শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

নাগরিকত্ব আইন : অস্বস্তি কাটানোর জোরালো তৎপরতা ভারত ও বাংলাদেশের

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯
27 ভিউ
নাগরিকত্ব আইন : অস্বস্তি কাটানোর জোরালো তৎপরতা ভারত ও বাংলাদেশের

কক্সবাংলা ডটকম(২৪ ডিসেম্বর) :: ভারতের নতুন নাগরিকত্ব আইনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য দুদেশের তরফ থেকেই জোরালো তৎপরতা চলছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আমলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা খুবই সুরক্ষিত রয়েছে বলে বিশ্বাস ভারতের। গত কয়েকদিনে দিল্লির তরফ থেকে বার বার সেই বার্তা ঢাকার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আইনটি বাংলাদেশ থেকে নতুন করে ভারতে প্রবেশ করা কোনও শরণার্থীর জন্য প্রযোজ্য হবে না বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আইন শুধু পুরনো শরণার্থীদের জন্য যারা কমপক্ষে পাঁচবছর আগে এসেছেন। এরই এক পর্যায়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইনকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই বাংলাদেশ মনে করেন।

এর আগে, দুদেশের মধ্যে অস্বস্তির সূত্রপাত শুরু হয় ৯ ডিসেম্বর, যখন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। পরবর্তী প্রায় দুসপ্তাহে ভারত ও বাংলাদেশের নেতা-মন্ত্রী-কর্মকর্তাদের বক্তব্য ভালো করে খেয়াল করলেই আসলে বোঝা যায়, এই আইনটিকে ঘিরে দুদেশের কূটনীতি কীভাবে বাঁক নিয়েছে।

৯ ডিসেম্বর লোকসভায় বিলটি পেশ করার সময় অমিত শাহ বলেন, ‘একাত্তরের পরও বাংলাদেশে যে নরসংহার থামেনি, এবং এখনও সে দেশের হিন্দু-বৌদ্ধরা নির্যাতিত হচ্ছেন, সেটা এই বিল আনার অন্যতম প্রধান কারণ।’

ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে বাংলাদেশ মোটেই ভালভাবে নেয়নি। সেদিন রাতেই একটি বিদেশি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানান, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর কোনও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে না।

এরপর ভারতও উপলব্ধি করেছে যে, পার্লামেন্টে অমিত শাহর বক্তব্য বাংলাদেশকে কোনও ইতিবাচক বার্তা দেয়নি। আর এরপরই শুরু হয়ে যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নেতৃত্বে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল এক্সারসাইজ’।

১১ ডিসেম্বর রাতেই পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিলটি নিয়ে বিতর্কের সময় অমিত শাহ বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের যে ফিরিস্তি পেশ করেন, তার সবই ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলের। বিশেষ করে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার ঠিক পরপরই হিন্দুদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটে, তার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

এরপর সেদিনই ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন মন্তব্য করেন- এই আইন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ছবিকে সমুন্নত করবে না বলেই তার বিশ্বাস।

১২ ডিসেম্বর রাতে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পরদিন বিকালেই এক রাষ্ট্রীয় সফরে দিল্লিতে পা রাখার কথা ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে সেই সফর তিনি বাতিল করেন। প্রকাশ্যে অন্য যুক্তি দেখানো হলেও সফর বাতিলের আসল কারণ যে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে অস্বস্তি তা বুঝতে কারোরই অসুবিধা হয়নি।

এদিকে সেদিন বিকালেই দিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার তার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘুরা যে সুরক্ষিত তা আমরা জানি। বরং আমি বলব শেখ হাসিনা সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বার্থে অনেক দৃঢ় পদক্ষেপ (সলিড স্টেপ) নিয়েছেন। আমাদের সরকার সে দেশে যেসব ধর্মীয় নির্যাতনের কথা বলছে, সেগুলো সবই সামরিক সরকার বা বিগত (বিএনপি) সরকারের আমলের।’

এরপর ১৩ ডিসেম্বর ভারতের মেঘালয় রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে সেথানে থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই ভারত সফরও বাতিল হয়ে যায়। বোঝা যায়, অস্বস্তি তখনও পুরোমাত্রাতেই আছে।

এর পরই (১৪ থেকে ১৬ ডিসেম্বর) ভারতের পক্ষ থেকে শুরু হয় ‘ভুল বোঝাবুঝি’ দূর করার লক্ষ্যে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা। শেখ হাসিনার আমলে হিন্দুদের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যে কখনোই ভারতের উদ্দেশ্য নয়, বরং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বহু পদক্ষেপকে ভারত যে স্বীকৃতি দেয়, সেটাই নানা মহল থেকে ঢাকাকে বোঝানোর চেষ্টা শুরু হয়।

এমন কী, বিজয় দিবসে ও তার আগে-পরে নানা অনুষ্ঠান ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করেও ভারতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকরা এটাই বারবার বলতে থাকেন যে- এখনও বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত ভারত একথা কখনোই বিশ্বাস করে না। উল্টোদিকে, বাংলাদেশও ভারতকে জানায়, এই আইনের ফলে বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং তাদের ওপর দেশ ছাড়ার জন্য চাপ বাড়তে পারে এটাও ভারতের খেয়াল রাখা উচিত।

বরফ গলার পালা শুরু এর পরেই। ২০ ডিসেম্বর আবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালকে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করিয়ে সরকার ঘোষণা করায়, ‘বাংলাদেশ থেকে নতুন করে আসা কোনও শরণার্থীর জন্য এই আইন প্রযোজ্য হবে না।’ ইঙ্গিতটা ছিল খুবই পরিষ্কার, ভারতের নাগরিকত্ব আইন শুধু পুরনো শরণার্থীদের জন্য, যারা কম করে হলেও পাঁচ বছর আগে ভারতে চলে এসেছেন।

২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন জানান, এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইনকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই তারা মনে করেন। এতে বোঝা যায়, ঢাকা তাদের কড়া সমালোচনার সুর অনেকটা নরম করে আনছে।
এরই মধ্যে দিল্লির রামলীলা ময়দানের সমাবেশ থেকে ২২ ডিসেম্বর স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত ঘোষণা করেন, ‘নাগরিকত্ব আইনের সুবিধা নতুন শরণার্থীরা পাবেন না। (প্রকারান্তরে যার অর্থ দাঁড়ায়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হিন্দুরা ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে ভারত মনে করে না)। এমন কী, মোদি এমনও ইঙ্গিত দেন যে, তার সরকারের এনআরসি করার কোনও পরিকল্পনাও নেই। এই দুটো বক্তব্যই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক।

প্রাথমিক ‘ভুল বোঝাবুঝি’ কাটিয়ে ভারতের নাগরিকত্ব আইনকে যে বাংলাদেশ কিছুটা অন্য চোখে দেখতে শুরু করেছে তার প্রমাণ মেলে ২৩ ডিসেম্বর। এদিন বাংলাদেশের সেতুমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, বিএনপি-জামায়াত আমলে যে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে এবং তারা অনেকে প্রাণভয়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন তা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই।

ইতোমধ্যেই দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক যে আবার স্বাভাবিক বন্ধুত্বের রাস্তায় ফিরে এসেছে, তার ইঙ্গিত দিয়ে ২৪ ডিসেম্বর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ঘোষণা করে, পরদিন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিএসএফ-বিজিবি মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক যথারীতি শুরু হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিজিবি প্রধান তার ভারত সফর বাতিল করেননি।

27 ভিউ

Posted ১২:২৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com