কক্সবাংলা ডটকম :: নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির সিনেমা স্টুডিও এবং এইচবিও স্ট্রিমিং নেটওয়ার্কগুলো কিনে নেয়ার সম্ভাব্য চুক্তির খবর হলিউডে বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি করেছে।
এই বিশাল অধিগ্রহণ কেবল একটি ব্যবসায়িক চুক্তি নয়, এটি বিনোদন শিল্পের ভবিষ্যতকে পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। বিবিসি অবলম্বনে এ চুক্তির ৫টি মূল বিষয়ে সংক্ষেপে দৃষ্টিপাত করা যাক।
১. নেটফ্লিক্স আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে
চুক্তিটি নেটফ্লিক্সকে স্ট্রিমিং বাজারে ‘এক প্রকার অস্পর্শনীয়’ অবস্থানে নিয়ে যাবে। প্রায় এক শতাব্দীর পুরোনো ক্যাটালগ (যেমন হ্যারি পটার, ফ্রেন্ডস, সাকসেশন, গেম অব থ্রোনস) এবং শক্তিশালী প্রযোজনা ক্ষমতা পাবে নেটফ্লিক্স।
এইচবিওর প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহককে নিজেদের ৩০ কোটির বেশি গ্রাহক বেইসের সঙ্গে যুক্ত করে নেটফ্লিক্স তার গ্রাহক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে নেবে। এই অধিগ্রহণের মধ্যে বিদেশে টিএনটি স্পোর্টসও যুক্ত হবে।
২. টিকিটের দাম বাড়তে বা কমতে পারে
আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এইচবিও ব্র্যান্ডটিকে নেটফ্লিক্স কীভাবে ব্যবহার করবে, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ নীরব। এই একচেটিয়া আধিপত্যের ফলে নেটফ্লিক্স গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি দাম নিতে পারে। তবে, গ্রাহকরা যদি দুটি পরিষেবার পরিবর্তে একটির জন্য অর্থ প্রদান করেন, তবে তাদের কম খরচও হতে পারে। এইচবিও ব্র্যান্ডটি টিকে থাকবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গেম অব থ্রোন্সসহ এইচবিওর স্ট্রিমিং পরিষেবা অধিগ্রহণ করছে নেটফ্লিক্স। ছবি: ওয়ার্নার ব্রাদার্স
৩. স্ট্রিমিংই ভবিষ্যৎ, হলিউড কোণঠাসা
ওয়ার্নার ব্রাদার্স হলো সেই ঐতিহ্যবাহী স্টুডিওগুলির মধ্যে অন্যতম যা হলিউডকে সংজ্ঞায়িত করেছে। কিন্তু এ অধিগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সিনেমার সোনালী যুগ ম্লান হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ পুরোপুরি স্ট্রিমিংনির্ভর। নেটফ্লিক্স সিনেমা হলে মুক্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি রাখলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, থিয়েটার হয়তো অগ্রাধিকার হারাবে। পরিচালক জেমস ক্যামেরন এই চুক্তিকে শিল্পের জন্য ‘বিপর্যয়’ বলেছেন।
৪. চুক্তি সম্পন্ন হওয়া অনিশ্চিত
এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া এখনও নিশ্চিত নয়। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারিকে প্রথমে সিএনএন, ডিসকভারি এবং ইউরোস্পোর্টের মতো অব্যবহৃত অংশগুলো আলাদা করতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী বিডার প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স শেয়ারহোল্ডারদের কাছে আরও ভালো বিকল্পের প্রস্তাব দিতে পারে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই চুক্তি ইউএস এবং ইউরোপের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন পাবে কি না। নিয়ন্ত্রকরা ভিডিও স্ট্রিমিংকে একমাত্র বাজার হিসাবে দেখলে বড় বাধা আসতে পারে। চুক্তি ভেস্তে গেলে নেটফ্লিক্সকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে।
৫. ট্রাম্প-ঘটিত অনিশ্চয়তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিতর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেন। তার প্রশাসন যদিও নীতিগতভাবে অধিগ্রহণে লঘু নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বিডার প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স-এর মালিকদের (ল্যারি এলিসন ও তার ছেলে) প্রশংসা করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা এরইমধ্যে নেটফ্লিক্সের এ প্রস্তাবকে নিয়ে ‘গভীর সন্দেহ’ প্রকাশ করেছেন।













