শনিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

দেশে আয়কর পরিশোধ করেন না বড় অংশের ব্যক্তিশ্রেণীর নাগরিক

বৃহস্পতিবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৮
166 ভিউ
দেশে আয়কর পরিশোধ করেন না বড় অংশের ব্যক্তিশ্রেণীর নাগরিক

কক্সবাংলা ডটকম(৭ নভেম্বর) :: দেশে রিটার্নের মাধ্যমে আয়কর বাড়াতে কয়েক বছর ধরেই বড় পরিসরে মেলা আয়োজন করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পালিত হচ্ছে আয়কর সপ্তাহ, আয়কর দিবসের মতো কর্মসূচিও।

ই-টিআইএন দেয়া হচ্ছে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। দেয়া হচ্ছে ট্যাক্স আইডি কার্ডের মতো বিশেষ সম্মাননা।

মাসিক মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলেই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সব সরকারি চাকরিজীবীর রিটার্ন দাখিল। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের চাকরিজীবীদেরও বাধ্যতামূলকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হচ্ছে। তার পরও রিটার্ন থেকে আসছে আয়করের মাত্র ৭ শতাংশ। ৬৭ শতাংশই আসছে উৎস কর থেকে।

যদিও বিশ্বব্যাপী আয়করের বড় অংশই আসে রিটার্নের মাধ্যমে। বছর শেষে রিটার্ন জমা দেয়ার মাধ্যমে আয়কর পরিশোধ করে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। করযোগ্য নাগরিকদের কাছ থেকে আয়কর রিটার্নের মাধ্যমেই সম্পদের হিসাব ও কর আহরণ করা হয়।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের আয়করের পরিমাণ কম হওয়ায় করদাতা বাড়লেও এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ খুব একটা বাড়েনি। তাছাড়া বিভিন্ন উৎস আগেই কর দেয়া করদাতারা রিটার্ন দাখিলের সময় রেয়াত গ্রহণ করায় রিটার্নের ভিত্তিতে আয়কর আহরণ কমেছে। তবে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কমাতে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের কাছ থেকে রিটার্নের মাধ্যমে কর আহরণ আরো বাড়ানো প্রয়োজন।

এনবিআরের কর বিভাগের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশে কোম্পানির কাছ থেকে মাসিকভিত্তিতে রাজস্ব আহরণ করা হয় বলে বছর শেষে রিটার্ন দাখিল করলে আর রাজস্ব পাওয়া যায় না। ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতারা রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে কর দিলেও তাদের করের পরিমাণ খুবই কম। আবার অনেকেই রেয়াত নিয়ে থাকেন। ফলে রিটার্নের ভিত্তিতে আয়কর আহরণ কমেছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছর আয়কর থেকে এনবিআর রাজস্ব আহরণ করেছে ৬৫ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন খাতের উৎস থেকে কেটে নেয়া কর বাবদই এসেছে ৪৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা, মোট আয়করের যা ৬৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। করপোরেট করসহ অগ্রিম কর থেকে আরো ২০ শতাংশ আহরণ করায় ব্যক্তিশ্রেণীর কর রিটার্নের মাধ্যমে আয়কর আহরণ কমেছে।

গত এক বছরে প্রায় ৪ লাখ রিটার্ন বাড়লেও সর্বশেষ অর্থবছর রিটার্নের ভিত্তিতে রাজস্ব এসেছে মোট আয়করের মাত্র ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। যদিও আগের বছরও এ হার কিছুটা বেশি ছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছর রিটার্ন থেকে এসেছিল মোট আয়করের ৮ শতাংশ।

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের আয়ের উৎস থেকে কেটে নেয়া করকে উেস কর হিসেবে উল্লেখ করে এনবিআর। বর্তমানে ৫৬টি খাত থেকে উৎস আয়কর কেটে নেয় রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটি।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, ঠিকাদারের বিল, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকের আমানতের সুদ আয়, জমি কেনাবেচা, সংবাদপত্র, রেডিও-টিভিতে প্রচারিত বিজ্ঞাপন, পেশাগত কারিগরি সেবাদানকারী অথবা কারিগরি সহায়তা ফি, ক্যাটারিং সার্ভিস, ক্লিনিং সার্ভিস, কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি সার্ভিস, প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস, জনশক্তি রফতানি সেবা ও ক্রিয়েটিভ মিডিয়া সার্ভিস।

এছাড়া পাবলিক রিলেশন সার্ভিস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস, ট্রেনিং-ওয়ার্কশপ ফি, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কারিগরি সেবা প্রদানকারী বা সেবা সরবরাহকারী এজেন্টের ফি, ক্রেডিট রেটিং সেবা ফি, মোটর গ্যারেজ বা ওয়ার্কশপের ফি, বেসরকারি কনটেইনার পোর্ট বা ডকইয়ার্ড সেবার ফি এবং শিপিং এজেন্সি কমিশনের বিপরীতেও নির্ধারিত হারে উেস কর আদায় করে এনবিআর।

উৎস করের হিসাব ও বিনিয়োগ দেখিয়ে করযোগ্য নাগরিকদের বড় অংশই ঠিকমতো আয়কর পরিশোধ করেন না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

তিনি বলেন, এনবিআর বরাবরই ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ দিয়ে রাজস্ব আহরণ করে। ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতারা অধিকাংশ সময়ই আড়ালে থেকে যান। আয়কর আহরণে উেস কর সবচেয়ে সহজ খাত। উৎস করের হিসাব ও বিনিয়োগ দেখিয়ে পেশাজীবীদের একটি বড় অংশই ঠিকমতো রাজস্ব পরিশোধ করছেন না। করের পরিধি না বাড়িয়ে শুধু বড় করপোরেটদের কাছ থেকেই কর আদায়ের প্রবণতা দূর করতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের কাছ থেকে কর আহরণ বাড়াতে হবে।

যদিও গত বছর এনবিআরের মোট আয়করে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের অবদান কমেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নির্ধারিত সময়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতা কর পরিশোধ করেছেন। এ থেকে আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৪১২ কোটি টাকা, যা সর্বশেষ অর্থবছর আদায়কৃত মোট আয়করের মাত্র ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

অন্যদিকে উৎস কর, করপোরেট কর ও অগ্রিম আয়কর থেকেই আয়করের প্রায় ৯০ শতাংশ আদায় হয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছর উেস কর থেকে এসেছে ৪৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা।

বিভিন্ন কোম্পানির অগ্রিম আয়কর বাবদ এসেছে ১২ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা বা ১৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। উেস করের বাইরে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি থেকে ৯২৮ কোটি, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি থেকে ১ হাজার ২৮৩ কোটি, কোম্পানি ব্যতীত অন্যান্য খাত থেকে ১ হাজার ২৬৩ কোটি এবং বেতন থেকে এসেছে মাত্র ১২৫ কোটি টাকার আয়কর।

166 ভিউ

Posted ২:৩০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com