটেছে, কারা দায়ী, কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে—তা বিশদ পরীক্ষা করতে এনবিআরের কাছে অনুমতি চেয়েছে সংস্থাটি। গত সপ্তাহে এনবিআরে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

নাম প্রকামে অনিচ্ছুক শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মূল্য কম বা বেশি দেখানোর মাধ্যমে অর্থপাচার হতে পারে। অর্থপাচার সংক্রান্ত আইনেও এ বিষয়ে বলা আছে। বেশি দরে ক্রয় করে কম মূল্যে দেখানো পণ্যের মূল্য অবৈধ উপায়ে (বিশেষত হুন্ডি) পরিশোধ করা হয়ে থাকতে পারে। আমরা প্রাথমিক তথ্যে জেনেছি প্রতি মেট্রিক টনে ৭০০ ডলার কম মূল্য দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য এনবিআরের কাছে অনুমতি চেয়েছি। অনুমতি পাওয়া গেলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এনবিআরের কাস্টমস বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত আগস্ট থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন পেয়াজ আমদানি করা হয়েছিল। মিয়ানমার থেকে আমদানি হওয়া পেঁয়াজের প্রতি মেট্রিক টনে ৭০০ ডলারের সমপরিমাণ মূল্য কম দেখানো হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ মনে করছে, এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ডলার বা ২০০ কোটি টাকার ওপরে মূল্য কম দেখানো হয়েছে। এসব অর্থ হুন্ডি বা অন্য কোনো উপায়ে পাচার হয়ে থাকতে পারে।

অবশ্য মিয়ানমারের মতো দেশ থেকে বেশি দরে ক্রয় করে কম দাম দেখানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। এনবিআরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক সময় শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার জন্য বেশি দরে আমদানি করা হলেও কম মূল্য দেখানো হয়। কিন্তু পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো শুল্ক নেই। আবার সংশ্লিষ্ট দেশটি যদি বিদেশিদের জন্য ব্যবসা কিংবা আবাসনের জন্য সুবিধাজনক হয়, সে ক্ষেত্রে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটতে পারে। মিয়ানমার বাংলাদেশিদের জন্য আকর্ষণীয় কোনো গন্তব্য নয়। সেই বিবেচনায়ও সেখানে বেশি মূল্যে ক্রয় করে কম মূল্য দেখানোর যৌক্তিকতা প্রশ্নসাপেক্ষ।

অবশ্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকের সুদ কিংবা চার্জের একটি বিষয় থাকে। এটি এড়ানোর জন্য কম মূল্য দেখানো হতে পারে। আবার তৃতীয় কোনো দেশে লেনেদেনের অর্থ পরিশোধ কিংবা পাচারের বিষয়টিও এখানে জড়িত থাকতে পারে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য আলী আহমেদ বলেন, প্রকৃতপক্ষে বেশি দরে ক্রয় করে কম মূল্য ঘোষণা করা হলে ঐ অর্থ অবৈধ উপায়েই পাঠাতে হবে। অবৈধভাবে অর্থ পাঠানো অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত। তবে ইস্যুটি বিশদ ও নির্মোহভাবে তদন্ত করা উচিত। শুল্ক গোয়েন্দার কাছে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে নিশ্চয়ই প্রমাণ করার সুযোগ থাকা দরকার।

প্রসঙ্গত গত ৩ নভেম্বর কারসাজিতে জড়িত থাকার বিষয়ে খাতুনগঞ্জ ও কক্সবাজারের ১৫ জনের একটি সিন্ডিকেটের তথ্য-প্রমাণ পায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। তাদের নামসহ বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি তালিকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়।

তদন্তে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ সহ চট্টগ্রামের কমিশন এজেন্ট, আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আড়তদার ও দালালদের ১৫ জনের সিন্ডিকেটের যোগসাজশে মিয়ানমার থেকে ৪২ টাকা দরে আমদানিকৃত পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য করার তথ্য-প্রমাণ পায় প্রশাসন।

১৫ জনের এই সিন্ডিকেটে আছে- খাতুনগঞ্জের মেসার্স আজমীর ভান্ডার, মেসার্স সৌরভ এন্টারপ্রাইজ, হোসেন ব্রাদার্স ও মেসার্স আল্লার স্টোর; কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কাদের, টেকনাফের আমদানিকারক সজিব, জহির, সাদ্দাম এবং পেঁয়াজ বিক্রেতা মম (মগ), গফুর, মিন্টু, খালেক ও টিপু, পেঁয়াজের দালাল শফি এবং কক্সবাজারের টেকনাফের কে কে পাড়ার মেসার্স আলীফ এন্টারপ্রাইজ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্রগ্রাম কাস্টম এন্ড ভ্যাট এক্সারসাইজে পেয়াজ আমদানির জালিয়াতিতে প্রভাবশালী নজরুল ইসলামই মূল কার্যক্রম চালায় বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাকে ঘিরেই এ চক্রটি পেয়াজ আমদানির শত শত কোটি টাকা পাচার ও লোপাট করে।আরও জানা গেছে এ চক্রটি মিয়ানমার থেকে পিয়াজ আমদানী না করেও চট্রগ্রাম কাস্টম এন্ড ভ্যাট এক্সারসাইজের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কাগজে কলমে পিয়াজ আমদানি দেখানো হয়েছে।

আরও জানা গেছে, ওই চক্রটি পেয়াজ আমদানী না করেই সে কাগজ(অনুমতি পত্র) অন্য আমদানীকারককে অধিক লাভে বিক্রি করেছে।যা এখনো পর্যন্ত সে পেয়াজ দেশে এসে পৌছায়নি।কিন্তু কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে বন্দরে পেয়াজ এসেছে।আর এসকল জালিয়াতিতে টেকনাফ স্থল বন্দরের কিছু কর্মকর্তা জড়িত বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

133 ভিউ

Posted ৯:৩৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com