
কক্সবাংলা ডটকম(১০ ডিসেম্বর) :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় পুরো দেশ।চ্যালেঞ্জ নিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার সন্ধ্যা অথবা কাল সকালে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তবু ফেব্রুয়ারির ভোট হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ-অবিশ্বাসের দোলাচলে প্রায় সব মহল। অথচ, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ভাষণ রেকর্ড করতে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বেতারকে ডেকেছে ইসি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দুপুরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বিকালে ভাষণ রেকর্ডের প্রস্তুতি রয়েছে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের দিনক্ষণ তুলে ধরবেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
নির্বাচনের প্রস্তুতি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রোববারই সাক্ষাৎ করেছেন সিইসি ও চার কমিশনার। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
(বুধবার) প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দুপুরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে ইসি। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা হতে পারে।
জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বড় একটি অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। উপরন্তু রাজনৈতিক পটপরির্তনের পর কারাগার থেকে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, এরই মধ্যে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে খুনসহ অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামে বিএনপি মনোনীত একজন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তার ওপর আগামী নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করবে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে দলটি ঘটাতে পারে সহিংস ও নাশকতামূলক ঘটনাও। এসব ঘটনা ভাবিয়ে তুলছে অন্তর্বর্তী সরকারকে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)- এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োগের ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত। শুধু ভোটের আগে-পরে ৯ দিন নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাজেই তফসিল ঘোষণার পর কোনো এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে ইসিকে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হবে।
অন্য দিকে, যারা ভোটের অংশীদার, সেই রাজনৈতিক দলের একাংশের দাবি ভোটের পরিবেশ এখনও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নয়। কারও মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে অব্যাহত রয়েছে নানা চক্রান্ত। জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রকাশ্যেই ভোটের বিরোধিতা করে চলেছে। এ দিনও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘ভোটের উপযুক্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনও তৈরি হয়নি।’
আবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমান দলের ছাত্র নেতাদের এক কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বলেন, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে বলে আসছি, আমাদের সামনে সময়গুলো কিন্তু খুব ভালো নয়। অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এ দেশের জনগণ।’ জামায়াতকে ইঙ্গিত করেই মূলত তিনি এই তির ছুড়েছেন।
তারেক রহমান রবিবারও এই ছাত্রনেতাদের বলেন, ‘কিছু মানুষ বা কোনও বিশেষ গোষ্ঠী বিভিন্ন জায়গায়, কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে যে-অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম; এ বার অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন, তাদের তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। ১৯৭১ সালে তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে তারা কী ভাবে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। শুধু তাই নয়, তাদের সহকর্মীরা কিভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল। এই কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে।’
ইউনূসের হাতে গড়া দল এনসিপি নেতারাও বারে বারে বলেছেন, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ এখনও হয়নি। আবার, এ দিনই সরকারের নৌপরিবহণ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আমরা যখন গত বছরের ৮ অগস্ট বসি, তখন তো আমাদেরকে কেউ ম্যান্ডেট দেয়নি যে, ভাই আপনাকে এক-দেড় বা দুই বছরের মাথায় নির্বাচন করাতে হবে। তখন তো কিছুই ছিল না, ব্ল্যাংক।’ তাঁর কথায়, ‘এখন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে রাজনৈতিক দলগুলো জানে না তারা কী করবে বা তাদের ভবিষ্যৎ কী। কে কোন দিকে যাচ্ছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। এটা কি বাংলাদেশে নতুন? তথাকথিত ওয়ান ইলেভেনের পরে হয়নি? আমরা কিন্তু এ নিয়েই বেঁচে আছি।’
এদিকে ভোটের সম্ভাব্য এই পরিস্থিতিতে ছোট-ছোট দল মিলে ভোটের আগে জোট গড়ার প্রস্তুতিও চলেছে বেশ জোরেশোরেই। গত রবিবার কমিটি সর্বস্ব তিনটি দল নিয়ে এনসিপি গড়েছে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’। সোমবার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের জাতীয় পার্টি (জাপা) ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি (জেপি)-র নেতৃত্বে ২০ দলের আর একটি নতুন জোট আত্মপ্রকাশ করেছে, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)। এর মধ্যেই অসুস্থ খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যেতে ভাড়া করা এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি মঙ্গলবার ঢাকায় আসার কথা থাকলেও সেটি আসছে না।
এ নিয়ে পঞ্চম বারের মতো পিছিয়ে গেল উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা। বিএনপি নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রার বিষয়টি নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর। আবার দলীয় সূত্রে এমনও খবর শোনা যাচ্ছে, খালেদা নিজেই লন্ডনে যেতে চাইছেন না।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার অপেক্ষা মাত্র। তফসিল ঘোষণার আগে আমাদের যে প্রস্তুতি রয়েছে তার সবই সম্পন্ন হয়েছে।
১০ নাকি ১১ই ডিসেম্বর এমন প্রশ্নের উত্তরে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যা বলেছি তাই। এর বাইরে আলাদা করে কাউকে বলা সম্ভব নয়। মানে সুনির্দিষ্ট করে বলছি না- কাল না পরশু ঘোষণা করা হবে তফসিল। তবে তফসিলের যাবতীয় প্রস্তুতি কমিশন নিয়ে রেখেছে।
এদিকে ভোটের জন্য চেকলিস্ট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নির্বাচনের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্বন্ধে জানান, আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। তফসিল ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তফসিল ঘোষণার জন্য যেসব প্রস্তুতি প্রয়োজন; সেসব প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছে ইসি। আসন বিন্যাস, আইন অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার যারা থাকবেন তাদের প্রজ্ঞাপন, বিভিন্ন বিষয়ে ২০টির মতো পরিপত্র জারি হবে।
সেখানে মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি নিয়োগ, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, মনিটরিং সেল গঠন, আইনশৃঙ্খলার সেল গঠন এগুলোর ফরমেটগুলো রেডি রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপর সেগুলো ধারাবাহিকভাবে আমরা জারি করবো।
আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর থাকবে জানিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রচার সামগ্রী সরাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে, তারাও প্রস্তুত। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ কঠোরতা নেয়া হবে।
উপদেষ্টারা পদে থেকে ভোটে নয়:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা ভোটে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারাও পদে বহাল থেকে ভোটে অংশ নিতে পারেনি।
অন্তর্বর্তীকালীন এবারের সরকারও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো। সাম্প্রতিক আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণেও বিষয়টি রয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা ভোটে পদে থেকে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। কেউ নির্বাচন করতে চাইলে পদত্যাগ করে ভোটে অংশ নিতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলো ভোটকে সামনে রেখে নানা মত দিলেও তাতে চ্যালেঞ্জ নেই বলে মনে করেন নির্বাচন কশিনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, দলগুলো তাদের অবস্থান জানাচ্ছে। আমরা ভোটের জন্য প্রস্তুত। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য নয়। আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ আছে বলে আর মনে করি না।
এ নির্বাচন কমিশনার জানান, নিবন্ধিত দলগুলো ভোটের জন্য প্রস্তুত; অংশ নেয়াও তাদের অধিকার। ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
পদত্যাগ করছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি আজ বুধবার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এই দুই উপদেষ্টা হলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চাননি।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় বা কাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগেই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবহিত করেছেন দুই উপদেষ্টা।
এদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আজ বুধবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।
তবে সরকার ও আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, পদত্যাগের বিষয়টি জানাতেই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হতে পারে।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় বৈঠক করেন জ্যেষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা। সাধারণত প্রতি মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি উপদেষ্টারা বৈঠকে মিলিত হন।
গতকালের বৈঠকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি ওঠে। সন্ধ্যায় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে দুই উপদেষ্টা বুধবার পদত্যাগ করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা আরও সময় চান। এর মধ্যে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সে ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচন করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন।
পরে গত মাসের মাঝামাঝি দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আবারও তাঁদের তাগাদা দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গিয়েছিল।
সরকার–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়সহ উপদেষ্টা পরিষদের অনেকে এই ব্যাপারে মোটামুটি একমত যে তফসিল ঘোষণার পর দুই ছাত্র প্রতিনিধির উপদেষ্টার সরকারে থাকা উচিত হবে না।
তাঁরা নির্বাচন করুন আর না করুন, তাঁদের পদত্যাগ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত সরকারের মনোভাব জেনে তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে আগে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন দুই উপদেষ্টা।
এ বিষয়ে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের বক্তব্য জানতে টেলিফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন সরকারে জায়গা পান।
এর মধ্যে নাহিদ ইসলাম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পান। আসিফ মাহমুদ প্রথমে শ্রম উপদেষ্টা, পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। মাহফুজ আলম শুরুতে উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হন।
জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যাত্রা শুরু করে। নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে দলটির আহ্বায়ক হন। এরপর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হন মাহফুজ আলম।
অবশ্য মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের এনসিপিতে কোনো পদ না থাকলেও দলটিতে তাঁদের প্রভাব রয়েছে।

Posted ২:২০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta