রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

দেড় হাজার বছরের ঐতিহ্যশালী গির্জাকে আবারও মসজিদে রুপান্তর : সমালোচনার মুখে তুরস্ক সরকার

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০
71 ভিউ
দেড় হাজার বছরের ঐতিহ্যশালী গির্জাকে আবারও মসজিদে রুপান্তর : সমালোচনার মুখে তুরস্ক সরকার

কক্সবাংলা ডটকম(১১ জুলাই) :: প্রায় দেড় হাজার বছর আগে গির্জা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ইস্তানবুলের বিশ্বখ্যাত হাজিয়া সোপিয়া জাদুঘরকে আবারও মসজিদ বানানোর ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। আদালতে এটির জাদুঘর মর্যাদা প্রত্যাখ্যান হওয়ার এই ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। আর তা অনুসরণ করে প্রায় ৮৬ বছর পর সেখানে প্রথমবারের মতো নামাজ আদায় হয়েছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন, মসজিদ বানানো হলেও সেখানে পর্যটকদের ভ্রমণ সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রায় দেড় হাজার বছর আগে অর্থোডক্স খ্রিস্টান ক্যাথেড্রাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় হাজিয়া সোপিয়া। তুরস্কের অটোমান শাসকেরা দখল করে ১৪৫৩ সালে এটিকে মসজিদে রুপান্তর করেন। ১৯৩৪ সালে মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের সরকার এটিকে জাদুঘরে পরিণত করেন। বর্তমানে এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য।

শুক্রবার তুরস্কের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত কাউন্সিল অব স্টেট’র রায়ে বলা হয়েছে, ‘মসজিদ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত ১৯৩৪ সালে মন্ত্রিসভা নিয়েছিল তা আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’ রায়ে বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী স্থাপনাটিকে মসজিদ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয় ফলে অন্যকিছু হিসেবে এর ব্যবহার আইনগতভাবে সম্ভব নয়।

ওই রায় ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যে হাজিয়া সোপিয়াকে মসজিদে রুপান্তরের ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। টুইটারে ওই ঘোষণার প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘এতে লাভও হতে পারে।’ প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর হাজিয়া সোপিয়ায় প্রথমবারের মতো নামাজ আদায় করা হয়। তুরস্কের মূলধারার সবগুলো চ্যানেল ওই নামাজ সম্প্রচার করে। তবে সাংস্কৃতিক স্থাপনা হাজিয়া সোপিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চ্যানেলটি বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তুরস্কের ইসলামপন্থীরা দীর্ঘদিন থেকেই হাজিয়া সোপিয়াকে আবারও মসজিদে পরিণত করার দাবি করে আসছেন। তবে সেক্যুলার অনেকেই এর বিরোধিতা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিস ও রাশিয়াতেও তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।বিশ্বের নানা প্রান্তের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারাও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।


হাজিয়া সোপিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হাজিয়া সোপিয়ার জটিল ইতিহাসের শুরু ৫৩৭ সালে। ওই সময়ে গোল্ডেন হর্ন উপত্যকা তদারকি করতে বাইজানটাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান বিশালাকৃতির এই গির্জাটি নির্মাণ করেন। বিশালাকারের গম্বুজসহ এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় চার্চ ও ভবন বলে মনে করা হয়।

১২০৪ সালে ক্রুসেডারদের অভিযানকালে সামান্য কিছু সময় বাদ দিলে কয়েক শতাব্দী ধরেই ভবনটি বাইজানটাইনদের নিয়ন্ত্রণে থেকেছে। তবে ১৪৫৩ সালে বাইজানটাইন সম্রাটদের পরাজিত করে অটোমান শাসক দ্বিতীয় সুলতান মাহমুদ ইস্তানবুল (পুরনো কন্সটান্টিপোল) শহর দখল করে নেন। আর বিজয়ী শাসক হাজিয়া সোপিয়ার অভ্যন্তরে জুমার নামাজ আদায় করেন।

তার কিছু দিনের মধ্যেই অটোমান শাসকেরা ভবনটিকে মসজিদে পরিণত করেন। তখন এতে বহিরাবরণসহ চারটি মিনার যুক্ত করা হয়। ভবনটির গায়ে থাকা খ্রিষ্ট ধর্মের নানা প্রতিকৃতি ও স্বর্ণের মোজাইক ঢেকে দিয়ে আরবি ক্যালিগ্রাফি বসানো হয়।

পরের কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলিম অটোমান সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্রে থাকার পর ১৯৩৪ সালে হাজিয়া সোপিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়। ওই সময়ে কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে তুরস্ক বেশ কিছুটা ধর্মনিরপেক্ষ হওয়ার উদ্যোগ নেয়।

আজকের দিনে তুরস্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হাজিয়া সোপিয়া। প্রতিবছর প্রায় ৩৭ লাখ পর্যটক বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রটিতে ভ্রমণ করে থাকেন।

আয়া সোফিয়া : গ্রিস-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে তুরস্কের

তুরস্কের শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্রপতি এরদোগানের পদক্ষেপে ইস্তাম্বুলের প্রসিদ্ধ আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে। ১ হাজার ৫০০ বছর আগে আয়া সোফিয়া খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রসিদ্ধ অর্থোডক্স গির্জা ছিল। ১৪৫৩ সালে অটোমানদের বিজয়ের পরে এটি মসজিদে রূপান্তর করা হয়।

তুরস্কের এমন পদক্ষেপে চিরাচরিত শত্রু গ্রিসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এরদোগানের উদ্যোগে রাশিয়ার সঙ্গে যে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছিল তাও নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এই পদক্ষেপের পরই গ্রিস প্রতিক্রিয়ায় জানায়, সভ্য সমাজকে খোলাখুলি উস্কানি দিচ্ছে মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্ক। দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রী লিনা মেনদনি বলেন, ‘এরদোগানের এই পদক্ষেপ তুরস্ককে ৬ শতক পিছিয়ে নিয়ে গেল।’

একই ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাশিয়ার অর্থোডক্স গির্জা। গির্জার মুখপাত্র ভ্লাদিমির লেগয়ডা জানিয়েছেন, কয়েক কোটি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কথা না ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বার বার অনুরোধ করা হয়েছিল, এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবদিক ভালোভাবে বিচার করে দেখতে। বোঝাই যাচ্ছে কোনো কথাকেই পাত্তা দেওয়া হয়নি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে।’

ইউনেস্কোর প্রধান অড্রি আজুলে বলেন, ‘ইউএন-এর সংস্কৃতি বিভাগের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর জন্যে তিনি নিজে খুব দুঃখিত। এর বিরোধিতা এবং কড়া সমালোচনা করেছে ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম। তাদের মতে ঐতিহাসিক এই সৌধটিকে নিয়ে দ্ব্যর্থহীন রাজনীতি করা হল।’

71 ভিউ

Posted ৬:৩৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com