রবিবার ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

নোবেল শান্তি পুরস্কার শেখ হাসিনা-মেরকেলকে যৌথভাবে দেওয়ার প্রস্তাব

বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭
1682 ভিউ
নোবেল শান্তি পুরস্কার শেখ হাসিনা-মেরকেলকে যৌথভাবে দেওয়ার প্রস্তাব

কক্সবাংলা ডটকম(২৬ সেপ্টেম্বর) :: নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০১৭, শেখ হাসিনা এবং অ্যাঙ্গেলা মেরকেলকে যৌথভাবে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন একাধিক শিক্ষাবিদ এবং নোবেল জয়ী। এরা সবাই বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য। আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতামত চেয়েছে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য গঠিত কমিটি। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চারজন শেখ হাসিনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনজন এই পুরস্কার যৌথভাবে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

ইউরোপীয় পিস অ্যান্ড রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের (EUPRA) দ্যানিয়েলা ইরিরা নোবেল কমিটিকে দেওয়া চিঠিতে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে শরণার্থী সমস্যা বিশ্বশান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। জার্মান চ্যান্সেলর নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ঝুঁকি নিয়ে জার্মানির দরজা উন্মুক্ত করেছেন। দেশে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই শরণার্থী প্রশ্নে তিনি মানবতাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দারিদ্র থেকে উঠে আসার সংগ্রামরত একটি দেশ।

নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রমাণ করেছেন, ‘মানবতা’র শক্তি কত বড়। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন মানবিক হবার পূর্বশর্ত ধনী হওয়া নয়। শেখ হাসিনা সীমানা সীল করতে পারত যেমনটি ভারত করেছে। এটা তাই শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত। তিনি বাধ্য হয়ে এটা করেননি।

জার্মানি এবং বাংলাদেশের মেলবন্ধন ঘটেছে শরণার্থী ইস্যুতে। তাই আমি দুজনকেই বিশ্বশান্তির দূত মনে করি। দুজনই এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য। এটা প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্যের এক যুগলবন্দী হবে, যা বিশ্বশান্তিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।’

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর নন ভায়োলেন্ট কনফ্লিক্ট (ICNCC) এর মেরি এলিজাবেথ কিং লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে বিশ্বে দুজন বিশ্বমাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। দুজনই শান্তির জন্য অসম্ভব ঝুঁকি নিয়েছেন। দুজনই যুদ্ধের বিরুদ্ধ্বে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। এখানে একজনকে বাদ দিয়ে আরেকজনকে পুরস্কার দেওয়ার মানে হলো, একজনের কৃতিত্বকে ছোট করা। এখানে বড় কৃতিত্ব আর ছোট কৃতিত্ব বলে কথা নেই।

দুজনেরই লক্ষ্য শান্তিময় এক বিশ্ব গড়ে তোলা। দুজনকে একসঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিলে যে বার্তাটি জোর দেওয়া যাবে তা হলো শান্তির কোনো জাতিধর্ম নেই, শান্তির কোনো ধনী-গরীব নেই, শান্তির কোনো দেশ নেই। দুই নেতাকে দিয়ে বিশ্বকে এক সুতোয় গাঁথার ছবিটি কেন আমরা নষ্ট করব।’

ইউনিভার্সিটি অব অসলোর রেক্টর সেভিন স্টোলেন তাঁর মতামত পত্রে বলেছেন, ‘নোবেলের উইলের সঙ্গে সামাঞ্জস্যপূর্ণ প্রার্থী পাওয়া গেল অনেক বছর পর। অ্যাঙ্গেলা মেরকেল যদি সিরিয়ার শরণার্থীদের না নিতেন তাহলে কি হত, তারা যুদ্ধ করতো। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হত তত বাড়তো মানুষের লাশ। একই ভাবে শেখ হাসিনা যদি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের না নিতেন তাহলেও যুদ্ধ হত। এই যুদ্ধে শুধু আমাদের মানবিক বির্পযয় দেখতে হত।

তাই, আমি কোনো অবদানকেই খাটো করতে চাই না। তাঁদের অন্য বিষয় গুলো খতিয়ে দেখতে চাই। শান্তির জন্য এরা যেটা করেছে, সেটাই বিশ্বের সবার করা উচিত। বহুবার নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয়, সারা বিশ্বই খুশি হবে, দুজন সত্যিকারের মানবতাবাদী মানুষের হাতে এই পুরস্কার তুলে দিলে। তিনজন এখনো তাঁদের মতামত জানাননি।

১০ কারণে নোবেল পেতে পারেন শেখ হাসিনা

১০ কারণে নোবেল পেতে পারেন শেখ হাসিনা

আগামী ৬ অক্টোবর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ঘোষিত হবে নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০১৭। নানা বিতর্ক এবং রাজনীতিকরণের পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার এখনো বিশ্বে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। সারা বিশ্ব তাকিয়ে থাকে, কে এই পুরস্কার পাচ্ছেন তা দেখবার জন্য। এ বছর নানা কারণেই নোবেল শান্তি পুরস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী বিদায়ী বছরে যিনি সামরিক শক্তি অবলুপ্ত করার ক্ষেত্রে সম্প্রদায় এবং জাতিসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালো কাজ করেছেন এবং যিনি শান্তির সম্মিলনের উদ্যোক্তা এবং বিকাশ করার জন্য অবদান রেখেছেন। যদিও আশির দশক থেকেই বিশ্ব শান্তির নানামাতৃক বিচার বিবেচনা সামনে এসেছে। এ কারণে ক্ষুদ্র ঋণ থেকে শুরু করে শিশু অধিকারের জন্য কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবেও নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম বিশ্ব গণমাধ্যমে এসেছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বিশ্ব বিবেকের কণ্ঠস্বর হিসেবে এসেছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে নোবেলজয়ী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ,গবেষক ও শান্তিকামী বিশ্ব ব্যাক্তিত্বরা মনে করছেন ১০ টি  কারণে শেখ হাসিনার এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত। তাদের মতামতগুলোকে একত্রিত করে, ১০ টি কারণ এখানে উল্লেখ করা হলো:

১. রোহিঙ্গা ইস্যু: নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ হয়েও বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। মিয়ানমার সরকারের সামরিক উসকানির বিপরীতে তিনি শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক পথ গ্রহণ করেছেন। এটা আলফ্রেড নোবেলের উইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২. ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’: শেখ হাসিনার বিশ্বশান্তির দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’। এই বিশ্বশান্তির দর্শন ২০১২ সালে জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। এই দর্শনে বৈষম্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথনকশা দেওয়া হয়েছে।

৩. সেনাবাহিনীকে রাজনীতি মুক্তকরণ: শেখ হাসিনা সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে অবৈধ পন্থায় সেনা ক্ষমতা দখলের পথ চিরতরে বন্ধ করেছেন। যে দেশটির দুজন রাষ্ট্রপ্রধান অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে নিহত হয়েছে, যে দেশে অন্তত ৫ বার সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, সেই দেশে ক্যুদেতাকে রাষ্ট্রদ্রোহীতা হিসেবে চিহ্নিতকরণ এবং সাংবিধানিক বিধান এক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিজয়।

৪. জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন: বর্তমান বিশ্বের শান্তির অন্যতম প্রধান শত্রু হলো জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ। জঙ্গি দমনে সারা বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে আর্বিভূত হয়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ হোলি আর্টিজানে নারকীয় সন্ত্রাসী হামলার পর জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে শান্তিপূর্ণ পন্থায় জঙ্গিবাদ মোকাবেলা, সারা বিশ্বের জন্য অনুকরণীয়।

৫. বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স: ভারতের বিচ্ছিন্নবাদীদের জন্য বাংলাদেশ ছিল অভয়ারণ্য। এখানে তারা সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দিতো। শেখ হাসিনা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন। শান্তি বিকাশে এটি একটি অন্যন্য অর্জন।

৬. রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ বন্ধ: বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও সহিংসতা ছিল একটি প্রধান সমস্যা। প্রতিবছর এই ধরনের সহিংসতায় অন্তত দুই হাজার মানুষ প্রাণ হারাতো বলে অ্যমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মনে করে। ২০১৫ সাল থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ রাজনৈতিক সন্ত্রাস মুক্ত হয়েছে। হরতাল, জ্বালাও পোড়াও এর মত সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রায় বন্ধ হয়েছে।

৭. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার: একাত্তরে বাংলাদেশের  মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা গণহত্যা, নারী নিপীড়ন, লুটপাট  এবং অগ্নি সংযোগের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিচার  শেখ হাসিনার শান্তি মিশনের একটি  বড় অর্জন। মানবতার বিরুদ্ধে  অপরাধে  জড়িতদের  প্রচলিত আইনের আওতায় এনে ন্যয় বিচার নিশ্চিত করা- শান্তির পক্ষেই এক পদযাত্রা। এটা সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস।

৮. শান্তিপূর্ণ পন্থায় সমুদ্র সীমা নির্ধারণ : সমুদ্র সীমা নিয়ে দেশে দেশে যুদ্ধ নতুন নয়। বিশ্বশান্তির জন্য এটি একটি চিরস্থায়ী হুমকি। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত এবং মিয়ানমারের সমুদ্র সীমা বিরোধ ছিল দীর্ঘদিনের। শেখ হাসিনা  সামরিক পন্থায় না গিয়ে আন্তজার্তিক আদালতের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই বিরোধ নিস্পত্তি করেন। সারা বিশ্বের জন্য এটি একটি ভালো দৃষ্টান্ত।

৯. ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন: ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা স্বাধীনতার পর থেকে। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দিরা গান্ধী ছিটমহল চুক্তি করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। শেখ হাসিনা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়ন করেন এটিও বিশ্বশান্তির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

১০.শান্তির সৈনিক সেনাবাহিনী: সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ দেশ রক্ষা করা – এটাই বিশ্বে প্রচলিত রীতি। কিন্তু বাংলাদেশের  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার সেবা, দূর্গতদের সহায়তার কাজে ব্যবহার করা শুরু করেছেন। বন্যায়, দুর্যোগে, এমনকি  রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ত্রাণ বিতরনেও কাজে লাগানো হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। যুদ্ধ নয় শান্তির শ্বেত পতাকা বাহক হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নতুন পরিচয় দিয়েছেন।

1682 ভিউ

Posted ১:০৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com