মঙ্গলবার ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

দেশের মুদ্রাবাজারে আবারও অস্থিরতা : ফের আইএমএফের ঋণ নিচ্ছে সরকার

বুধবার, ২৯ জুন ২০২২
30 ভিউ
দেশের মুদ্রাবাজারে আবারও অস্থিরতা : ফের আইএমএফের ঋণ নিচ্ছে সরকার

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ জুন) :: দেশের অভ্যন্তরে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আবারও অস্থিরতা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামলাতে ২৮ জুনও মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো হয়েছে। সকালের রেটের সঙ্গে বিকালের রেটও মেলে না। বিশেষ করে খোলাবাজারে ডলার, ইউরো, পাউন্ডের দাম বেড়েই চলেছে। এতে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি বাড়ছে।

একই সঙ্গে খরচ বাড়ছে আমদানির। ভ্রমণপিপাসুদেরও খরচ বাড়ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এর একটা মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে।

এ ছাড়া করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় মানুষের বিদেশ ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে কিংবা ঘুরতে মানুষের বিদেশ ভ্রমণের মাত্রা বেড়েছে। এটা প্রতিদিনই বাড়ছে। ফলে ডলার, পাউন্ড, ইউরো, রিয়ালসহ নানা ধরনের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়েছে। তবে ডলারের চাহিদা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। কেননা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একচেটিয়া প্রভাব বিস্তারকারী হিসেবে আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলারই একমাত্র বিনিময়ের মাধ্যম। পরিস্থিতি সামলাতে টাকার মান কমানো হচ্ছে।

বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সমলাতে ফের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে এর প্রাথমিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। রেমিট্যান্স কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদনি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় টান পড়েছে রিজার্ভে। এর প্রভাবে ডলারের বিপরীতে দফায় দফায় টাকার মান কমিয়েও অস্থিরতা কাটছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৪১ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ১৭০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। করোনার মধ্যে গত বছর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড উচ্চতায় উঠে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে এই ধারা কমে আসছে।

বর্তমানে যে পরিমাণ রিজার্ভ আছে তাতে ৫ থেকে সাড়ে ৫ মাসের আমদানির খরচ মেটানো সম্ভব। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত তিন মাসের আমদানি দায় মেটানোর রিজার্ভ না থাকলে সেক্ষেত্রে উদ্বেগ থেকে যায়। অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের এখনই উদ্বেগজন পর্যায়ে নেই। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে আইএমএফ এর ঋণ নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। আগামী মাসে আইএমএফ এর এক প্রতিনিধি দলের ঢাকা আসার পরিকল্পনা রয়েছে। সে সময় নতুন করে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে, আইএমএফ সারাবিশ্বে করোনার সংকট মোকাবিলায় ১৯০টি সদস্য দেশের জন্য ৬৫০ বিলিয়ন ডলার সমমানের এসডিআর (স্পেশাল ডÌইং রাইটস) ঘোষণা করে। যার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সরকার ওই সময় এসডিআর নেয়নি। কারণ সে সময় বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় ছিল।

আমদানির চাহিদা কম থাকায় এবং রেকর্ড রেমিট্যান্স আসায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের পরিমাণ ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর শুরু হয় নতুন সংকট। ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পায় জ্বালানি তেলের দাম। সারাবিশ্বে নিত্য পণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের আমদানি খরচও বাড়তে থাকে।

অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে আসছে। এর ফলে চাপ বেড়েছে রিজার্ভে।

এদিকে আগামী সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে ২ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে আসবে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থ মন্ত্রণালয় আইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রে জানা যায়। তবে ঋণের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটা নির্ভর করছে আইএমএফের দেওয়া শর্তের ওপর।

আগের বার যখন আইএমএফ ঋণের প্রস্তাব দিয়েছিল তখন সঙ্গে ৩৩টি শর্ত জুড়ে দিয়েছিল, যার সবগুলোর সঙ্গে সরকার সম্মত ছিল না। এজন্য ঋণ গ্রহণের বিষয়টি আর এগোয়নি। বরাবরই আইএমএফ বাজেট ভর্তুকি কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোসহ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার শর্ত থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গতকাল ডলারের দাম ৫০ পয়সা বেড়েছে। আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ২৮ জুন এক ডলারের জন্য ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা খরচ করতে হয়েছে গ্রাহকদের, যা দেশে ডলারের দামের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

সোমবার এই ডলারের দাম ছিল ৯২ টাকা ৯৫ পয়সা। একইভাবে ইউরোর দামও ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে, যা ছয় মাস আগেও ৯৭ থেকে ৯৮ টাকা ছিল। ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ছাড়িয়েছে ১১৪ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত এক মাসের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৫ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছরের ৩০ জুন প্রতি ডলারের জন্য ৮৪ টাকা খরচ করতে হয়েছে। এক মাস আগে ৩০ মে ব্যয় করতে হয়েছে ৮৯ টাকা।

আর ২৮ জুন এক ডলারের জন্য ব্যয় করতে হয়েছে ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা। এতে অবশ্য রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স প্রেরকরা লাভবান হচ্ছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারকরা।

এর ফলে বাড়ছে আমদানি ব্যয়। যার প্রভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যসহ আমদানি পণ্যের মূল্য, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। অস্বাভাবিক হারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গত মে মাসে ডলারের দাম বেড়ে খোলাবাজারে ১০২ টাকা অতিক্রম করে রেকর্ড গড়েছিল। সে সময় বেশ হৈচৈ পড়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার কমে আসে। বর্তমানে খোলাবাজারে ৯৯ টাকায় ডলার বেচাকেনা হচ্ছে। গতকালও খোলাবাজারে ৯৮ দশমিক ৫০ থেকে ৯৯ টাকায় লেনদেন হয়েছে প্রতি ডলার। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক মাস আগের তুলনায় বর্তমানে ডলারের বাজারে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়লে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি বাড়ালে বাজারে অস্থিরতা কমে আসবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হচ্ছে খোলাবাজার ও আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের মধ্যে তফাৎ কমানো। কিন্তু এ কাজ করা বেশ কঠিন বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে আমদানি ব্যয় বাড়তে শুরু করে। এতে ডলারের চাহিদা ও দাম বাড়তে শুরু করে। অন্যদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স কমতে থাকে। এরপর থেকে বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত আছে।

রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ এই সংকটে আরও ঘি ঢেলেছে। যার ফলে জ্বালানির মূল্য বেড়েছে দফায় দফায়। এর প্রভাবে ডলারের বাজারের অস্থিরতা এখনো বিরাজমান। তবে এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হলে সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

30 ভিউ

Posted ১:১১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com