সোমবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

দেশের বাইরে হাজার কোটি টাকা পাচার : জেনেশুনে চুপ দুদক

রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০
37 ভিউ
দেশের বাইরে হাজার কোটি টাকা পাচার : জেনেশুনে চুপ দুদক

কক্সবাংলা ডটকম(১৮ জানুয়ারী) :: হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করতে পারছে না। মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত আইন ও বিধি সংশোধন করে সংস্থাটির কাছ থেকে এ সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রায় কেড়ে নেয়া হয়েছে। পাচারকারীদের প্রভাবের কারণে সংশ্লিষ্ট আইন থেকে দুদককে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, দেশের বাইরে অর্থ পাচারে জড়িতরা ক্ষমতাবান। অনেক বিষয়ে তারা প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে। ফলে কমিশন এক্ষেত্রে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, বেসরকারি ব্যক্তিরা যে পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার করেছেন, তাদের ধরার ক্ষেত্রে দুদকের হাত-পা অনেকটা বাঁধা। এরপরও আমরা যে বসে আছি তা নয়। অবৈধ অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান তদন্ত কার্যক্রম চলছে স্বাভাবিক গতিতে। অন্য সংস্থাগুলো সঠিকভাবে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের তদন্ত করছে কিনা তার ওপরও দুদকের নজর আছে।

দেশের বাইরে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। অথচ দুদক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিভিন্ন মহল থেকে এমন প্রশ্ন উঠছে। সবাই জানতে চায়, কোনো মহল থেকে কী দুদককে বাধা দেয়া হচ্ছে? নাকি সব জেনেশুনেও দুদক নিজ থেকেই হাত গুটিয়ে বসে আছে? এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে চমকপ্রদ অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে।।

সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত আইন ও বিধি সংশোধন করে দুদকের অনেক ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। যদিও দুদক এ নিয়ে খুব সোচ্চার নয়। সংস্থার নির্বাহীদের মতে, এখানে দুদকের কিছুই করার নেই। দুদক চাইলেও একটি আইন তৈরি বা সংশোধন করতে পারে না। মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দফতর এবং সংসদ এ নিয়ে কাজ করে।

তাদের মতের ভিত্তিতে আইন তৈরি বা সংশোধন হয়। নাম প্রকাশ না করে এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের বাইরে পাচারে জড়িতরা অনেক ক্ষমতাবান। তারা ভীষণ শক্তিশালী। এ বাস্তবতায় দুদক কীভাবে দেশের বাইরে অর্থ পাচারের বড় ঘটনা অনুসন্ধান বা তদন্ত করবে- তাও ভেবে দেখতে বলেন তিনি।

দেশের বাইরে কি পরিমাণ অর্থ পাচার হয় সে ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব দেশের কোনো সংস্থার কাছেই নেই। তবে বেসরকারিভাবে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে দেশ থেকে অর্থ পাচারের একটি ধারণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ওই ১১ বছরে দেশ থেকে কমপক্ষে ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাচার হয়েছে ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে শুধু ’১৪ সালেই পাচার হয়েছে ৯ মিলিয়ন ডলার।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিএফআই’র (গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি) প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে প্রায় ৭ হাজার ৫৮৫ কোটি ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে দেশ থেকে পাচার হয় ৯১১ কোটি ডলার পাচার। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী যার পরিমাণ সাড়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ২০১৫ সালে পাচারের এই অঙ্ক ছিল ৫০ হাজার কোটি টাকা।

জিএফআইয়ের প্রতিবেদনে ১৪৮টি উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশের অর্থ পাচারের তথ্য দেয়া হয়েছিল।

তাতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয় চীন থেকে। এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম। অপরদিকে ২০১৫ সালেও অর্থ পাচারের দিক থেকে বাংলাদেশ ছিল ১৯তম। এর পরের বছর ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ বা ২০১৯ সালে আরও কি পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে সে বিষয়ে এখনও আন্তর্জাতিক কোনো গবেষণা প্রতিবেদন বের হয়নি। তবে ২০১৫ সালের দিকে তাকালে কিছুটা অনুমান করা যায়। দেশ থেকে অর্থ পাচারের এই যখন অবস্থা তখন এটা রোধে দেশের দুর্নীতি দমনে একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুদক কার্যত কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না!

জানা যায়, সর্বপ্রথম ২০০২ সালে দেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। পরবর্তী সময়ে এ আইন বাতিল হয়ে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০০৯’ এবং ২০০৯ সালের আইনটি বাতিল করে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২’ পাস করা হয়। ২০০৯ ও ২০১২ সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অর্থ পাচার সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধ অনুসন্ধান ও তদন্তের একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ছিল দুদক। ২০১৫ সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনের আগ পর্যন্ত অন্তত ২৭টি সম্পৃক্ত অপরাধ থেকে সংঘটিত মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার অপরাধের অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা দায়েরের অনুমোদনের এখতিয়ার আইনানুগভাবে কেবল দুদকের ওপর ন্যস্ত ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে আগের আইনটি (মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২) সংশোধন করা হয়। আর তখনই বলা চলে অর্থ পাচারের তদন্তের ক্ষেত্রে দুদকের এখতিয়ার ৯০ ভাগ কমে যায়।

ওই বছর ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২’ সংশোধন করে ঘুষ ও দুর্নীতি ছাড়া অন্যান্য সম্পৃক্ত অপরাধ অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সিআইডি, মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, পরিবেশ অধিদফতর, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ২৭টি সম্পৃক্ত অপরাধের মধ্যে কেবল একটি অপরাধ (ঘুষ ও দুর্নীতি) থেকে উদ্ভূত মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ দুদককে দেয়া হয়। যা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত। অর্থাৎ দেশের বাইরে অর্থ পাচারসহ অন্যান্য সম্পৃক্ত অপরাধ থেকে সংঘটিত মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষেত্রে দুদকের খতিয়ান নেই।

যদিও ২০১৫ সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধন হওয়ার আগ পর্যন্ত দুদক এককভাবে সব ধরনের মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধের অনুসন্ধান এবং তদন্ত করেছে। ওই সময়ে অন্তত ২০০টি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে ৩৪টি মামলা বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়। ৩৪টি মামলায়ই আসামির সাজা হয়েছে। ওই সময়ে দুদক বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচারকৃত বেশকিছু অর্থ ফেরতও আনে। আরও ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার সিঙ্গাপুর থেকে পুনরুদ্ধার ও প্রায় ৮০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড অবরুদ্ধ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় আইনটি সংশোধন করা হয়।

‘প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস’ ও ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স’সহ অন্যান্য সংস্থার সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে প্রায় বেশির ভাগ অর্থ পাচার হয় ব্যবসা-বাণিজ্য বা আমদানি-রফতানির আড়ালে (ট্রেড বেসড)। বিদ্যমান আইনে দুদকের তদন্তের এখতিয়ার না থাকায় এ ধরনের অর্থ পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ফলে পানামা পেপারস, প্যারাডাইস পেপারসে অর্থ পাচারের যে তথ্য প্রকাশ হয়েছে তার ভিত্তিতে দুদক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

অন্যান্য জরিপের তথ্যেও দেখা যায়, পাচারকৃত সম্পদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য মালয়েশিয়ার ‘মাই সেকেন্ড হোম প্রকল্প’, কানাডার ‘বেগমপাড়া’, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য ট্যাক্স হ্যাভেন নামে পরিচিত দেশ। এ টাকা ফেরত আনা বা যারা পাচার করে তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছে না সংস্থাটি।

জানা গেছে, অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেশে বিনিয়োগ না করে তার সিংহভাগই পাচার করে দিয়েছেন দেশের বাইরে। বেসিক ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুদক এর সত্যতাও পায়। কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে টাকার গন্তব্যসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারছে না সংস্থাটি। অনেকেরই অভিযোগ, দুদক কেন বেসিক ব্যাংকের তদন্ত শেষ করে আবদুল হাই বাচ্চুসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে না।

এ বিষয়ে দুদক তাদের অক্ষমতার বিষয়টি বারবার বলে আসছে। যুবলীগের সম্রাট, খালেদসহ অনেকের বিরুদ্ধে দেশের বাইরে অর্থ পাচারের তথ্য জানতে পারছে দুদক। কিন্তু তাদের টাকা ফেরত আনার জন্য ব্যবস্থা নিতে পারছে না। দুদকের মামলায়ও সেই তথ্য পূর্ণাঙ্গ দিতে পারছে না। অবৈধ উপায়ে অর্জিত হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছে মর্মে দুদক অনুমান করলেও সম্রাটের নামে করা মামলায় ২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ দেখানো হয়েছে। যদিও এজাহারে ধারণা দেয়া হয়েছে, তার সব টাকাই দেশের বাইরে। তদন্তকালে খতিয়ে দেখা হবে। স্বাস্থ্য খাতের এক কর্মচারী আবজাল টাকার কুমির।

অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্যাংকক ও মালয়েশিয়ায় তিনি অন্তত এক হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন- এমন তথ্য দুদকের হাতে থাকার পরও ওই অর্থ ফেরত আনতে কিছু করা যাচ্ছে না। মন্ত্রী-এমপিদের কারও বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠলে দুদক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে- সেই সুযোগও সীমিত। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের ঘটনা দুদক জানলেও কিছু করতে পারছে না। জড়িতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নামমাত্র অবৈধ সম্পদের মামলা করে তদন্ত করছে সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জমান বলেন, আমি করি, অর্থ পাচার ঠেকাতে দেশে একটি মানি লন্ডারিং ইউনিট করা দরকার। এটি দুদকের আওতায় থাকবে। তিনি বলেন, এখন দুদক যে কাজটি পারে- তা হল কারও অবৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের তারতম্য খতিয়ে দেখা। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের বৈষম্য দেখা। তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং ইউনিট গঠনের আগ পর্যন্ত দুদক যে কাজটি করতে পারে তা হল দেশের বাইরে যে সম্পদ পাচার হয়েছে তা উদ্ধারের জন্য সরকারকে সুপারিশ করা।

37 ভিউ

Posted ২:১১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com